বিশেষ প্রতিনিধি
শাহনাজ আক্তার রোজী নামে এক নারী নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে চাঁদপুর আদালত এলাকায় অবস্থান করে মানুষের মাঝে নানাভাবে প্রতারণা ও অপকর্ম করে আসছিলেন দীর্ঘদিন যাবৎ। গতকাল সোমবার বিকেলে ওই ভুয়া আইনজীবীর বাসায় অভিযান চালায় চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ। চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় অবস্থিত মাওলানা মজিবুর রহমানের বাসার ভাড়াটিয়া শাহনাজ আক্তার রোজীর বাসায় পুলিশ এ অভিযান চালায়। অভিযানকালে পুলিশ শাহনাজ আক্তার রোজীসহ অন্য এক পুরুষকে আটক করে স্থানীয় কাউন্সিলর আঃ মালেক বেপারীর কাছে হস্তান্তর করে।
ভুয়া আইনজীবী শাহনাজ আক্তার রোজীর বাড়ি শাহরাস্তির উপজেলার চিতোষী এলাকায় বলে জানা যায়। সে দীর্ঘ ৫/৬ যাবৎ চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় অবস্থান করে বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাসায় ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। তার স্বামী না থাকায় সে ব্যাচেলর হিসেবে কয়েকটি বাসায় পাল্টাপাল্টি করে থাকেন। সে বিভিন্ন আইনজীবীর সাথে শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছিলেন। গত একমাস পূর্বে শাহনাজ আক্তার রোজী শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার প্রবাসী মাওঃ মজিবুর রহমানের স্ত্রীর কাছ থেকে নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নেন। সে সময় তিনি তাকে অবিবাহিত ও ব্যাচেলর বলে জানান। বাড়ির মালিকের স্ত্রী গত কয়েকদিন পূর্বে তার কাছে ভোটার আইডিকার্ড চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। এতে বাড়ির মালিকের স্ত্রীর সন্দেহ হয়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এবং তার বাসায় বিভিন্ন ধরনের লোকজনের দিনে-রাতে আসা-যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ ছড়িয়ে পড়ে।
গতকাল ৭ মে সোমবার বিকেলে রোজীর বাসায় আগত নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামের বাসিন্দা ছেরাজুল হক মাস্টারের ছেলে জনৈক আবু জাহেদকে এলাকার যুবকরা আটক করে চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশকে খবর দেয়। থানার এসআই আক্কাছ ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবকদের অভিযোগ শুনে শাহনাজ আক্তার রোজী ও উক্ত আবু জাহেদকে আটক করে রোজীর বাসায় অবস্থান নেয়।
শাহনাজ আক্তার রোজী জানান, আবু জাহেদ তার স্বামী। কিন্তু তিনি স্বামী হিসেবে কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি। রোজীর স্বামী পরিচয়দানকারী আবু জাহেদ জানান, ২০০৭ সালে তাদের পরিচয় হয় এবং একই বছর তাদের শাহরাস্তিতে বিয়ে হয়। তখন তিনি শাহরাস্তির থানায় কর্মরত ছিলেন। পরে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আকার ধারণ করলে চাঁদপুর মডেল থানার সিনিয়র পুলিশ অফিসার ত্রিনাথ ও অনুপ চক্রবর্তী সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
পুলিশ অফিসার ত্রিনাথ জানান, বাড়ির মালিক মজিবুর রহমানের স্ত্রী তাসলিমা বেগমের কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, অ্যাডঃ নজরুল ইসলাম খোকন শাহনাজ আক্তার রোজীকে অবিবাহিত বলে বাসা ভাড়া নেন ও অগ্রিম টাকা প্রদান করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া-হট্টগোলের সৃষ্টি হলে শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরিচয়দানকারী রোজী তার ভোটার আইডিকার্ড ও বিবাহের প্রমাণাদি দেখাতে না পারায় পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয় কাউন্সিলর আঃ মালেক বেপারীর জিম্মায় তাদেরকে হস্তান্তর করে চলে আসেন।
চাঁদপুর মডেল থানার এসআই ত্রিনাথ জানান, যার ঘরে লোকটি প্রবেশ করেছে তার যেহেতু কোনো অভিযোগ নেই, সেহেতু আমরা বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর আঃ মালেকের কাছে হস্তান্তর করেছি।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আঃ মালেক বেপারীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, শাহনাজ আক্তার রোজী ও আবু জাহেদের সাথে কথা বলে তারা যে স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের বিবাহের কোনো প্রমাণাদি দেখাতে না পারায় আগামী সাতদিনের মধ্যে কাবিননামা হাজির করার জন্যে সময় দেয়া হয়েছে। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে বলে জানান। তিনি আরো জানান, তাদের বিয়ের কাবিননামা চট্টগ্রামে রয়েছে বলে আবু জাহেদ তাকে জানিয়েছেন এবং এটি আবু জাহেদের দ্বিতীয় বিয়ে বলে দাবি করেন। জানা যায়, জাহেদের স্ত্রী, পুত্র-কন্যা রয়েছে। আর শাহনাজ আক্তার রোজী নিজেকে অ্যাডঃ নজরুল ইসলামের সহকারী ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। বাড়ির মালিকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে শাহনাজ আক্তার রোজীকে ভাড়া বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবার জন্যে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চাঁদপুর শহরে এভাবেই বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে এ ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ চলছে। সচেতন মহলের দাবি, পুলিশ বিভাগ এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
