
শওকত আলী ঃ
চাঁদপুরের হরিজন দলিতরা তাদের সন্তানের বিবাহের ক্ষেত্রে কঠোর ভূমিকা রয়েছে। তারা বাল্য বিবাহের প্রথা মেনে নিতে একেবারেই ভিন্ন মতে থাকছে। কোন ভাবেই তাদের সমাজ প্রধানরা বাল্য বিবাহে একমত হতে পারছেনা। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে তাদের কঠোর প্রদক্ষেপ রয়েছে বলে তাদের পঞ্চায়েতের মাধ্যমে জানা যায়। এ দেশে মুসলিম বিবাহ, নিকাহ ও রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে হলেও দলিত ও সংখ্যালুঘুরা সে নিয়ম মানছেনা। তারা এখনও আধিকালের সমাজ প্রধান, পঞ্চায়েতের মাধ্যমে পুরহিতদের ডেকে তাদের উপস্থিতি বিবাহের দিন লঘœ ঠিক করে বরের অভিভাবকের স্বাক্ষর রেখে সঠিক সময়ে নিজেদের বিবাহ বন্ধনের কাজ করে থাকেন বলে দলিতরা জানান।
তারা বাল্য বিবাহ যাতে না হতে পারে সে বিষয়ে সঠিক গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করলেও রেজিষ্ট্রেশনের ব্যাপারে উদাসিন। তারা রাষ্ট্রিয় নিয়মনীতি মানছেনা। সরকার গৃহিত পদক্ষেপ সম্পর্কে তারা জানলেও আজ পর্যন্ত সে পদক্ষেপে নিজেদের আওতাভূক্ত করতে পারছেনা। দলিত হরিজন ও সংখ্যালঘুরা এদেশের সরকার পরিচালিত প্রশাসনিক নিয়ম কানুন সম্পর্কে বহু পূর্ব থেকেই জানে। কিন্তু তারা স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও সে নিয়মে পরিচালিত হতে পারছেনা। নিজেদের আধিপথার মধ্যে এখনো ডুবে আছে। তাদের ধারণা রেজিষ্ট্রেশন প্রথায় বিবাহ হলে তা সঠিক হবে না। তাই তারা প্রশাসনিক নিয়মকানুন জানলেও পুরহিতের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে। এ প্রথা মতো বিবাহ হলে তাদের ভাষায় সঠিক বিবাহ। আর এর বাহিরে গেলেই তা বিধিমতো হচ্ছে না বলে তাদের ধারণা। দলিত হরিজন ও সংখ্যালঘুদেরকে এ কঠোর মনবল থেকে বের হয়ে আসতে হবে বলে তাদের অনেকেরই মতামত।
চাঁদপুর শহরের হরিজন দলিত সম্প্রদায়ের তিনটি কলোনী রয়েছে। সে কলোনীতে হাজার হাজার হরিজনের বসবাস রয়েছে। তাদের কলোনী ছাড়া শহরের নতুন বাজার এলাকায় মুচি বাড়িতে বসবাস করে থাকে রবিদাস ও ঋষি সম্প্রদায়ের লোকজন। এছাড়া শহরের কাঁচ্চা কলোনী, গ্যাং কোয়াটার এলাকা সহ বিভিন্ন স্থানে আরো বহু দলিত সম্প্রদায়ের লোকের বসবাস রয়েছে। তাদের নেতাদের সাথে আলাপ কালে তারা জানান, বাল্য বিবাহ একটি মারাত্বক ক্ষতি কারক শব্দ। তাদের মধ্যে বিগত বছরগুলোতে বাল্য বিবাহ সচরাচর হতো। এতে তাদের মেয়েদের অকালে গর্ভপাত হওয়ার ফলে তারা জীবনের ঝুঁকিতে পড়তে হতো। তাছাড়া এ দেশের সরকার বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে হরিজন দলিতরা এখন অনেকাংশে সচেতন হয়ে উঠেছে। তারা তাদের ছেলে মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে দিচ্ছেনা। এছাড়া হরিজন সমাজ উন্নয়ন সংস্থ্যার মাধ্যমে তাদের নেতারা বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করেছেন, বলে তাদের সাথে আলাপকালে জানাগেছে। এ কর্মশালায় সরকারি বেসরকারি সংস্থ্যার কর্মকর্তাদের এনে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যার ফলে চাঁদপুরের হরিজনরা এখন পুরোপুরি সচেতন হওয়ার ফলে তাদের মধ্যে এখন আর বাল্য বিবাহ প্রথার প্রচলন একেবারেই নেই। যদি কোন কারণে অপ্রাপ্ত বয়সের মেয়েদের সাথে বিয়ে ঠিক হয়, হরিজন সমাজ উন্নয়ন সংস্থ্যার কর্মকর্তারা তা প্রতিরোধ করেন। বাল্য বিয়ে হতে দেন না। তারা ১৮ বছর মেয়ের ও ২২ বছর ছেলের না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে বন্ধ করে রাখেন বলে হরিজন নেতা আকাশ দাস জানান।
