
মোঃ জামাল হোসেনঃ
শাহরাস্তি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাতের অপরাধে ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ওই ২ শিক্ষার্থীর অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এ অভিযোগ করেন।
শিক্ষার্থীদ্বয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের কাজিরকাপ গ্রামের মৃত শাহ আলমের পুত্র আহাদুর রহমান ইমন (১৪) ও ৭ম শ্রেণীর ছাত্র একই গ্রামের খোরশেদ আলমের পুত্র মোস্তাফিজুর রহমানকে (১২) শিক্ষক সরাফত উল্যাহ ও মোঃ আলী হোসেন বেত্রাঘাত করেন। পরে ওই ছাত্রদের অভিভাবকদের নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের জন্য বলেন। শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি অবগত করলে তারা প্রধান শিক্ষকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি তাদের ছাড়পত্র নিয়ে বিদ্যালয় হতে চলে যাওয়ার জন্য বলেন। অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ঘটনার কোন সদোত্তর না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী আহাদুর রহমান ইমন জানায়, আমি ইউনিফর্ম ছাড়া বিদ্যালয়ে আসায় শিক্ষক সরাফত উল্যাহ বেদম প্রহার করেন। আমি গরীব অসহায় হওয়ায় ইউনিফর্ম তৈরির কাজ করতে বিলম্ব হয়েছে। শিক্ষককে বিষয়টি বলার পরেও তিনি কথাটি আমলে না নিয়ে আমাকে বেত্রাঘাত করে বই খাতা রেখে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন।
শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান জানায়, শ্রেণী কক্ষে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা হই হুল্লুর ও কথাবার্তা বলার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আলী হোসেন বেত্রাঘাত শুরু করেন। ওই সময় আমি হাতের লেখার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আমি অপরাধ না করেও বেত্রাঘাতের শিকার হলাম। পরে বিষয়টি আমার অভিভাবকদের জানালে তারা প্রধান শিক্ষকের সাথে আলোচনা করলে তিনি বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র নিয়ে চলে যাওয়ার জন্য বলেন। আমরা এমন কি অপরাধ করেছি যার জন্য ছাড়পত্র নিয়ে চলে যেতে হবে।
উভয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা জানান, শিক্ষার্থীদের ভুল থাকলে শিক্ষক তা শুধরানোর চেষ্টা করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বেদম প্রহার করে বই খাতা রেখে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়া এবং কোন অপরাধ ছাড়াই ছাড়পত্র দিয়ে বিদায় করে দেয়ার বিষয়টি রহস্যজনক। তাই ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অভিযোগ দায়ের করেছি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইমাম হোসেনের সাথে মুঠোফোনে আলাপে তিনি জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করা হয় না। তারপরও মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের একটু সাবধান করা হয়। ওই ঘটনার বিষয়ে আমি বেশি কিছু বলতে পারবো না। আগামীকাল বিদ্যালয়ে আসলে পুরো বিষয়টি বলতে পারবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিব উল্যাহ মারুফ জানান, ওই ঘটনায় একটি অভিযোগ হয়েছে। আমরা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জানার পর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
