প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে যার রিকশাভ্যানে চড়ে গ্রাম ঘুরেছিলেন, সেই কিশোর ভ্যানচালক ইমাম শেখ চাকরি পাচ্ছে বিমানবাহিনীতে। আর সেই রিকশাভ্যানটি জাদুঘরে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
গতকাল রবিবার সকালে যশোর বিমানবাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটির স্কোয়াড্রন লিডার হারুন-উর-রশিদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল টুঙ্গিপাড়ায় সরদারপাড়া গ্রামে ইমাম শেখের বাড়িতে যান এবং চাকরির বিষয়টি জানায়। ইমাম শেখের অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে ৪০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয় ইমামের মা শাহানূর বেগমের হাতে।
পরে ইমামকে নিয়ে প্রতিনিধিদলটি জেলা শহরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বাসায় যায়। এ সময় সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, সহসভাপতি শেখ রুহুল আমিন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ দাউদ উপস্থিত ছিলেন। দুপুরে ইমামকে নিয়ে বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা যশোরের উদ্দেশে রওনা হন। সঙ্গে নেওয়া হয়েছে সেই রিকশাভ্যানটিও।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বলেন, ‘সরকারপ্রধানকে ইমাম তাঁর ভ্যানে চড়িয়ে ঘুরিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ জন্য বিমানবাহিনীতে তার চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। ’ তিনি জানান, ইমাম শেখের রিকশাভ্যানটি জাদুঘরে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ভ্যানচালক ইমাম তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার এবং আমার পরিবারের প্রতি যে সহানুভূতি দেখিয়েছেন তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। আমি ভাষা দিয়ে আমার অনুভূতি জানাতে পারছি না। আমি আল্লাহর কাছে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করি। ’
ইমামের মা শাহানুর বেগম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মতো একজন মানুষ আমার ছেলের ভ্যানে উঠে এলাকা ঘুরে বেড়িয়েছেন, এটাই আমাদের জন্য বড় পাওয়া। তারপর আবার আমাদের জন্য তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের মতো গরিবদের মূল্যায়ন করেছেন, এটা দেখে আমরা খুব খুশি হয়েছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আল্লাহ যেন তাঁকে ভালো রাখেন। ’
