প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের উন্নয়নে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। এটা হলে দেশের আরও বেশি উন্নয়ন সম্ভব। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৪ সালে পুনরায় আমরা সরকার গঠন করি। সরকারের ধারাবাহিকতা থাকার কারণে আজ সত্যিকারভাবে উন্নয়নটা দৃশ্যমান হচ্ছে।
রোববার দুপুরে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জনপ্রশাসন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জাতীয় পর্যায়ে ১৪টি পদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ৬টিই পেয়েছে চাঁদপুরের ছয় কর্মকর্তা। এঁরা হচ্ছেন জেলা প্রশাসক মোঃ আবদুস সবুর মন্ডল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ আবদুল হাই, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এএসএম দেলওয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মাসুদ হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সফিকুর রহমান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসনের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব সফিউল আলম বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে। সরকার যে উন্নয়ন করছে তা জনগণ দেখতে পারছে। এজন্য সরকারের ওপর জনগণের আস্থাও বেড়েছে। এ কারণে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের দারিদ্র্যের হার কমেছে। দেশ থেকে এটি দূর করতে হবে। জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস কমাতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, নতুন নতুন আবিষ্কার ও প্রযুক্তির উদ্ভাবনসহ নতুন কিছু সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি শাখা খোলা হয়ছে। আপনাদের উদ্ভাবনী বিষয় নিয়ে অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের আপামর জনসাধারণ উপকৃত হবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে বিএনপি যে সন্ত্রাসী তা-ব শুরু করেছিল এবং নির্বাচন যাতে না হয় সে জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছিল। আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল সদস্যদের, আমাদের তিন বাহিনী- সকলে মিলে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন দেশে যেন গণতান্ত্রিক ধারাটা অব্যাহত থাকে। যার ফলে নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হয়।
দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অটুট রাখাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য খুবই স্পষ্ট। এই বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হবে। কোনো দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র যেন এখানে স্থান না পায়, যার খেসারত বাঙালি জাতিকে বারবার দিতে হয়েছে, কোনো রকম অপশাসন, দুঃশাসন যেন এদেশে জায়গা না পায়। তিনি বলেন, একটি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সচেষ্ট এবং সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা পদোন্নতি থেকে শুরু করে সবরকম পদক্ষেপ নিয়ে থাকি। তার সরকারের আমলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলন থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা এবং স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর নানা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। সরকারি কর্মচারীদের জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করা এবং আমলাতান্ত্রিক মনোভাব ত্যাগ করে ‘জনগণের খাদেম’ হিসেবে কাজ করতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, জাতীয় পর্যায়ে ব্যক্তিগতভাবে জনপ্রশাসন পদক পেয়েছেন সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম, দলগতভাবে সাধারণ ক্ষেত্রে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকসহ ৬ জন, দলগতভাবে কারিগরি ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৬ জন কর্মকর্তা যথাক্রমে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, যুগ্ম-সচিব মোঃ হাবিবুর রহমান ও মোঃ ফজলুল করিম, উপ-মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোঃ রফিকুল ইসলাম, উপ-সচিব আবু দাইয়ান মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ ও উর্মি তামান্না, আর কারিগরি ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানিকভাবে জনপ্রশাসন পদক পেয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল।
