সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চাঁদপুর জেলায় অনুপস্থিত ছিলো ৪ হাজার ২শ’ ৩০ জন। আর বহিষ্কার হয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে একজনকে ১ বছরের কারাদ- দেয়া হয়েছে। অন্যের পরীক্ষা দিতে এসে ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে ধরা পড়ে মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি এলাকার হাফিজ। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হলে আদালত ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদ- ও ২ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদ- দিয়েছে। আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর শহরের আল-আমিন একাডেমি ছাত্রী শাখা পরীক্ষা কেন্দ্রে।
গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়। চাঁদপুর জেলায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো ১৬ হাজার ২শ’ ২৭ জন। এর মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছে ১১ হাজার ৯শ’ ৯৭ জন। অনুপস্থিত ছিলো ৪ হাজার ২শ’ ৩০ জন। চাঁদপুর সদর, হাজীগঞ্জ ও মতলব দক্ষিণের ১৮টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
কারাদ-প্রাপ্ত ভুয়া পরীক্ষার্থী হাফিজ সম্পর্কে জানা যায়, সে আল-আমিন একাডেমী ছাত্রী শাখায় পরীক্ষা দিচ্ছিলো। সে তার চাচাতো বোন আফরোজা আক্তারের (প্রবেশ পত্র রোল নং- ১৭৭৯৪) প্রবেশ পত্র নকল করে নিজের নাম ও ছবি ছেপে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষা হলের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের উত্তর পত্রে স্বাক্ষর করার সময় আসনের সাথে নাম ও ছবি মিলাতে গিয়ে আফরোজা আক্তারের নাম ও ছবির জায়গায় ভুয়া পরীক্ষার্থী হাফিজের নাম ও ছবি দেখতে পেয়ে সাথে সাথে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়। তাৎক্ষণিক ম্যাজিস্ট্রেট শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ তাকে বহিষ্কার করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদ- ও ২ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের কারাদ- প্রদান করে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ জানান, জালিয়াতি করে পরীক্ষা দেয়ায় হাফিজকে পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ ১৯৮০ সালের (৩) খ ধারায় ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদ- ও ২ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের কারাদ- প্রদান করা হয়েছে। একই কেন্দ্রে পরীক্ষার সময় মোবাইলসহ ধরা পড়ায় মাহাবুবুর রহমানকে (প্রবেশ পত্র রোল নং ১৮০৪৩) বহিষ্কার করা হয়েছে। আল-আমিন একাডেমী ছাত্রী শাখা কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিলো ৭০০ জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৫১২ জন। বাকি ১৮৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত ছিল।

