চাঁদপুর নিউজ রিপোর্ট
এখন ইলিশের ভরা প্রজনন মৌসুম চলছে। মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের তৎপরতায় অভিযানের ৫র্থদিন পর্যন্ত ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার পর্যন্ত চাঁদপুরের মেঘনা নদী অনেকটাই প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে। জেলেরা ভয়ে নদীতে জাল ফেলার সাহস করছে না। তার পরেও চুরিচামারি করে কিছু জেলে মতলব উত্তর, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার মেঘনা নৌ সীমানায় জাল ফেলে ইলিশ শিকারের চেষ্টা করছে। সরজমিনে দিনে ও রাতে গিয়ে দেখা যায়, চলমান প্রজনন মৌসুম নদী এলাকা অনেকটাই সুনশান নীরবতা। গতবারের মত এবার অভিযানের গত কয়েকটি দিন ইলিশ ধরার উৎসব চোখে পরছে না। স্থানীয় প্রশাসনের বিশেষ করে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও জেলা-উপজেলা মৎস কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স নদীতে এবং উপরে কঠোর টহল জোরদার রেখেছে। অভিযানের সামনের দিনগুলো এমন পরিস্থিতি হলে ভরা প্রজনন মৌসুসে মা ইলিশ নদীতে নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারবে। আগামী ইলিশ মৌসুমে এর সুফল দেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি আনায়ন করবে এবং জেলেরা ও ইলিশ ব্যবসায়ীরা ইলিশ না পাবার হতাশা থেকে আশার আলো দেখতে পাবে বলে ইলিশ গবেষক ও পর্যবেক্ষক এবং অভিজ্ঞ মহল মনে করছে। জেলা টাস্কফোর্সের বরাত দিয়ে জেলা মৎস কর্মকর্তা সফিকুর রহমান জানান, ২৮ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর নৌ সীমানায় মা ইলিশ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে ৪টি ভ্রাম্যমান আদালত ৮টি অভিযান পরিচালনা করে। মৎস অবতরন কেন্দ্র পরির্দশন করে ৬টি। মাছঘাট পরিদর্শন কওে ১৪টি, মৎস আড়ৎ পরিদর্শন করে ৫০টি এবং ৩২টি বাজার পরিদর্শন করেছে। গতকাল ৭ জন জেলেকে আটক করে দুটি ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এক বছর করে সাজা দেয়া হয়। ইলিশ আটক করা হয়েছে ৭৯ কেজি। ২৫ কেজি মাছ শাহারাস্তির এতিম খানায় বিতরণ করা হয়। ৪৯ কেজি মাছ ষ্টোরেজে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। জাল আটক করেছে দশমিক ৬৩ লক্ষ বর্গমিটার যার আনুমানিক মূল্য ১২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। ১০টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরে ৯টি ও হাইমচরে ১টি মামলা হয়। জেলা মৎস কর্মকর্তা আরো জানান, এই যাবত ১৬ জেলেকে চলমান অভিযানে আইন অমান্য করে ইলিশ শিকারের অপরাধে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুই জেলেকে সর্বোচ্চ দুই বছর করে অন্য ১৪ জেলেকে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়। এখানে উল্লেখ্য চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল এই বছর চাঁদপুরের মেঘনায় মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের গৃহিত কর্মসূচী সফল করার লক্ষ্যে আগেবাগেই প্রশাসনের জিরো টলারেন্সল থাকবে বলে হুশিয়ারী করেন।

