চাঁদপুর শহরের কালিবাড়ি এলাকার কোর্ট স্টেশন পশ্চিম পাশের প্লাটফর্মে সেকান্দর কোম্পানীর মাছের গদি ঘরে এক শ্রমিক বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে, গত ২৮ মার্চ মঙ্গলবার।জানা যায়, সেকান্দর কোম্পানীর গদি ঘরে স্টাফ মুকবুল হোসেন (৪২) এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার দক্ষিণ তারাবুনিয়া মালেগোকান্দি গ্রামে। সে সংসার জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। মুকবুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সেকান্দর কোম্পানীর এ গদি ঘরে চাকুরী করে আসছিল। গত ২৮ মার্চ সকাল ৮টায় অপর স্টাফ বিল্লাল হোসেন গদিতে এসে দেখতে পান গদি ঘরের দরজা খোলা। ভেতরে মুকবুল হোসেন বিষের যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। পুরো ঘরে এন্ডিনের বিষাক্ত গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিল্লালের ডাক-চিৎকারে আশপাশের স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে মুমুর্ষ অবস্থায় মুকবুলকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক মুকবুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখান থেকে পুনরায় তাকে ঢাকায় প্রেরণ করে। পথিমধ্যে চান্দিনা এলাকায় গেলে মুকবুল মারা যায়। পরে তার লাশ অ্যাম্বুলেন্সযোগে চাঁদপুর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। মুকবুলের মৃত্যুর বিষয়ে তার ছোট ভাই ওমর ফারুক (২৪) চাঁদপুর মডেল থানায় লিখিতভাবে অপমৃত্যু অভিযোগ দায়ের করে। তাতে উল্লেখ করা হয় সেকান্দর কোম্পানীর মাছের গদিতে মৃত মুকবুল হোসেন দীর্ঘদিন চাকুরী করত। ২৮ মার্চ রাতে গদিতে ঘুমিয়ে পড়ে। ভোরে এসে বিষ খেয়ে ছটপট করতে থাকলে তার সাথে কাজ করা বিল্লাল দেখে ডাক-চিৎকার দিলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার এ মৃত্যুকে নিয়ে একটি চক্র বিভিন্ন ধরনের কুৎসা রটানো শুরু করেছে। তারা বলেন, গত ২/৩ ধরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি এই গদি ঘরে এসেছিল। এমনকি রাত্রী যাপনও করেছিল। মুকবুলের মৃত্যুর পর থেকে ওই ব্যক্তি পলাতক রয়েছে। ওই ব্যক্তিটির ২টি ব্যাগ এখনও ওই গদি ঘরে রয়েছে। আরো জানা যায়, মুকবুলকে কে বা কারা মোবাইলে হুমকিও নাকি দিয়েছিল। এসব বিষয়ে মুকবুলের মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হচ্ছে। গতকাল বুধবার বিকেলে মুকবুলের ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