তিনি আরো জানান, বিবাহ রেজিষ্ট্রেশনে তারা ভূমীকা রাখার চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন। চাঁদপুর হরিজনদের মধ্যে সরকারি রেজিষ্ট্রেশন প্রথা এখোনো চালু হয়নি। চাঁদপুরে পুরহিত প্রথা এখনো চালু রয়েছে। এ প্রথা বাদ দিয়ে বিভিন্ন জেলায় রেজিষ্ট্রেশন প্রথা চালু হয়ে তারা সচেতন হয়েছেন। চাঁদপুরে অচিরেই এ প্রথা চালু করে সরকারের নিয়ম মানা হবে বলে জানান।
চাঁদপুরের একাধিক হরিজন নারির সাথে আলাপ করে জানা যায়, অধিকাংশ পুরুষই চায় কম বয়সী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে বিয়ে করতে। আমাদের এ সম্প্রদায়ের পুরুষ ও যুবকরা তার ব্যতিক্রম নয়। চাঁদপুরের হরিজন পল্লিতে অনেক নারী রয়েছে, তাদের এখনো বেশি বয়সের কারনে আবার অনেকে অর্থের অভাবে তাদের অভিভাবক বিয়ের কার্য সম্পাদন করতে পারছেনা। যার ফলে হরিজন দলিত নেতারা এ ব্যাপারে ভাবছেন, কি ভাবে তারা কন্যা সন্তানদের পাত্রস্থ করতে পারবে তা নিয়ে চিন্তিত। এ জন্য তারা তাদের সংগঠনের মাধ্যমে সমাজের বৃত্তবানদের কাজ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ফান্ড সৃষ্টি করে তারপর অবিবাহিত মেয়েদের বিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবে। এছাড়া যারা দেশের প্রচলিত নিয়ম ও সরকারের আইন মেনে রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে বিয়ে দিচ্ছেনা তাদেরকে তাদের পঞ্চায়েত ও সমাজ প্রধানের মাধ্যমে প্রথমে চেষ্ঠা করবে। তাতে যদি সফলতা না আসে তাহলে তারা বিবাহ রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে করার জন্য নিজেদের কলোনীগুলোতে জনসচেতনতা মূলক বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন শীর্ষক আলোচনার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যাতে সবাই সরকারের নিয়ম মেনে চলে। এতে করে লাভবান হবে ওই পরিবার। বিবাহ বিচ্ছেদ হলে সে আইনের আশ্রয় নিতে পারবে এবং তার সঠিক দেন মোহর পেয়ে আগামী জীবন জীবিকার পথ সু-গম হবে। এ জন্য হরিজন দলিত নেতারা চাচ্ছে পুর্ব পুরুষের রীতিনীতি বাদ দিয়ে পুরোহিত প্রথা পেছনে ফেলে প্রশাসনিক নিয়ম কানুন মেনে চলতে।
বিধান চন্দ্র দাস (জনি) হরিজন বলেন, চাঁদপুরের হরিজনরা বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে খুবই সচেতন আছে। তবে বর্তমান যুগে কিছু কম বয়সি যুবক-যুবতীরা বাল্য বিবাহের মধ্যে জড়িয়ে পড়তে চায়। কিন্তু চাঁদপুর হরিজন সমাজের মধ্যে শিক্ষার যে আলো উদয় হচ্ছে তার ফলে এ বাল্য বিবাহটি প্রতিরোধ করা যাচ্ছে। এক প্রকার বলতে গেলে চাঁদপুর হরিজনদের মধ্যে বাল্য বিবাহ খুবই কম। এ ধরনের বাল্য বিবাহ কিছু কিছু ঘঠেছে যা সমাজের পঞ্চায়েত কমিঠির মাধ্যমে প্রতিরোধ করে। উভয় পক্ষকে উপযুক্ত বয়সে প্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে ভূমিকা রখেছে। বাল্য বিবাহ যাতে না ঘটে তা সবসময় নেতৃত্ব স্থানীয় হরিজনরা গুরুত্বে সাথে প্রতিরোধ করে এবং সু-পরামর্শ দিয়ে থাকে।
বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন বিষয়ে উল্লেখ করতে গিয়ে বিধান চন্দ্র দাস (জনি) হরিজন বলেন, সনাতন ধর্মের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনের যে মূল উদ্দেশ্য থাকে এর সাত পাকে স্বামী স্ত্রী সাতটি বিষয়ে উভয়ের সত্যতা, একাগ্রতা এবং বিশ্বাসের মাধ্যমে একে অপররে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকে। কিন্তু চাঁদপুর হরিজনরা বিবাহের ক্ষেত্রে ব্রাহ্মন দারা মন্ত্রের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করে। সামরিক খাতায় লিপিবদ্ধ করে। বিবাহ রেজিষ্ট্রেশনের বিষয়ে রেজিষ্ট্রেশনের জন্য যে প্রথা তা এখনো চাঁদপুরের হরিজনদের মধ্যে চালু হয়নি। প্রশাসনিক নিয়মের ক্ষেত্রে পূর্বে হরিজনরা অবগত ছিলেন না। বর্তমানে প্রশাসনের বাল্য বিবাহের নিয়ম কানুন তাদের জানা আছে বলেই তারা কঠোর ভূমিকায় থাকছে।
পুরাণ বাজার হরিজন যুবক্লাবের সভাপতি শ্যামল হরিজন বলেন, চাঁদপুরের হরিজনদের মধ্যে বাল্য বিবাহ হয় না। পূর্বে বাল্য বিবাহের প্রথা ছিলো, বর্তমানে সে প্রথার কঠোর ভূমিকা রয়েছে এখানকার হরিজনরা। হরিজন মেয়েদের ২০ বছরের আগে বিয়ে দেওয়া হয় না। কোন সময় যদি কেহ বাল্য বিবাহ করে আমরা জানতে পারি তখন সমাজ প্রধানদের নিয়ে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করি এবং সঠিক সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে বিয়ে দিয়ে থাকি। বিবাহের রেজিষ্ট্রেশন আমাদের এখানে হয় না। বর পক্ষ আসলে পুরহিতের মাধ্যমে সময় ঠিক করে নেই। ছেলে পক্ষ আসলে পুরহিত ডাকি। কথাবার্তা শেষ হলে তারিখ নির্ধারণ করি এবং লগ্ন ঠিক করি পুরহিতদের মাধ্যমে। তখন এলাকার গণ্যমান্যদের নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিয়ে দিয়ে থাকি। আমাদের বিবাহ পুরহিতদের মাধ্যমেই হয়। কোন রেজিষ্ট্রশন পদ্ধতি এখনো চালু হয় না। সরকারি যে নিয়ম রয়েছে তা হরিজনদের মধ্যে প্রচলন নেই। নিজেদের পূর্বের কালচার অনুযায়ী বিবাহ হয়ে থাকে। সরকার গৃহীত পদক্ষেপ অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম চলে না। হরিজন সম্প্রদায় চাঁদপুরে প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী মেনে চলে না। তবে প্রশাসনিক নিয়ম হরিজনদের জানা আছে। কিন্তু আমরা সর্বদাই চেষ্ঠা করি মেয়ের বিয়ের বয়স ১৮-২০ হতে হবে। একে অপরকে ছিনি বিয়ে ঠিক হলে বয়স কম হলে তা হতে দেইনা। বাল্য বিবাহের ব্যাপারে কঠোর প্রদক্ষেপ রয়েছে এ হরিজনদের। মেয়ে দেখে পছন্দ হলে সামজ প্রধানদের উপস্থিতিতে পুরহিত ডেকে ছেলের পিতার স্বাক্ষর রাখি, তারপর সঠিক সময়ে বিয়ে হয়।
হরিজন সমাজ উন্নয়ন সংস্থ্যার চাঁদপুরের সভাপতি আকাশ দাস বলেন, এখন বাল্য বিবাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এটার জন্য হরিজন সমাজ উন্নয়ন সংস্থ্যা কর্মশালা করেছেন। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ কর্মশালার মাধ্যমে হরিজনদের সচেতন করে বাল্য বিবাহ বন্ধ করেছি। আগে আমাদের কলোনীতে বাল্য বিবাহ হতো এখন আর হয় না। আমার বাল্য বিবাহের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। যার ফলে শতভাগ সফলতা হয়েছে। চাঁদপুর তালতলা স্বর্ণখোলা হরিজন কলোনিতে এখনো বিয়ের রেজিষ্ট্রেশন প্রথা চালু হয় নি। তবে দেশের অন্য জেলায় রেজিষ্ট্রেশন প্রথা চালু হয়েছে। চাঁদপুরে অতি তারাতারি চালু হবে সরকারে নিয়মানুযায়ী