
প্রতিনিধি=
কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে চাঁদপুর জেলা ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ছিলো। এ জন্য চাঁদপুর পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নতুন বাজার মোড়ে একটি অবস্থান নেয়। এ সময় ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এই ওয়ার্ডেরই পালপাড়া, নিউট্রাক রোডসহ বেশ কয়েকটি পাড়া মহল্লার মিছিলের অপেক্ষা করতেছিলো। কিছুক্ষণ পরই ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানা ও ইউসুফের নেতৃত্বে ওই মিছিলটি পূর্বে অবস্থানরত মিছিলের সাথে একত্রিত হয়। এরপর দুটো গ্র“প মিলে জেলা বিএনপি কার্যালয় সম্মুখে জেলা বিএনপির কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য মিছিল সহকারে নতুন বাজার মোড় থেকে রওয়ানা দেয়। এ মিছিলের অগ্রভাগে অর্থাৎ সামনে নিজেকে নেতা হিসেবে জাহির করার জন্য সামনের সাড়িতে কাকে কে সরিয়ে দাঁড়াবে এটিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দু’ গ্র“পের জুনিয়র পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়।
পরে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। একপর্যায়ে মিছিলটি জেলা বিএনপির কর্মসূচিতে অংশ নেয়। জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে কর্মসূচির মূল বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে নতুন বাজার মোড়ে আসার পথে আবারো ওই দু’ গ্র“পের বাকবিতণ্ডতা হয় এবং এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। জানা যায়, ছাত্রদলের এ জুনিয়র দু’ গ্র“পের নেতৃত্ব দেয় রাব্বি গাজী ও ইউসুফ। এ দু’ গ্র“পকে জেলা ছাত্রদল নেতা মোঃ ইসমাইল ও মাসুদ রানা নিয়ন্ত্রণ করে। এ দু’ নেতা একে অপরের প্রতি আধিপত্য বিস্তারে এদের ব্যবহার করে। পরে জেলা বিএনপির কর্মসূচি শেষে সকল নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ার পর মাসুদ রানা ও ইউসুফের নেতৃত্বাধীন গ্র“পের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইসমাইল ও রাব্বি গ্র“পের উপর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাসভবনের সম্মুখে ও জেলা বিএনপি কার্যালয় সম্মুখে হামলা করে ওই গ্র“পের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারাত্মক আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ছাত্রদলকর্মী শাহাদাত বকাউল, জিলন, শিপন, ফরিদ বকাউল, নূরে আলম, মেহেদী হাসান, মাসুদ বেপারীসহ ১০/১২জনকে আহত অবস্থায় চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
কর্তব্যরত ডাক্তার আহত শাহাদাত বকাউলের অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে ঢাকায় রেফার করে। এ খবর ইসমাইল ও রাব্বি গ্র“পের কাছে যাওয়া মাত্রই রাত ৮টার দিকে প্রায় ২/৩শ’ নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্রসহ শহরের মূল সড়ক দিয়ে পালপাড়া এলাকায় শীতলা মায়ের মন্দির ও মন্দিরের কার্যালয়, ১০/১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অর্ধশতাধিক বাসাবাড়িতে ব্যাপক হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এলাকাবাসী আতঙ্কে অনেকটা এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এ ঘটনা শুনে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব মোরশেদ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোঃ শাহআলমসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে এ গ্র“পকে ধাওয়া করে বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।
এদিকে সন্ধ্যায় মাসুদ রানা ও ইউসুফ গ্র“প প্রতিপক্ষ গ্র“পের উপর হামলার সময়ও শহরে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ হামলাকারী দু’ গ্র“পের কাউকে গ্রেফতার করতে পারে নি।
উল্লেখ্য, চাঁদপুর শহরে ইতিপূর্বে বিরোধী দলীয় জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচির চলাকালে তাদের দীর্ঘদিনের গ্র“পিংয়ের রাজনীতির কারণে শহরে দিনে দুপুরেও তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্রের মহড়া জনগণকে হতবাক করে।
শিরোনাম:
বুধবার , ১২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
