এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে প্রতারণাপূর্বক ভুল চিকিৎসা করে গুরুতর জখম করার অপরাধে লিটন সরকার নামে ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন আরেক ভুক্তভোগী রোগীর ছোট ভাই। মঙ্গলবার রাতে চাঁদপুর মডেল থানায় ৪১৭/৪১৯/৩২৬ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন আবুল বাশার মাল। মামলা নং-১৭।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর সদর উপজেলার সোবহানপুর গ্রামের মৃত মকরম মালের ছেলে আবুল খায়ের মাল পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে ভুয়া চিকিৎসক লিটন সরকারের সাথে যোগাযোগ করে ফিস্টুলা রোগের চিকিৎসার জন্য শরণাপন্ন হন। চিকিৎসার জন্যে রোগীর কাছ থেকে লিটন ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ৩০ হাজার টাকা চুক্তি হয় এবং তাকে পরিশোধ করেন। লিটন চিকিৎসক না হয়েও তার শহরের ঘোষপাড়া বাসায় ফিস্টুলা রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে পায়ুপথে চিকন লোহার রড কয়েকবার প্রবেশ করান এবং মলম জাতীয় ঔষধ দিয়ে ব্যান্ডেজ করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ওই দিন রাত থেকেই তার পায়ুপথে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং অ-কোষ ফুলে যায়। পরে তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং পরে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালসহ আরেকটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
মামলার বাদী আবুল বাশার জানান, লিটনের অপচিকিৎসার পর দীর্ঘ ১ বছর আমার ভাইকে ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার পর এখনও সুস্থ করে তুলতে পারিনি। তার পায়ুপথে এখন ক্যান্সার হয়ে সে মৃত্যুপথযাত্রী। স্থানীয়ভাবে লিটনের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার বিচার দাবি করে কোন সাড়া পাইনি। শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিতে হয়েছে। সে চাঁদপুরে বহু মানুষের কাছ থেকে অপচিকিৎসার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের মোস্তফা মালের ছেলে মাসুদ মালের এ ধরনের অপচিকিৎসা করার কারণে লিটন সরকার আটক হয়ে জেল হাজতে যান। পরে জামিনে এসে তিনি এখন অনেক রোগীকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছেন।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় মামলা হয়েছে।

