শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের সাপদী গ্রামে কলেজ ছাত্রী গৃহবধু রহিমা আক্তার (১৯) কে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে রাতের আধাঁরে গভীর জঙ্গলে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেছে। হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে কলেজ ছাত্রী গৃহবধু রহিমা আক্তারের সহপাটিরা ছাত্র ছাত্রীরা ফরকাবাদ কলেজের সামনে মানববন্ধন করেছে। শনিবার সকাল ১০ টায় শত শত এলাকাবাসী চাঁদপুর-রায়পুর মহাসড়ক থেকে মিছিলটি নিয়ে ফরকাবাদ কলেজের সামনে গিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের সাথে মানববন্ধনে অংশগ্রহন করে।
এই হত্যার অভিযোগে নিহত রহিমার বাবা আঃ হাই শেখ বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় গৃহবধুর স্বামী আনোয়ার পাটওয়ারীকে প্রধান আসামী সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা ও মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীরা হত্যাকারি আনোয়ারের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা বলেন, হত্যাকারি আনোয়ারসহ মামলা আসামি সকলকে অভিলম্ভে গ্রেফতার করে তাদের ফাঁসির দাবি করেন এবং হত্যা যেন দলীয় প্রভাবে অন্যখাতে প্রবাহিত না হয় তার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান। ্একটি কুচক্রি মহল আসামিদের পক্ষ নিয়ে অথের বিনিময়ে মামলাটি হত্যার বদলে আতœহত্যা বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে ও কলেজ ছাত্রী গৃহবধু রহিমাকে বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হত্যার ঘটনাকে অন্য দিকে প্রবাহিত করছে। এসব কুচক্রি মহল কোন প্রকার চক্রান্ত না করার জন্য এলাকাবাসি তাদেরকে হুশিয়ার করে দেন। মানববন্ধন শেষে ফরাক্কাবাদ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ্য ড. মোঃ হাসান খাঁন জানায়, কলেজ ছাত্রী রহিমা ভালো ছাত্রী ছিলোতাকে যারা হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। যাতে করে আর কোন ছাত্রীর এমন পরিনতি না ঘটে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ওই গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ীর পাশের একটি বাগানের ছোট গাছ থেকে কলেজ ছাত্রী গৃহবধু রহিমা আক্তারের মৃতদেহ উদ্ধার করে। রহিমা আক্তার পাশ্ববর্তী বাগাদী ইউনিয়নের বড় শেখ বাড়ির আঃ হাই শেখের মেয়ে। সে ফরাক্কাবাদ ডিগ্রী কলেজের এইছ এস সি ২য় বর্ষের ছাত্রী। দেড় বছর আগে বালিয়া সাপদী গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ীর জলিল পাটওয়ারীর ছেলে আনোয়ার হোসেন পাটওয়ারীর সাথে তার বোনের বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে স্বামী আনোয়ারের পরকিয়া সম্পর্কে কথা জানতে পারলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এছাড়া স্বামীর চাহিদামত যৌতক না দেওয়ায় দুটি ঘটনা নিয়ে রহিমা আক্তারকে শ্বাষরুদ্ধ করে হত্যা করে গছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে।
শ্বশুর বাড়ি থেকে ৫শ’ গজ দূরে মোজাম্মেল হোসেন পাটওয়ারী বাড়ীর পাশে একটি গাছে ঝুলিন্ত অবস্থায় এলাকাবাসি দেখতে পায়। ঘটনার পর থেকে ওই বাড়ীর লোকজন পলাতক রয়েছে।

