স্টাফ রিপোর্টার:॥ চাঁদপুরের প্রশাসনের কঠোর নজরধারী থাকা সত্ত্বেও পদ্মা-মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থান দিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ নিধন করছে একশ্রেণির জেলেরা। ইলিশের প্রধান প্রজনন রক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করতে শরিয়তপুর জেলার চরএলাকা ও চাঁদপুরের জেলেরা নদীতে জাল ফেলে ইলিশ শিকার করছে। জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মিটিংএ বলেছেন, কোন অবস্থাতেই ইলিশের গায়ে হাতে দিতে পারবে না কেউ। চব্বিশ ঘন্টাই জেলা -উপজেলা টাস্কফোর্স নদীতে অবস্থান করবে। তারপরও থেমে নেই ইলিশ নিধন। মতলব,চাঁদপুর সদর,হাইমচর এবং শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া ও ভেদেরগঞ্জ উপজেলার অসংখ্য জেলে আইন না মেনে মাছ ধরছে নদীতে।
১৬ অক্টোবর নৌ পুলিশের সহযোগিতায় ১৬ জেলেকে আটক করে সাজা দিয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় উপস্থিত ছিলেন এডিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান,জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী,ম্যাজিষ্ট্রেট মেহেদী হাসান মানিক,হরিনাঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর হারুনুর রশিদ,এসআই গিয়াস। আগের দিন চাঁদপুর মডেল থানার পুরাণবাজার ফাঁড়ি পুলিশ বহরিয়া ও দোকানঘর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪০ পিচ ডিমওয়ালা ইলিশ জব্দ করেছে। এই পুলিশ ফাঁড়ি তিনদিনে ১২ জন জেলেকে আটক করলে তাদের প্রত্যেককে এক বছরের করে সাজা দেয় ভ্রাম্যমান আদালত।প্রায় ৩০ হাজার মিটার ছান্দি ও কারেন্ট জাল ও বিপুল পরিমান ইলিশ জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের মাঝে ২০ কেজি করে চাল বিতরন।এদিন সদরের চান্দ্রা ইউনিয়নে সাড়ে ৯’শ জেলেকে চাল দেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,ঘূর্ণিঝড় তিতলীর প্রভাবে যখন সাগর ও নদী উত্তাল দেখা দেয়। এসময় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পদ্মা-মেঘনায় ডিম ছাড়ার জন্য চলে আসে। এই সুযোগটা বেশি কাজে লাগায় জেলেরা। শত শত জেলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে ইলিশ নিধনে মেতে ওঠে। বুধ,বৃহস্পতি ও শুক্রবার এই তিন দিন বিপুল পরিমান ইলিশ চাঁদপুরের জেলেরা নিধন করেছে। হরিনাঘাট,আলু বাজার ও নীল কমল নৌ ফাঁড়ি পুলিশের সাথে গোপন কন্ট্রাক্ট ও বিকাশে টাকা পরিশোধ করে জেলে নামধারী দুস্কৃতিকারীরা মা ইলিশ নিধনের সাহস পাচ্ছে বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়,মেঘনার পশ্চিম পাড়ের রাজরাজেশ^র চর এলাকা ও শরিয়তপুর-চাঁদপুরের নৌ সীমানার পদ্মা নদী থেকে শুরু করে সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চরফতেজংপুর,গুচ্ছগ্রাম চর,আলুবাজার,ঈদগাহ বাজার, লক্ষ্মীরচর, সাখুয়া খাল,জাফরাবাদ,লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের রামদাসদী খাল,দোকানঘর গুচ্ছ গ্রাম,বহরিয়া,লোদেরপাড়,নন্দেশ খার খাল,হানারচর ইউনিয়নের নন্দীর দোকান,গোবিন্দিয়া,চান্দ্রা ইউনিয়নের আখনের হাট,বাখরপুর গ্রামের নদীর পাড়,জ¦ীন গাছতলা,তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের আনন্দবাজার,কল্যানপুর ইউপির নদীর পাড় ও হাইমচরের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে মাছ ধরা হচ্ছে। উল্লেখিত এলাকার নদীর পাড়ে পাড়ে সন্ধ্যার পর,মধ্যরাতে এবং ফজর নামাজের পর ইলিশ বিক্রির উৎসব চলে।বস্তা বস্তায় ইলিশ মাছ আবার ঢুকে পড়ছে গ্রামে গ্রামে । ফরিদগঞ্জসহ আশপাশে সকালে প্রচুর ইলিশ হকারি করে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সাইজের এক হালি ইলিশ ৮/৯’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নদীতে নৌ পুলিশ এবং উপরে ফাঁড়ি ও থানা পুলিশের তৎপরতা জোরদার করা না হলে অভিযানের এই সময় জেলেরা ডিম ওয়ালা ইলিশ ধরতেই থাকবে বলে পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত।এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপারের দৃষ্টি কামনা করা হয়।
উল্লেখ্য, ইলিশের প্রধান প্রজনন রক্ষায় সরকার তিন সপ্তাহের জন্য নদীতে ইলিশ আহরন নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।সেসুবাদে গত ৭ অক্টোবর হতে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশ নিধন বন্ধ।
শিরোনাম:
শনিবার , ১৮ জুলাই, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
