শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥
মা ইলিশ রক্ষায় ২৫ সেপ্টোম্ব থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সকল প্রকার মাছ ধরা ,ক্রয়-বিক্রয়,পরিবহন ও সকল বরফ কলের উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রদান করেন মৎস্য মন্ত্রনালয় ও চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও আইন অমান্য করে চাঁদপুরের ২জন অসাধু ব্যাক্তি রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙ্গীয়ে ঢাকা ও দাউদকান্দি থেকে ট্রলার যোগে শত শত কেইন বরফ এনে লর্গিমারার চর সহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে বরফ রেখে জেলে ও মৎস ব্যাবসায়ীদের কাছে অবাদে বিক্রী করে লক্ষ লক্ষ হাতিয়ে নিচ্ছে। চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন পাইলট হাউজ এলাকার বরফ ব্যাবসায়ী সেলিম মোল্লা ও রেলওয়ে মুসলিম কবরস্থান রোডের নূর হোসেন মেঘনা নদীতে অবৈধ ভাবে ডিমওয়ালা মা ইলিশ নিধনকারী জেলে ও মাছ ক্রয় করা আড়ৎ ব্যাবসায়ীদের কাছে এ সব বরফ সরবরাহ- বিক্রী করায় তারা মাছ শিকারে উৎসাহ পাচ্ছে বলে জেলেরা জানায়। এই দুই ব্যাবসায়ী ২৫ সেপ্টোম্ব থেকে গত ৯ দিন যাবত প্রতিদিন ৫০০/৬০০ কেইন বরফ মহনপুর দিয়ে ট্রলার যোগে এনে লর্গিমারার চরে মজুত করে রাখে। তারা প্রতি কেইন বরফ ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় ক্রয় করে এনে আড়ৎ ব্যাবসায়ী ও জেলেদের কাছে ১ হাজার টাকায় বিক্রী করে লক্ষ লক্ষ টাকা ৯ দিনে হাতিয়ে নিয়েছে। আর এই বরফ পাওয়ার কারনে জেলেরা মা ইলিশ সংরক্ষন করে রাখতে পারায় মাছ ধরাতে বেশি উৎসাহিত হচ্ছে এবং নিধনকৃত মাছ বরফ জাত করছে। লর্গিমারার চরে ইলিশ মাছ ও বরফ মজুদ করে রাখার খবর পেয়ে গতকাল রবিবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামাল মোঃ রাশেদ নৌ পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনারস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানকালে চরে লুকিয়ে মজুদ করে রাখা ৪৫ কেইন বরফ ,৪০ কেজি মা ইলিশ ও ১৭ বস্তা লবন সহ ৫ জনকে আটক করে। ঐ ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে আটকৃতদের ১ বছর করে সাজা প্রদান করেন।
সরজমিনে রবিবার নৌকা নিয়ে ঘটনারস্থলে গিয়ে দেখা যায় ,রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের লর্গিমারার চর এলাকায় নদীর পাড়ে বেশ কয়েকজন ভাসমান আড়ৎদার নৌকা নিয়ে জেলেদের কাছ থেকে ইলিশ ক্রয় করছে।তারা চরের ভিতরে ঘরগুলোতে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ বরফ জাত করে সংরক্ষন করে রেখেছে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নৌ পুলিশদের নিয়ে নদীতে গেলেও ভাসমান আড়ৎদারা পূবেই মোবাইলে খবর পেয়ে তড়িগড়ি করে নদী থেকে পালিয়ে গেলে পুলিশ এ কারনে সেখানে হানা দিয়ে জেলে নৌকা ও মাছ কিছুই দেখতে পায়নি। প্রশাসনের কর্মকতারা চলে গেলে জেলেরা নৌকা নিয়ে পাড়ের দিকে চাপলেই মাছ দেখানোর পর চলে ক্রয়-বিক্রয়। মাছ কিনে ব্যাগে করে নিয়ে যাবার সময় আইনের লোক সামনে পরলে সেই ইলিশ মাছ জব্দ করা ছাড়া প্রশাসন নদীর পাড়ের ভাসমান আড়ৎ গুলোর ও জেলে নৌকার মাছ আটক করতে পারে না। ফলে তারা থাকে ধরাছোয়ার বাহিরে।
বরফ সহ আটককৃতরা ও জেলেরা জানায়, চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন পাইলট হাউজ এলাকার বরফ ব্যাবসায়ী সেলিম মোল্লা ও রেলওয়ে মুসলিম কবরস্থান রোডের নূর হোসেন ঢাকা থেকে বরফ এনে ১ হাজার টাকা বিক্রী করছে। তাদের কাছ থেকে বরফ নিয়ে মাছ মজুদ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বরফ ব্যাবসায়ী সেলিম মোল্লা ও নূর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, পূর্বে বরফ ক্রয় করে মজুদ রাখার পর সেগুলো বিক্রী করা হয়েছে।

