
চাঁদপুর সংবাদদাতা॥
চাঁদপুরে রেল লাইনের পাশের সকল অবৈধ স্থাপনাসহ অবৈধ ভাবে নির্মিত সকলস্থানের স্থাপনা উচেছদের সিদ্বান্ত গ্রহন করেছে,রেলওয়ের চট্রগ্রাম বিভাগীয় ভু-সম্পতি কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া শহরের রেলওয়ে হকার্স মার্কেটের পূর্বদিকে এস বি খালপাড় সংলগ্ন রেলওয়ের মালিকানাধীন ভূমিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধভাবে নির্মিত অবকাঠামো ব্যবসায়ীদের কাছে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করেন একটি ভুমিদস্যু চক্র। এ অবৈধভাবে নির্মিত অবকাঠামো স্বেচ্ছায় ভেঙ্গে ফেলার সময়সীমা দিয়ে চট্রগ্রাম ভু-সম্পতি কর্মকতার দপ্তর থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে সে সময় ও শেষ হয়ে গেছে। এই সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত একটি উচ্ছেদ নোটিস ইতি মধ্যে উক্ত হকার্স মার্কেটের তিনজন কর্মকর্তার নামে প্রেরণ করা হয়েছে। এমনকি উক্ত নোটিসের বেশ কিছু অনুলিপিও বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা যায়, চাঁদপুর থেকে ডিইও/৩৯৫৪/-কম/চাঁদপুর কোর্ট/অবৈধ স্থাপনা/১১/৯৫২ নং স্মারক সূত্রে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামকে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার নির্দেশে লাকসাম কানুনগো (ভারপ্রাপ্ত) আবু সাইদ পাটোয়ারী চাঁদপুর রেলওয়ে হকার্স মার্কেট পরিদর্শন করে অবৈধ স্থাপনা নির্মানের বিষয়ে সত্যতা খুঁজে পান। তিনি এ সংক্রান্ত একটি সঠিক প্রতিবেদন বিভাগীয় কর্মকর্তাকে প্রেরণ করেন। সে প্রতিবেদনের আলোকে রেলওয়ে ল্যান্ডস্ ও বিল্ডিংস্ ডেপুটি কমিশনার স্বাক্ষরিত উচ্ছেদ নোটিস তথা এ অবৈধ স্থাপনা স্বেচ্ছায় সরিয়ে নিতে রেলওয়ে হকার্স মার্কেটের ৩ জন কর্মকর্তার নামে চিঠি পাঠান হয়। উক্ত তিন কর্মকর্তা হলেন আঃ আজিজ খান (দুদু), জয়নাল আবেদীন ও জাকির হোসেন।
এই তিন কর্মকর্তা রেলের ভূমিতে অবৈধভাবে ৬০/১৫=৯০০ বর্গফুট জায়গায় নীচে১৫টি ও উপরে নামাজের জন্য অল্প জায়গা রেখে তার উপরে ১০টি কক্ষ বিশিষ্ট অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ করে । শুধু তাই নয়, উক্ত অবকাঠামোতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করে ব্যবসা করে আসছেন, যা রেলওয়ের আইন ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী বিধায় তা স্বেচ্ছায় সরিয়ে ফেলতে গত ১৫ নভেম্বর উক্ত কর্মকর্তা চিঠি পাঠান। যার সময়সীমা দেয়া হয় গতকাল ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা না হলে ১৯৭০ সালের আইনের ৭ (১) ও ৭ (২) ধারা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য উক্ত চিঠির অনুলিপি চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ, জিআরপির অফিসার ইনচার্জ, চাঁদপুর, কানুনগো লাকসাম ও স্টেশন মাস্টার চাঁদপুর কোর্টকে প্রেরণ করা হয়।
এই চিঠি প্রাপ্তির পরও চাঁদপুর রেলওয়ে হকার্স মার্কেট কর্তৃপক্ষ পেশি শক্তি প্রয়োগ করে প্রতাপ খাটিয়ে শুধু রেলওয়ের সম্পত্তিই নয় চাঁদপুর শহরের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র অবলম্বন এসবি খাল দখল করেও অবৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। সবচেয়ে আর্শ্চাযের বিষয় হচ্ছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এ মার্কেটের কতিপয় ব্যক্তি জনগণকে ভুল বুঝিয়ে বা ধর্মের আড়ালে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে অবৈধভাবে নির্মিত অবকাঠামো ব্যবসায়ীদের কাছে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করেন বলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের এই অপকর্ম আড়াল করতে তারা একদিকে যেমনি মানুষের ধর্মীয় সহানুভূতি কাজে লাগাচ্ছেন তেমনি সরকার দলীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিদেরকে ব্যবহার করছেন। তাই চাঁদপুরের সচেতন জনগণ অবৈধ দখলকারীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়ালী উল্লাহর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা উচেছদের চিঠি পেয়েছি। তাছাড়া সম্পত্তি বাংলাদেশ রেলওয়ের, তারা যে কোনো সময় আমাদের সহযোগিতা চাইলে তা করতে প্রস্তুত আছি।
চাঁদপুর জিআরপি থানার অফিসার ইনচার্জ ওচমান গনি পাঠানের সাথে কথা বলে তিনি বলেন, অফিসিয়াল চিঠি পাইনি। তবে কানুনগোর সাথে কথা হয়েছে, তিনি আগামীকাল আসবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।
লাকসামের ভারপ্রাপ্ত কানুনগো আবু সাইদ পাটোয়ারী বলেন, আমি এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।
শিরোনাম:
শনিবার , ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
