নিজস্ব প্রতিবেদক
ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদের প্রতিষ্ঠিত এতিমখানার শিক্ষক হাফেজ রফিকুল ইসলামকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়েছে সফিক পাটওয়ারী নামে কথিত এক দরবেশ। সে তাকে পিটিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধন ও তদবিরের জোরে উল্টো ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সফিক পাটওয়ারী তার স্ত্রীকে বাদী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে। অপরদিকে এতিমখানার শিক্ষককে রড দিয়ে পেটানোর অভিযোগে মামলা নেয়নি পুলিশ। এ নিয়ে সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদসহ তার এলাকার লোকজন দিন দিন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন মহলের লোকজন হতবাক হয়ে যায়।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি বিএনপি নেতা লায়ন হারুনের গ্রামের বাড়ি মান্দারখিলে। উক্ত ঘটনার হোতা পূবালী ব্যাংকের হিসাবরক্ষক কথিত দরবেশ সফিক পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অপরদিকে সফিকের স্ত্রী বাদী হয়ে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে। সফিক পাটওয়ারী বর্তমানে ফরিদগঞ্জের রামপুর বাজার পূবালী ব্যাংক শাখায় চাকুরি করেন। এলাকায় তিনি আবার রহস্যময়ী দরবেশ নামেও পরিচিত। যার বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার মান্দারখিল গ্রামে ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি লায়ন হারুনের প্রতিষ্ঠিত এতিমখানার শিক্ষক হাফেজ রফিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের বাজার নিয়ে গৃদকালিন্দিয়া থেকে এতিমখানায় আসেন। এ সময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সফিক পাটওয়ারী এতিমখানার শিক্ষার্থীদের সামনে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে হাফেজ রফিককে বেদম মারতে থাকে। এ ঘটনা দেখে হাফেজ রফিকের অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী ও এতিমখানার শিক্ষার্থীরা চিৎকার-চেঁচামেচি করে তাদের প্রিয় শিক্ষককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। এ খবর শুনে ওই এলাকার সাবেক ইউপি মেম্বার লেয়াকতসহ স্থানীয় ক’জন জরুরি চিকিৎসার জন্য হাফেজ রফিককে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
সফিক পাটওয়ারীর বড় ভাই ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা নূরুল আমিন তার ভাই সফিক সম্পর্কে বলেন, আমারই ছোট ভাই সফিকের চরিত্র ও দুর্ব্যবহারের কথা বলে কয়ে শেষ করা যাবে না। আরেক ভাই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আমাদের মা তারই সন্তান সফিকের অত্যাচার ও অপমান সইতে না পেরে বাধ্য হয়ে এখন বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় আমাদের কাছে থাকছেন। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কারো সাথে ঝগড়া লেগেই সফিক তার বাড়িতে থাকা বড়, ছোরা ও কিরিচ নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেয়।
এ ব্যাপারে সফিক পাটওয়ারী নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, রফিক আমাকে দেখলেই উচ্চস্বরে জেনার ওয়াজ করে কী বুঝাতে চায়। এ ছাড়াও ওই এতিমখানার শিক্ষার্থীরা আমাকে দেখলে থু থু মারতে সাহস পায় কীভাবে। এখন রফিক এখান থেকে চলে গেলেইতো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। অহেতুক আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে।
তবে সফিকের স্ত্রী পারভিন আক্তারের দায়ের করা মামলার এজাহারের মাধ্যমে জানা যায়, হাফেজ রফিক বিভিন্ন সময় সফিকের দুই মেয়ে নাজিহা আক্তার ও নাহিমা আক্তারকে উক্ত্যক্ত করার কারণ জানতে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে রাস্তায় গিয়ে রফিককে জিজ্ঞাসা করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে সফিকের স্ত্রী পারভিন আক্তারকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা ছাড়াও তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে। এ মামলায় সাক্ষী রাখা হয়েছে সফিকের দু’ মেয়ে ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার তানভির আহাম্মেদ চৌধুরীকে।
পূবালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, সফিকের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীসহ বিভিন্ন অভিযোগের কারণে ব্যাংকের সুনাম রক্ষার স্বার্থে সফিককে ইতিপূর্বে গৃদকালিন্দিয়া শাখায় স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছিল।
উক্ত এলাকারই একাধিক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ছদ্মবেশী দরবেশ রূপধারী সফিক পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেঙ্কারীসহ তার গুরুতর অপরাধের কারণে সে সর্বমহলে একজন খারাপ মানুষ হিসেবে পরিচিত।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদগঞ্জ থানার এস আই অলক বড়ুয়া বলেন, ঘটনার পুরোপুরি তদন্ত না করে এ বিষয়ে এখন আগাম কিছু বলতে পারছি না।
এদিকে ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদ এ বিষয়ে হতাশ প্রকাশ করে বলেন, আমার প্রতিষ্ঠিত এতিমখানার শিক্ষক হাফেজ রফিক কি এমন অপরাধ করেছে। যার জন্যে তাকে সফিক পাটওয়ারী রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এ ঘটনাটি এখন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে উল্টো ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়েছে। বিষয়টি যখন আইনি পর্যায়ে নেয়া হয়েছে সেটা এখন আইনীভাবেই দেখা হবে।

