
মোঃ জামাল হোসেন ঃ
শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউপির চিতোষী আর এন্ড এম উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্পত্তি ভূমিদস্যু কর্তৃক দখলে ব্যর্থ হয়ে অভিভাবক সদস্যের বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা ও জিডি করার অভিযোগ উঠেছে।
ভূক্তভোগির অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চিতোষী আর এন্ড এম উচ্চ বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ৪৪২নং হালে ১৫৮নং চাঁন্দল মৌজার ২৬৫নং খতিয়ানের সাবেক ৪০৪নং হালে ৩১০নং দাগে সাহেবের দিঘীর দক্ষিণ পাড়ে বিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। এই অবস্থায় চান্দল গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে মাওঃ মাহফুজুল হকের নির্দেশে একই গ্রামের মৃত ইয়াকুব মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে মাওঃ মাহফুজুল হকের ছেলে নেছার আহম্মেদ, নিজাম উদ্দিন, এনাম মিয়া, মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে গোলাম কিবরিয়া খিজির, মৃত তাহের মুন্সির ছেলে আমির হোসেন কুট্টি দলবদ্ধ হয়ে ভবন নির্মাণে বাঁধা দিয়ে চাঁদা দাবি করে। বিদ্যালয়ের পক্ষ হয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মহিউদ্দিন দুলাল নির্মাণ কাজ পরিচালনা করে আসায় তাঁর কাছে ওই চাঁদা দাবি করা হয়। এতে দুলাল চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় প্রতিপক্ষ নেছার আহম্মদ গং একের পর এক মিথ্যা মামলা ও জিডি করে তাকে হেনস্ত করছে।
অভিযোগে আরো প্রকাশ মাওঃ মাহফুজুল হক রোডস এন্ড হাইওয়ের বিশাল সম্পত্তি দখল করে ২০টি দোকান ঘর করে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকা সেলামি নিয়ে মাসিক ভাড়া আদায় করে দখল বানিজ্য করছে। তার দখল বানিজ্যের কারণে রোডস এন্ড হাইওয়ের রাস্তা সরু হয়ে পড়ায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে।
অপর দিকে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, ১৬ জানুয়ারী ২০১৬ তারিখে ২০তম অধিবেশনে বিদ্যালয়ের দীঘি (সাহেবের দীঘি) দক্ষিণ পাশে সড়ক ও জনপথ রাস্তা ঘেষে ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ১৩ ফুট প্রস্থ প্রাথমিক ভাবে ১০টি কক্ষ করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ওই ১০টি কক্ষ ভাড়াটিয়াদের মাঝে ভাড়া দিয়ে বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত আয়ের পথ সৃষ্টির জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিভাবক সদস্য মোঃ মহিউদ্দিন, বিদ্যোতসাহী মোঃ আশরাফ ছিদ্দিকী, অভিভাবক সদস্য মোঃ আবদুল গফুর, সহকারী শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন ও মোঃ মাহফুজুর রহমান সহ ৫সদস্য একটি উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা নির্মাণ কাজ পরিচালনা করছে। তাছাড়া পুকুর (দিঘী) ২.৬৯ একর সম্পত্তির মধ্যে বিদ্যালয় আদালত স্বীকৃত ২.১২ একর সম্পত্তির মালিক। অবশিষ্ট ৫৭ শতক নিয়ে ১০জন মালিকদের মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। ওই ৫৭ শতকের উপর বিদ্যালয় দখলে নেই এবং দখল করেনি। আরএস খতিয়ান মূলে ২.৬৯ একর মালিক হওয়া সত্বেও বিএস খতিয়ানে বিদ্যালয়ের নামে সাবেক ৪০৪ দাগে হালে ৩১০ দাগে ২.৬৫ একরের মালিক। কিন্তু বিদ্যালয় ওই সম্পত্তির মালিক হওয়া সত্বেও মাত্র ১৮ ফুট দৈর্ঘ ও ১৩ ফুট প্রস্থের উপর ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করলে প্রতিপক্ষের লোকজন বাঁধা প্রয়োগ করে। বিদ্যালয়ের স্বার্থে অভিভাবক সদস্য মোঃ মহিউদ্দিন দুলাল সর্বোপরি সহযোগিতা করায় তাকে অহেতুক বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করছে তারা।
বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিমাই চন্দ্র দাস জানান, সাহেবের দীঘির দক্ষিণ সওজ এর রাস্তার পাশে বিদ্যালয়ের নিজ মালিকীয় সম্পত্তি রয়েছে। বিদ্যালয়ের সম্পত্তির সামনে ৪৬নং খতিয়ানভূক্ত ৩৭৯ দাগে ৭০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থ সম্পত্তি জেলা পরিষদ মালিক বলে কসবা গ্রামের মৃত আবুল তোরাবের ছেলে মোঃ শাহাদাত হোসেন এবং খিতারপাড় গ্রামের মৃত শামছুল হকের ছেলে মোঃ নজরুল ইসলাম স্বপন ২০১৪ সালে লীজ নেয়। পরে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নগদ ৫০হাজার ও চেকের মাধ্যমে ১লাখ ২০হাজার সহ মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্য দরে নজরুল ইসলাম স্বপন ও শাহাদাত হোসেন দাতা হয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ গ্রহীতা হয়ে তা গ্রহন করে।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মোঃ মহিউদ্দিন দুলাল জানান, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে সাহেবের দিঘীর দক্ষিণ পাশে ভবন নির্মাণ কাজের সার্বিক দায়িত্ব আমি পরিচালনা করছি। ওই সুবাদে কাজের শুরুতে প্রতিপক্ষগণ আমার নিকট চাঁদা দাবি করে। আমি বিদ্যালয়ের কাজে চাঁদা দাবি করায় দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা কাজটি বন্ধ করে দেয় এবং আমার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ মাওঃ মাহফুজুল হক তার পুত্রকে দিয়ে আদালতে ৩টি মামলা ও শাহরাস্তি মডেল থানায় ২টি সাধারণ ডায়রী করেন। প্রতিপক্ষের লোকদের সাথে আমার ব্যক্তিগত মতোবিরোধ থাকতে পারে কিন্তু বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ সংক্রান্ত বিষয়ে আমাকে অযথা মামলা ও জিডি করে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি হয়রানির উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।
বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান জানান, আমি দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র দু মাস হবে। সম্পূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। তবে গত ২৬ নভেম্বর শনিবার থানায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সম্পত্তি দাবীকারী ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক হয়। তাতে আদালতের মামলা নিষ্পত্তি পর্যন্ত উভয় পক্ষকে কোন স্থাপনা নির্মাণ না করা সহ শান্তিশৃংখলা বজায় রাখার জন্য বলা হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত মাওঃ মাহফুজুল হকের সাথে বেশ ক’বার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবী, অভিযুক্ত মাওঃ মাহফুজুল হক বিদ্যালয়ের সম্পত্তি ছাড়াও সড়ক ও জনপদের বিশাল সম্পত্তি দখল করে প্রায় ২০টি দোকানঘর নির্মাণ করে লক্ষাধিক টাকা সেলামি নিয়ে ভাড়া দিচ্ছেন। তার দখল বাণিজ্যের কারণে জনগনের চলাচলের রাস্তা সরু হয়ে পড়েছে। এতে জনসাধারণ সহ স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে রাস্তা পারাপার হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা অতিব জরুরী।
