
শওকতআলী
চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রেলওয়ে কোর্ট স্টেশনের প্লাটফর্ম ও স্টেশনকে ঘিরে চারদিকে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে মিনি বাজার। স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে কিছু ব্যক্তি শতাধিক দোকান গড়ে তোলে যাত্রীদের যাতায়াতের বিঘœ সৃষ্টি করছে। এমনকি রেল লাইনের উপর ভ্রাম্যমাণ হকাররা বসে নানা পণ্য বেচা বিক্রি করে নানা সমস্যার সৃষ্টি করছে। অনেক সময় হকারদের উৎপাতে অপেক্ষমান যাত্রীরা প্লাটফর্মে দাড়াতে পারছে না। ট্রেন আসতে দেখলে হকাররা তাড়াহুড়া করে লাইনের উপর থেকে সরে যায়। এর ফলে যে কোন সময় যাত্রী, পথচারী ও ভ্রাম্যমাণ ক্রেতারা ট্রেনের নিচে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার সম্বাবনা বিরাজমান। এ স্টেশনটি এতই ব্যস্ততম যে, দক্ষিণ অঞ্চল এবং ঢাকা ও চাঁদপুর জেলার কয়েক সহস্রাধিক মানুষ এখান দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছে।
চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের চাঁদপুর রেলওয়ে কোর্ট স্টেশনটি শহরের ব্যস্ততম এলাকায় হওয়ায় এর মাঝখান দিয়ে শহরের প্রধান সড়ক রয়েছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহান যাতায়াত করে থাকে রেল ক্রসিং পাড়ি দিয়ে। সম্প্রতি চাঁদপুর পৌরসভা ফুটপাতমুক্ত করায় সব হকার এখন কোর্ট স্টেশনকে ঘিরে রেল লাইনের দু’পাশে কেউ স্থায়ীভাবে আবার কেউ অস্থায়ীভাবে বাক্স-চটি বসিয়ে উপরে প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়ে মালামাল রেখে ব্যাবসা করে যাচ্ছে। ট্রেন থেকে যাত্রী নেমে যেতে বড় ধরনের সমস্যা পোহাতে হয়। প্লাটফর্মের উপর দোকান বসানোয় যাত্রীরা নিরাপদে ট্রেন থেকে যেমনি নামতে পারছেনা তেমনি ট্রেন আসলে ট্রেনে উঠতে গিয়েও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। যার ফলে প্রতিদিন ছোট খাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। যে কোন সময় ট্রেনে উঠতে গিয়ে প্লাটফর্মে এসব দোকানের কারণে পা ফসকে জীবন হারানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতিপূর্বে হকারদের কারণে তাদের মালামাল রাখাস্থান থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়ে কোর্ট স্টেশন গেইট ঘরটি আগুনে পুড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সে সময় জিআরপি পুলিশ ও রেলকর্তৃপক্ষের তৎপরতার ফলে কিছুদিন কোর্ট স্টেশন হকার মুক্ত ছিল। বর্তমানে আবার হকারের দখলে কোর্ট স্টেশন গেইট ঘর, প্লাটফর্ম, রেল লাইনের দু’পাশ ও রেল লাইন। পূর্বের চাইতে বেশি দোকান বসার ফলে এখন কোর্ট স্টেশনটি মিনি বাজারে পরিনত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হকারদের কেউ কেউ জিআরপি পুলিশকে ম্যানেজ করেই এ দোকান বসিয়েছে বলে জানায়। এ বিষয়ে চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহজাহান জানান, আমরা এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলাবাহীনিকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এ সমস্যার সমাধান আমরাও চাই। এ বিষয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ উছমান গণি পাঠান জানান, হকারদের কাছ থেকে রেলওয়ে পুলিশের আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি অবান্তর। ইতিপূর্বে আমরা এদেরকে উচ্ছেদ করেছি। সহসায়ই আবারও উচ্ছেদ করা হবে।
