
প্রতিনিধি
মতলব উত্তর উপজেলার ৩৯টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ১২টি মাদ্রাসায় জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মডেল টেস্টের নামে চলছে অর্থ বাণিজ্য। উপজেলায় এক যুগে চলছে এ পরীক্ষা। বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জেএসসি ও সমমানের এ জাতীয় কোনো মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেয়ার বিধান না থাকলেও এ উপজেলায় নেয়া হচ্ছে। কিন্তু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস রহস্যজনক কারণে রয়েছে নিশ্চুপ।
উপজেলার ৩৯টি স্কুলের ৫ হাজার ৬৮২জন এবং ১২টি মাদ্রাসার ৩৮৯ জন সর্বসাকুল্যে ৬ হাজার ৭১ জন পরীক্ষার্থী এ বছরের জেএসসি ও সমমান পরীক্ষার মডেল টেস্টে অংশ নিয়েছে। যাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত ফি হিসেবে উত্তোলন করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। আর হিসেব মতে এ উপজেলায় ৩শ’ টাকা হারে ফি উত্তোলন করলে জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের থেকে উত্তোলিত হবার কথা ১৮ লাখ ২১ হাজার ৩শ’ টাকা। এ মডেল টেস্ট পরীক্ষা গত ১৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর শেষ হবে। অথচ পরীক্ষা শেষ হবার ৩ দিন পরেই মূল জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে। তবে এর মধ্যে মডেল টেস্ট পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করে ফলাফল প্রকাশ করার সময় কোথায়? এর মধ্যে মডেল টেস্টের খাতা মূল্যায়ন করে ফলাফল প্রকাশ, পরীক্ষার্থীরা কোন্ কোন্ বিষয়ে ফলাফল খারাপ করেছে তা চিহ্নিত করে সেসব বিষয়ে আরো ভালো প্রস্তুতি নেয়ার জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কোনো সময়ই থাকছে না। এমনকি গত পর পর দু বছরেও মডেল টেস্টের নামে এ রকম অর্থ বাণিজ্য হয়েছে এবং তখন উপজেলার বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই মডেল টেস্টের ফলাফল প্রকাশের পূর্বেই মূল জেএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছিল। এ বছরেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে উপজেলার ৫১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬ হাজার ৭১ জন শিক্ষার্থীর সাথে মডেল টেস্ট নামের এ অর্থ বাণিজ্য কেনো এমনটাই জিজ্ঞাসা উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের সচেতন অভিভাবকদের। এ ব্যাপারে কিছু অভিভাবক প্রতিবাদ করেও কোনো সুফল পায়নি বলে অভিযোগ করেন। অভিভাবকরা জানান, এ উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলার ছেংগারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোল্লা মোঃ বোরহান উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার স্কুলে ৩১০জন জেএসসির মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। মডেল টেস্টের জন্য উপজেলার কোন্ স্কুল কত টাকা হারে ফি নিচ্ছে তা আমি জানি না তবে আমরা ফি নিয়েছি জনপ্রতি মাত্র ৩০০ টাকা হারে।
মতলব উত্তর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী ওয়াহিদ মোঃ সালেহ বলেন, জেএসসির মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেয়া না নেয়ার ব্যাপারে বিধিতে সুনির্দিষ্ট কিছুই বলা নেই। তবে আমাদের উপজেলায় যে এখন জেএসসির মডেল টেস্ট পরীক্ষা চলছে তা আমি জানি।