রেজিষ্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। বাল্য বিবাহের সমস্যা ছিলো মেয়েদের। বাল্য বিয়ে হলে মেয়েদের জীবনের ঝুকি ছিলো। পূর্বে ১৪ বছর হলেই বাল্য বিয়ে হতো। এক্ষেত্রে সন্তান লাভ করার ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি ছিলো। বাল্য বিবাহের ব্যাপারে সকল বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে হরিজন দলিতরা সরকারের গৃহিত সকল পদক্ষেপগুলো মেনে চলে। এ সম্প্রদায়ের লোকদেরকে ভিবিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থ্যা বাল্য বিবাহের ব্যাপারে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সচেতন তুলেছেন। তবে অচিরেই হরিজন সমাজ উন্নয় সংস্থ্যার মাধ্যমে চাঁদপুর জেলায় বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন বাধ্যতা মূলক করার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে এর জন্য প্রশিক্ষন দিয়ে সচেতন করা হবে হরিজনদের।
হরিজন সমাজ উন্নয়ন সংস্থ্যার সাধারণ সম্পাদক হীরা সরকার মুন্না বলেন, আমদের হরিজন কলোনীতে পূর্বে বাল্য বিয়ে হতো, বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। হরিজন সমাজ উন্নয়ন সংস্থ্যার মাধ্যমে ২০০০ সাল থেকে বাল্য বিবাহ বন্ধ রয়েছে। সরকারের পদক্ষেপের সাথে আমরা একমত রয়েছি। হরিজন সমাজের ধর্মীয় শাস্ত্র মোতবেক কুলনীতি রেওয়াজ অনুযায়ী বিয়ের কাজ সম্পাদন করা হয়। বিয়ের রেজিষ্ট্রেশন শুধু মাত্র দিনাজপুর জেলায় হচ্ছে। অন্য জেলায় এখনো চালু হয়নি। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬০ জেলায় হরিজনদের বসবাস রয়েছে। হরিজনরা আগামীতে রেজিষ্ট্রেশন পদ্ধতিতে যেতে চিন্তা ভাবনা রয়েছে তাদের। বাল্য বিয়ের সু-ফল ও কুফল সম্পর্কে জেনে এখন আর বাল্য বিবাহে ঝুকছে না হরিজনরা। বাল্য বিবাহের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে হরিজনরা। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ মেনে চলতে একমত রয়েছে তারা।
রবিদাস সম্প্রদায়ের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি নারায়ন রবিদাস বলেন, পূর্বে বাল্য বিবাহ পদ্ধতি ছিলো, বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। তারপরেও মাঝে মধ্যে দু’ একটা বাল্য বিবাহ হয়। রবিদাস সম্প্রদায়ের লোকেরা বাল্য বিবাহের বিপক্ষে রয়েছে। এখন সবাই শিক্ষা অর্জন করে শিক্ষিত হওয়ায় বাল্য বিবাহ হচ্ছে না। সনাতন ধর্মীয় নিয়ম হিসেবে আমাদের রবিদাসদের বিয়ে হয়ে থাকে। আমাদের বিয়ে হলে ছাড়াছাড়ির নিয়ম নেই। রেজিষ্ট্রেশন প্রথা চালু হওয়া দরকার। কিন্তু হচ্ছে না। সরকারের নিয়ম এখনো চালু হয়নি। আমাদের মধ্যে কাবিন নামা না হলেও মেয়েকে নগদ অর্থ দিয়ে দেওয়া হয়। সামাজিক নিয়মের কারনে আমাদের মাঝে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় না। সরকার যে নিয়ম করেছে তা জনগণের কল্যানের জন্যই করেছে। আমি এটার পক্ষে একমত। সরকার সংসদে বসে যেটা পাস করে করে সেটা অনেক চিন্তা করেই শিক্ষিত ভালো লোকেরাই এই আইন করেন। তাই এটা সকলের মেনে চলা প্রয়োজন। সরকার এ আইন আমাদের কল্যানের জন্যই করেছেন। এখন শিক্ষার হার বারছে। ভবিষ্যতে সবাই রেজিষ্ট্রেশন পদ্ধতি মেনে চলতেই হবে। এটা ভালো এবং এর সু-ফল আছে বলে আমি মনে করি।
শওকত আলী, চাঁদপুর
০১৭১২-১৯৫৯৪২
