প্রতিনিধি
চাঁদপুরবাসীর সুপরিচিত মুখ, বাগাদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, চাঁদপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব হারুনুর রশিদ চৌধুরীর আজ ৩১ আগস্ট তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।
২০১১ সালের এই দিনে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিবাগত রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে চাঁদপুর শহরের হাজী মহসিন রোডস্থ প্রিমিয়ার হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। সে সময় তাঁর বয়স হয়েছিলো ৬৩ বছর। মৃত্যুকালে মরহুম হারুন চৌধুরী স্ত্রী, ২ ছেলে, ১ মেয়েসহ বহু আত্মীয়-স্বজন এবং সহযোদ্ধা রেখে যান। তার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিম সকদী ডিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে মিলাদ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত সভায় সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হান্নানুর রহমান ও মামুনুর রশিদ অনুরোধ জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, চাঁদপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হারুনুর রশিদ চৌধুরী তার জীবনের সকল অর্থই ব্যয় করে গেছেন পশ্চিম সকদী এলাকার মানুষের কল্যাণে। এমনকি তার পারিবারিকভাবে পাওয়া এবং নিজের অর্থে ক্রয়কৃত জায়গা-জমি কল্যাণকর কাজের জন্যে দান করে গেছেন। নিজে উদ্যোগী হয়ে তার গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তার দানকৃত ভূমিতে কলেজ প্রতিষ্ঠা এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি সাহেববাজার পোস্ট অফিস প্রতিষ্ঠার জমি দাতা এবং অন্যতম উদ্যোক্তা, কমিউনিটি ক্লিনিক হাসপাতালের জমিদাতা ও সভাপতি, আম্বিয়া রশিদিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, পশ্চিম সকদী ডি বি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এছাড়াও স্থানীয় বেশ কিছু শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন আন্তর্জাতিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের অন্যতম সদস্য, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি চাঁদপুর জেলা শাখার সদস্য, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, কমিউনিটি পুলিশ চাঁদপুরের উপদেষ্টা, চাঁদপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির সভাপতি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট চাঁদপুর-এর আজীবন সদস্য, পশ্চিম সকদী রহমানিয়া জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক, চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা উপ-কমিটির সদস্য, ৭২ নং পশ্চিম সকদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সমাজসেবা বিভাগের রোগী কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মুক্তিযোদ্ধা হারুন চৌধুরী পেয়েছেন বহু সম্মাননা পদক। ১৯৯৬ সালের ২২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে পদক ও সনদপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের ১৩ নভেম্বর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের লোকসভায় হারুন চৌধুরীকে সংবর্ধনা প্রদান করেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক তাকে সংবর্ধিত করা হয়। স্থানীয়ভাবে অনন্যা নাট্যগোষ্ঠী, চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং দৈনিক চাঁদপুর জমিনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তিনি ১৯৯২ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত জড়িত ছিলেন।
এ উপলক্ষে আজ রোববার পশ্চিম সকদী ডিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে ও চাঁদপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবুল কালাম শামছুল আলশ চিশতীর উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

