মিজান লিটন
হাজীগঞ্জের টোরাগড় এলাকায় পুলিশ ও অবরোধকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশি অভিযানে ১০জন আটক হয়েছে। অভিযান চলাকালে ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে গতকাল বুধবার ভোর পর্যন্ত টোরাগড় এলাকায় নির্বিচারে গাড়ি ভাংচুর ও গাড়িতে আগুন দিয়েছে অবরোধকারীরা। আটককৃত ৬জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া রাতের ঘটনায় ৫জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে। অভিযানে পুলিশের ব্যাপক রসদ সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হয়েছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আটককৃতরা হলেন : সেন্দ্রা এলাকার এরশাদ উল্লার ছেলে কাউসার হোসেন (২৭), টোরাগড় এলাকার মৃত আমিন মিয়ার ছেলে মাহমুদ আলম (৩২), একই এলাকার হারুনুর রশিদের ছেলে জসিম উদ্দিস (৩৫), আনু মিয়ার ছেলে শাহাদাত (৪০), হাফেজ সিদ্দিকুরের ছেলে মান্নান (৩৮) ও আলী আকবরের ছেলে শহিদ (২৯)। আটককৃতদের গতকাল দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে আদালত সকলকে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এছাড়া গতকাল দুপুরে টোরাগড় এলাকায় আরেক অভিযানে আরো ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সংবাদ লিখা পর্যন্ত এরা ঘটনার সাথে জড়িত কিনা যাচাই-বাছাই চলছে বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অবরোধের প্রথম দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার টোরাগড় মনির পেট্রোল পাম্প থেকে শুরু করে দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর চলাচলকারী যানবাহনে ব্যাপক ভাংচুর চালায় অবরোধকারীরা। এ ঘটনায় রাতে পুলিশ উক্তস্থানে পৌঁছলে পুলিশের উপর ইট-পাটকেল ছুঁড়লে পুলিশ অভিযান শুরু করে। পুলিশের অভিযানে অবরোধকারীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের উপর ব্যাপক আক্রমণ চালায়। এরপরেই রাত ১০টার দিকে পুলিশ ব্যাপক অভিযানে নামে টোরাগড় এলাকায়। এ সময় পুলিশ অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারসেল, রাবার বুলেট, সিসা বুলেট ও শর্টগানের গুলি ব্যবহার করে। এ সময় দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ থেকে মাইকে অবরোধকারীরা ঘোষণা দেয় ঐ এলাকার ৫ জনকে পুলিশ গুলি করে মেরে ফেলেছে। এলাকাবাসীকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে অনুরোধ জানানো হয়। এতে রাতেই ঐ এলাকার পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এ সময় পুলিশ ১ অবরোধকারীকে আটক করে। পুরো অভিযান চলাকালে উক্ত অংশের প্রায় ২০টি বিভিন্ন ধরনের দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উক্ত এলাকা পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। রাত ১২ টার পর টোরাগড় এলাকায় পুলিশের টহল কিছুটা শিথিল হয়ে আসলে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেয় অবরোধকারীরা।
এদিনের অভিযানে টোরাগড় এলাকায় পুলিশের গুলিতে ৫জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও সুমন, আল-আমিন ও সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়ে পালিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে এলাকাবাসী চাঁদপুর নিউজকে জানিয়েছে।
