শওকত আলী,
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্কুল ছাত্রী (১৩)কে আদালত নিরাপত্তা সেফহোমে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে। রবিবার বিকেলে এ আদেশ দেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মামুনুর রশিদ। একই সময় আদালত চাঁদপুরে সেফহোম না থাকলে ওই ছাত্রীকে জেলার কাছাকাছি যে কোন সেফহোমে রাখার আদেশ দেশ। এর আগে গত তিন দিন ধরে হাজীগঞ্জ থানা হেফাজতে অমানবিক পরিবেশে দিন কাটানোর পর থানা পুলিশ রবিবার ছাত্রীটিকে আদালতে পাঠায়। আদালতে সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। স্কুল ছাত্রীটি হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হাজীগঞ্জ থানা সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার থানার এসআই মোঃ শাহজাহান ভূঁইয়া অপহরণ ও নারী, শিশু নির্যাতন মামলার ভিকটিমকে গাজীপুর থেকে উদ্ধার করেন। ওই দিন বিকেলে চাঁদপুরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাছলিমা শারমিনের আদালতে ভিকটিম স্কুল ছাত্রীকে হাজিরা করা হয়। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট তার ২২ ধারায় জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীর মা জানান গত ১০ মার্চ বাড়ির চাচা সম্পর্কীয় আল আমিনের (২০) সাথে সে পালিয়ে যায়। ছাত্রীর মা বাদী হয়ে গত ১ এপ্রিল হাজীগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। আল-আমিন ছাড়াও ওই মামলায় আল আমিনের পিতা সফিক, মাতা লুৎফা বেগম ও বোন রুনা আক্তারকে আসামী করা হয়। গোপনে বিয়ে করে ছেলের বড় বোন রুনা আক্তারের গাজীপুরের বাসায় আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে তাকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে হাজীগঞ্জ বাজারে সালিস চলাকালীন অবস্থান থেকে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ছেলের বাবা সফিককে গ্রেফতার করেন। সফিকের দেয়া তথ্য মতে গাজীপুর থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। তবে আল-আমিন পলাতক রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ্জাহান ভূঁইয়া বলেন, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক মেয়েটিকে আমার হেফাজতে রেখেছি। দেশে তিনটি সেভহোম সেন্টার রয়েছে। নিকটবর্তী সেভহোম সেন্টারে মেয়েটিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করবো।
তিনি আরো জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় চাঁদপুরের বিচারিক হাকিম তাছলিমা শারমিনের আদালতে ওই ছাত্রীকে হাজির করা হয়। সেখানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় মেয়েটির জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক। এ ব্যাপারে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম জানান, গত বৃহস্পতিবার মেয়েটিকে উদ্ধার করার পর আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে মেডিকেল করার আদেশ প্রদান করেন। মেডিকেলে সে আনফিট হওয়ায় তাকে তার অভিভাবকের কাছে দেওয়ার আদালতে বিচারক বলে। সে তার অভিভাবকের সাথে না যাওয়ায় তাকে থানার হাজতে সেফকাস্টডিউতে ৩ দিন রাখা হয়। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক আজ রবিবার তাকে আদালতে হাজির করার পর আদালত ওই ছাত্রীকে গাজীপুর কোনাবাড়ি সেফহোমে রাখার আদেশ দিয়েছেন। আমরা আদালতের আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।

