
শওকতআলী
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ৬০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ যা মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প নামে পরিচিত। এই প্রকল্পের অভ্যন্তরে ফসলি ছোট-বড় বিলগুলোর অধিকাংশ এখন কচুরিপানায় ভরপুর হয়ে আছে। বিলগুলোতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে পুরো একটি মৌসুম ধান চাষ হচ্ছে না। রোপা আউশের মৌসুম শেষ। ১৭ হাজার হেক্টর জমির মধ্য থেকে ৩ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ আবাদ হয়েছে। বাকি প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমি পতিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এখন চলছে আমন মৌসুম। অতি বৃষ্টির ফলে সেচ প্রকল্পের অধিকাংশ বিল স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে। অচিরেই জলাবদ্ধতা নিরসন করা না গেলে রোপা আমন মৌসুমে এবার জমিগুলো খালি পড়ে থাকবে। স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নেয়ায় বিলের জমিগুলোতে আগাছা ও কচুরিপানা জন্ম নিয়ে ডোবাখানায় পরিণত হয়েছে।
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের দু’টি মৌসুমকে মূলত মূল মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। ইরি ও বোরো মৌসুম, রোপা আমন মৌসুম। ইরি ও বোরো মৌসুমে পানির সঠিক বন্টন না হওয়ার কারণে সেচ প্রকল্পের সকল বিলে ইরি-বোরো চাষ করা সম্ভব হয় না। কিন্তু রোপা আমন মৌসুমে প্রায় সকল জমিতে রোপা আমন চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে পুরো জমিতে রোপা আমন চাষ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
১৯৮৭-৮৮ অর্থ বছরে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প নির্মিত হওয়ার পরে সেচ প্রকল্পে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর আবাদি জমি ছিল। অপরিকল্পিত ঘর-বাড়ি নির্মাণ, আবাদি জমিতে বনায়ন, পরিকল্পনাবিহীন বিলের মাঝখান দিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ করার ফলে ৩৫ হাজার হেক্টর জমি এখন ১৭ হাজার হেক্টরে এসে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে প্রকল্পের পানি নিষ্কাশন খাল, ক্যানেল, , দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই সেচ প্রকল্পের বিলগুলো থৈ থৈ পানির জলাধারে রূপ নিচ্ছে। সেচ প্রকল্পের উদ্দমদী ও কালীপুর পাম্প হাউজের দুইটি স্লুইচ গেট দিয়ে ৬টি মেশিন সারাদিন পানি নিষ্কাশন করলেও বিলের স্থায়ী জলাবদ্ধতা রোধ করতে পারছে না। পানি টানার কারণে পাম্প হাউজের পাশের বড় খালগুলো শুকিয়ে গেলেও বিলগুলো থেকে পানি নামছে না। একদিকে পাম্প হাউজগুলো পানি পাচ্ছে না অন্যদিকে বিলগুলোতে পানি জমে জলাবদ্ধতার ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
সরেজমিনে ফতেপুর বিল, সিপাইকান্দি বিল, মান্দারতলী বিল, রসুলপুর বিল, টরকী বিল, আমুয়াকান্দা বিল, ইন্দুরিয়া বিল, ইসলামাবাদ বিল, দূর্গাপুর বিল, ব্রাহ্মনচক বিল, ঝিনাইয়া বিল, মিঠুরকান্দি বিল, মুক্তিরকান্দি বিলসহ অন্তত পনেরটি বিল ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি বিলে দুই থেকে তিন হেক্টর উঁচু জমিতে রোপা আউশ ছাড়া প্রতিটি জমিতেই ঠাসা কচুরিপানা। যতদূর চোখ যায় জমাটবাঁধা কচুরিপানা আর কচুরিপানা। এই কচুরিপানার ভাগাড় সরিয়ে চলতি রোপা আমন মৌসুমে কিভাবে জমিতে চাষ হবে তা কৃষকদের ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমুয়াকান্দির কৃষক করিম প্রধান, রাঢ়ীকান্দি গ্রামের কৃষক সামছুল ইসলাম’সহ একাধিক কৃষক জানান, গত কয়েকবছর আগেও বিলের নিচু জমিতে রোপা আউশ চাষ হতো। কিন্তু গত ২/৩ বছর ধরে এসব বিলগুলোতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ায় প্রায় দু’টি মৌসুমে ধান চাষ করা সম্ভব হয় না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, সেচ প্রকল্পের পানি নিষ্কাশন খালগুলো দখল ও ভরাট হওয়ার কারণে নিচু জমিগুলোতে স্থায়ী জলাবদ্ধা দেখা দিয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে এসব সমস্যার সমধান না করলে এ প্রকল্পকে বাঁচানো যাবে না।
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবস্থাপনা এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন সরকারএ সমস্যার কথা স্বীকার করে পানি নিষ্কাশনের জন্য তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানাচ্ছেন।এ ব্যাপারে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী আতাউর রহমান জানান,এসব ড্রেন ও ক্যনেলগুলো সংস্কার ও পরিস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন হয়ে গেছে। পর্যায়ক্রমে এসব বাস্তবায়ন করা হবে।
শিরোনাম:
বুধবার , ২৪ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
