স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুর সরকারি কলেজের সামনে সাবেক হোটেল আকবরীর পেছনে পশ্চিম পাশে ১৮ শতাংশ জমি নিয়ে চলছে নানা খেলা। ইতঃমধ্যে অনেক রাঘববোয়াল নেপথ্যে এর সাথে জড়িত হয়ে গেছে। শহরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ জায়গাটি কয়েক কোটি টাকার সম্পদ হওয়ায় একটি মহলের এটির প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে। আর ওই মহলটি সুযোগ পেয়েছে এই জায়গার মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের কারণে। আর পক্ষ দু’টি হচ্ছে- চাঁদপুর সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং মরহুম ডাঃ মিনহাজ উদ্দিনের ওয়ারিশ খালেদা ইয়াছমিন গং। শোনা যাচ্ছে, একটি ভূমিদস্যু চক্রকে হাত করে একটি মহল এই ভূমিটি দখলে নিতে চাইছে। ইতঃমধ্যে এর সাথে স্বার্থান্বেষী মহল অনেকেই জড়িত হয়ে গেছে। এর চূড়ান্ত আইনী ফয়সালা না হলে এই দখল-পাল্টা দখলের ঘটনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছে শহরবাসী।
এদিকে চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের স্বাক্ষরে গত ৬ মে জেলা প্রশাসক বরাবরে কলেজের মালিকীয় ও দখলীয় ভূমি জবরদখলের চেষ্টার প্রতিকার চেয়ে একটি আবেদন করা হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মরহুম ডাঃ মিনহাজ উদ্দিনের ওয়ারিশ খালেদা ইয়াছমিন গং চাঁদপুর সরকারি কলেজের ৯১নং চাঁদপুর মিউনিসিপ্যালিটি মৌজার ৪২০নং খতিয়ানের দাগ নং ৫১৯, ৫২০ ও ৩৮৭-এর ০.১৮ একর ভূমি ইতঃপূর্বে তাদের মালিকানা দাবি করে জবরদখলের চেষ্টা করলে কলেজ কর্তৃপক্ষ তা প্রতিহত করে। অতঃপর তারা (খালেদা ইয়াছমিন গং) বিজ্ঞ আদালতের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার বিধান মতে ৩৫৩/১২নং মোকদ্দমা দায়ের করেন। এই মোকদ্দমাটি খারিজ হয়ে গেলে পরবর্তীতে একই বিষয়ে ডাঃ মিনহাজ উদ্দিনের অপর কন্যা চাঁদ সুলতানা পুনরায় ওই আদালতে ১২৫৩/১৩নং মামলা দায়ের করেন। এ মামলাটিও ২৭/০৮/২০১৪ খ্রিঃ তারিখে খারিজ হয়ে যায়। তাই তারা উক্ত ভূমি সম্পর্কে তাদের স্বত্ব দখল ও মালিকানা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়। বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তারা তাদের স্বত্ব দখল মালিকানা প্রমাণ না করে কলেজের মালিকীয় ও দখলীয় ভূমি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পরস্পর যোগসাজশে যৌথ জরিপের অবতারণা করে রেখেছে। এ ষড়যন্ত্রেরই অংশ হিসেবে বিগত ৩/৫/২০১৮ খ্রিঃ তারিখ গভীর রাতে তারা পুনরায় কলেজের উক্ত ভূমি দখলের চেষ্টা করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়। আবেদনে সরকারি কলেজের উক্ত সম্পত্তি যে বেআইনীভাবে জবর দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে তার প্রতিকার চেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্যে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
এদিকে মরহুম ডাঃ মিনহাজ উদ্দিনের ওয়ারিশ খালেদা ইয়াছমিন রুবি কলেজ অক্ষের বিরুদ্ধে যৌথ জরিপে অসহযোগিতার যে অভিযোগ করেছেন, এ বিষয়ে অধ্যক্ষের বক্তব্য হচ্ছে : যেখানে দুইবারই তাদের মামলাটি আদালত থেকে খারিজ হয়ে যায় এবং তারা তাদের স্বত্ব দখল ও মালিকানা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, সেখানে তো যৌথ জরিপের কোনো প্রয়োজন থাকতে পারে না। তাছাড়া আমরা আমাদের আইনজীবীর পরামর্শেই যা করার তা করছি।
