চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায় এলাকার গ্রাম্য ভুয়া চিকিৎসক লিটন সরকার গ্রেফতার হওয়ার সংবাদ চাঁদপুর নিউজসহ অন্যান্য পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে এই প্রতারক চিকিৎসকের হাতে অপচিকিৎসায় ভুক্তভোগী মহল ও এলাকাবাসী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর লিটন সরকার বাগাদী ইউনিয়নের সেলিম মাল ওরফে দুদুর ছেলে মাসুদ মাল (৩২) কে ভুল চিকিৎসা করার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তার
বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং আদালতে প্রেরণ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বর্তমানে সে কারাগারে রয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাশেদুল ইসলাম জানান, তার এই ভুয়া চিকিৎসার রহস্য জানতে আদালতে ৫দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি হবে। পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, লিটন সরকার আটকের পর অনেকেই তাকে ছাড়িয়ে নিতে বহু তদবির ও ছুটাছুটি করে। কিন্তু সে অভিযুক্ত হওয়ার কারণে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। আদালত বিচার কার্য চলছে। স্বাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে তার বিচার হবে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, শহরের ঘোষ পাড়ার ভাড়াটিয়া হারাধন সরকারের ছেলে ভুয়া চিকিৎসক লিটন সরকার চাদসী ক্ষত চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড সাটিয়ে হাজীগঞ্জ ও মহামায়া দুটি ফার্মেসী দিয়ে সেখানে সে দীর্ঘ ১৮ বছর টিউমার, পাইলস, পিষ্টলা, অর্শ্ব, গেজ রোগের চিকিৎসা করে যাচ্ছিল। তার অপচিকিৎসায় শতাধিক লোক মারাগেছেন এবং সহ¯্রাধিক লোক অসুস্থ্য হয়ে ভুগছেন। এছাড়া তার বাসায় দালালের মাধ্যমে রোগীদের এনে এ অপচিকিৎসা করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও বহু অভিযোগ রয়েছে। তার এ অপচিকিৎসায় অনেক লোক পায়ু পথে ক্ষত হয়ে দীর্ঘদিন কষ্ট ভোগ করার পর মৃত্যু বরণ করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সদর উপজেলার ৮নং বাগাদী ইউনিয়নের সেলিম মাল ওরফে দুদুর ছেলে মাসুদ মাল সর্বশেষ তার অপচিকিৎসা ও প্রতারণার শিকার হয়। বর্তমানে তার অবস্থা খুবই গুরুতর। ঢাকায় একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা চলছে। মাসুদ মালের পায়ু পথ ও অন্ডকোষের ক্ষতের চিত্র দেখলে যে কোন মানুষ চমকে উঠবে। এই ভাবে অনেক মানুষের চিকিৎসা করে লিটন সরকার জীবন নষ্ট করার অভিযোগও রয়েছে। অনেকেই লোক লজ্জায় মুখ খুলেনি। তবে লিটন আটক হওয়ার পর অভিযোগ উঠতে শুরু করে।
শিরোনাম:
বুধবার , ২৪ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

