প্রতিনিধি
ফরিদগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ওই মেয়ে বর্তমানে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানিয়েছে তার পরিবারের লোকজন। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে তারা এলাকায় নানাজনের কাছে ঘুরলেও কোনো কুলকিনারা পায় নি। পরে গত সোমবার রাতে পুলিশকে জানালে পুলিশ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আঃ সোবহানকে আটক করে। রাতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অনাগত সন্তানের স্বীকৃতির আশায় ওই প্রতিবন্ধী নারী বিয়ের পিঁড়িতে বসতে রাজী হলেও অভিযুক্ত আঃ সোবহান রাজী হয়নি। ফলে ওই মেয়ে বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে থানায় মামলা দায়ের (নং-১৭/২৯.১১.১৬) করলে পুলিশ ঘটনার হোতা আঃ সোবহান (৩২)কে গতকাল দুপুরে চাঁদপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করে । ঘটনাটি ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ভাটিরগাঁও গ্রামে ঘটে ।
জানা গেছে, ভাটিরগাঁও গ্রামের আঃ সোবহান পার্শ্ববর্তী ২০ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী নারীকে গত ৫ মাস পূর্বে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। গত ৩ মাস পূর্বে মেয়েটির পরিবারের লোকজন জানতে পারে সে অন্তঃসত্ত্বা। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, সোবহান তাকে গত ২ মাস পূর্বে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এই কাজ করেছে। তখন মেয়েটির পরিবার বিচার চায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে। তারা দেড় লাখ টাকা দিয়ে এটিকে রফাদফা করতে চেষ্টা করলে রাজী হয়নি ওই পরিবার। পরে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে পুলিশ অভিযুক্ত আঃ সোবহানকে সোমবার রাতে আটক করে। এরপর স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে বিরাট অংকের দেনমোহরানার ভয়ে আঃ সোবহান বিয়ে করতে রাজী হয়নি। তাছাড়া প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না থাকায় বিয়ের বিষয়ে জটিলতা সৃষ্টি হবে বলে মধ্যস্থতাকারীদের একজন জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব মোল্লা জানান, অভিযুক্তকে স্থানীয় লোকজন বিয়ের পরামর্শ দিলে সে রাজী হয়নি। পরে ওই মেয়ের দায়ের করা মামলায় তাকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
