চাঁদপুর থেকে ঈদের পর দিন হতে প্রতিটি যাত্রীবাহি লঞ্চ ও ঢাকা থেকে ঈদের দিন থেকে আজ সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায়ই ১২টি লঞ্চ প্রতিটি ধারণ ক্ষমতার ৩/৪ গুণ যাত্রী নিয়ে চাঁদপুর নৌ পথে যাতায়াত করে যাচ্ছে। এতে করে যাত্রীদের জীবনে যেকোন মুহুর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বিরাজ করছে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে অধিক অর্থ উপার্জনের জন্য ৩/৪ গুণ যাত্রী নিয়ে ঢাকা ও চাঁদপুর নৌ টার্মিনাল থেকে গন্ত্যবের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। এছাড়া প্রতিটি লঞ্চ ঈদ উপক্ষ্যে যাত্রীদের নিকট নির্ধারিত ভাড়া চাইতে তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। এছাড়া সিএনজি স্কুটার ও অটো বাইক চালকরা ভিবিন্নস্থান থেকে চাঁদপুর নৌ বন্দরে আসা যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলেও সাধারণ যাত্রী থেকে অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রীরা চালকদের সিন্ডিকেটের কবলে পরে জিম্মি হয়ে ৩/৪ গুণ ভাড়া দিয়ে তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যেতে বাধ্য হচ্ছে। চাঁদপুর থেকে হাজীগঞ্জের ভাড়া আড়শ থেকে তিনশত টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে এক হাজার টাকা। ফরিদগঞ্জের ভাড়া তিনশত টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ১৬শ টাকা। রায়পুর/লক্ষ্মীপুরের ভাড়া
চাঁদপুর থেকে সাড়ে ৩শত থেকে ৪শ টাকা হলেও তাদের নিকট থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকা থেকে ২৪শ টাকা। সরজমিনে নৌ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় ও যাত্রীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, ঈদের পূর্বে নারী টানে স্বজনদের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে হাজার হাজার যাত্রী উপচে পরা ভিড় উপেক্ষা করে ট্রেন, বাস ও লঞ্চ যোগে চাঁদপুর আসে। এছাড়া দক্ষিনালঞ্চীয় যাত্রীরা চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী সহ বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রেন ও বাসযোগে চাঁদপুর এসে লঞ্চযোগে বরিশাল ভোলা খুলনা সহ বিভিন্নস্থানে যাওয়ার জন্য চাঁদপুরে এসে লঞ্চ না পেয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। সিএনজি স্কুটার ও অটো বাইক রিক্সা চালকরা নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করে সংবাদকর্মীদের ও নৌ টার্মিনালে দায়িত্বে থাকাপ্রশাসনের কর্তাব্যক্তির কাছে অভিযোগ জানান। ঈদের পরও ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ভোলা খুলনা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত যাত্রী এখনো তাদের স্বজনদের সাথে ঈদ উপলক্ষ্যে দেখা করার জন্য গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাতায়াতের জন্য নৌ টার্মিনালে অবস্থান নিচ্ছে। প্রতিটি লঞ্চ অতিরিক্ত তিন চারগুণ যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলোতে যাত্রী পারাপার করছে। লঞ্চগুলোর যাত্রীর চাপে তিলধারণের ঠাই পর্যন্ত নেই। এছাড়া ঢাকা, বরিশাল, ভোলা সহ দক্ষিনালঞ্চীয় যাত্রীরা চাঁদপুর নৌ টার্মিনালে লঞ্চ থেকে নেমে টিকেট কাউন্টারের সামনে আসলেই বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা দাফটের সাথে তাদেরকে টেনে হেচড়ে বিড়াম্বনার সৃষ্টি করছে। তারা তাদের যানবাহনে যাত্রীদের উঠিয়ে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নৌ টার্মিনাল পন্টুনে মাঠে কোন পুলিশ সদস্য বা অন্য কোন নিরাপত্তা কর্মীদেরকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাচ্ছে না। শুধু একজন পুলিশ টিকেট কাউন্টারের সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের জন্য কোন ধরনের জরিমানা বা যাত্রী লঞ্চ থেকে নামিয়ে লঞ্চ ঝুকিপূর্ণ থেকে মুক্ত করতে দেখা যায় নি। মনে হচ্ছে এসব দেখার যেন কেউ নেই।
এব্যাপারে চাঁদপুর নৌ বন্দরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো: মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এখন স্বাভাবিক ভাবেই যাত্রী আসা যাওয়া করছে। ঢাকা থেকে অতিরিক্ত যাত্রী চাঁদপুরে আসলে আমাদের কি করার আছে। বড় লঞ্চ এক হাজার যাত্রী স্থলে দুই হাজার বা বেশি যাত্রী আনলে সমস্যা নেই। বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে হবে লঞ্চগুলোকে। বর্তমান সময়ের কারণে লঞ্চগুলোকে যাত্রী অতিরিক্ত বহনের ব্যাপারে কিছু করা যাচ্ছে না। নিরাপত্তা ব্যাপারে বলেন, নিরাপত্তা পর্যাপ্ত নেই। নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্বে দেওয়ায় নৌ টার্মিনালের নিরাপত্তা বিঘœ হচ্ছে। নিরাপত্তার ব্যাপারে নিউজ করে দেন।

