দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রবাসী স্বামীর স্বর্ণালংকারসহ ৮ লাখ টাকা গোপনে প্রেমিক সবুজকে দেয়ার ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রেমিকা কুলছুমা কর্তৃক নিজেই নিজের ঘরে মিথ্যা চুরির নাটক সাজানোর রহস্য অবশেষে প্রকাশ হয়ে পড়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন পরিষদ সালিশে প্রথমে শিশুপুত্র এবং পরে কুলছুমার নিজের মুখ দিয়েই বেরিয়ে আসে নিজের ঘরে সাজানো চুরির গোপন উদ্দেশ্য। হাজীগঞ্জ উপজেলার ঘোগড়া গ্রামে প্রবাসী কাদির বেপারীর ঘরে সম্প্রতি নাটকীয় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে জিডি’র সূত্র ধরে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ পরকীয়া প্রেমিক টোরাগড় গ্রামের চিহ্নিত বাটপার সবুজকে হণ্যে হয়ে খুঁজছে।
অপরদিকে কুলছুমা ও সবুজের দীর্ঘদিনের গোপন পরকীয়া সম্পর্কের আগুনে পুড়ে নীরিহ ও অসহায় ফজিলুদ্দিন বেপারীর পরিবার আজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে কুলছুমা তার কতিপয় কুচক্রি সঙ্গী ও আত্মীয়-স্বজনের গোপন শলাপরামর্শে উল্টো কোর্টে মিথ্যা মামলা দিয়ে ওই অসহায় ও নীরিহ পরিবারকে ব্যাপক হয়রানি করছে। শুধু তা-ই নয়, কুলছুমা সবুজের সাথে তার নিজের পাপের দোষ ঢাকতে কোর্টে মামলা ঠুকে দেয়ার পূর্বেই চাঁদপুরের একটি অনলাইন মিডিয়ায় সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও সাজানো একটি সংবাদ প্রচার করে এলাকার লোকজনকে ব্যাপক বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালায়। কুলছুমা ও তার কুচক্রি সঙ্গী এবং আত্মীয়-স্বজনের এহেন চুরি চুরি সিনা জুরির ঘটনায় এলাকার সচেতন জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ এবং মারাত্মক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (৩জুলাই) স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকের বেশক’জন সাংবাদিক সরজমিনে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন।
এলাকাবাসী জানায়, একই উপজেলার রাজারগাঁও গ্রামের অজি বাড়ির মোঃ মানিক মোল্লার কণ্যা কুলছুমা বেগমের সাথে ১২ বছর পূর্বে দুবাই প্রবাসী কাদির বেপারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন মা-বাবা, ভাই-বোনদের সাথে যৌথ পরিবারে বেশ সুখে-শান্তিতেই কাটছিলো। কাদির মাঝে মাঝে দেশে আসতো এবং তাদের সংসারে জিল্হজ্ব ও জান্নাত নামে এক পুত্র ও এক কণ্যা সন্তানের জন্ম হয়। এভাবে প্রায় ৯বছর কেটে যায়। বর্তমানে জিল্হজ্ব (১১) ও জান্নাত (৯) বাকিলা আল্-আমিন মডেল একাডেমির ৪র্থ ও ২য় শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। তাদেরকে স্কুলে আনা-নেয়ার পথে সবুজের সাথে কুলছুমার পরিচয় ঘটে। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে গভীর মন দেয়া-নেয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এহেন পরকীয়া প্রেমকে গভীর মধুর সম্পর্কের প্রেমে গড়ে তুলতে কুলছুমা নানা অযুহাতে ফজিলুদ্দিন বেপারীর যৌথ সংসার থেকে আলাদা হয়ে ওই বাড়িতেই আলাদা ঘরে সন্তানদের নিয়ে থাকা শুরু করে। এতে সবুজ দীর্ঘ সময় ধরে কুলছুমার সাথে মুঠোফোনে প্রেমালাপ করতে থাকে এবং প্রায় প্রতিদিনই গভীর রাতে মোবাইলে মিসকল দিয়ে গোপনে কুলছুমার ঘরে আসা-যাওয়ার মাধ্যমে রাত্রিযাপন করতে থাকে। চতুর সবুজও গভীর দৈহিক সম্পর্কের এই সুযোগে কুলছুমার কাছ থেকে নানা ছলছুতায় টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়া শুরু করে। এভাবে সবুজ দীর্ঘ ৩বছরে নগদ টাকা ও ৭/৮ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৮লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে কেটে পড়ে।
সবুজ সটকে পড়ার পর কুলছুমা বেদিশা হয়ে পড়ে এবং তার ঘরে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৮ লাখ টাকা চুরির মিথ্যা ঘটনার নাটক সাজায়। -যা স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত সালিশে উভয় পক্ষের অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে প্রথমে জিল্হজ্ব মিথ্যা চুরির সাজানো নাটকের সমুদয় ঘটনা ফাঁস করে দেয়। পরে একপর্যায়ে কুলছুমা নিজেই সালিশে সকলের সামনে সবুজের সাথে তার দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমের গভীর সম্পর্ক, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৮লাখ টাকা প্রেমিক সবুজকে দেয়ার কথা এবং নিজের ঘরে নিজেই মিথ্যা চুরির ঘটনা সাজানোর কথা অকপটে স্বীকার করে। এমতাবস্থায় উক্ত দরবার-সালিশে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে, কাদির বেপারী দুবাই থেকে না আসা পর্যন্ত কুলছুমাকে তার বাবা-মা তাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে রাখবেন। উক্ত দরবার-সালিশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২নং বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান মিলন, ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ মানিক, ৪,৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার লুৎফা বেগম, চাঁদপুর জেলা যুবলীগের সদস্য মোঃ শাহ্আলম হোসেন রবিন, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি নাজমুল হোসেন নয়ন, ৪নং শাহ্মাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান হাওলাদার সাজু, ৫নং রামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি যথাক্রমে আঃ মান্নান বেপারী, মোঃ বিল্লাল বেপারী, মোঃ হানিফ বেপারী, মোঃ ফারুক বেপারী প্রমূখ।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, উক্ত দরবার-সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কুলছুমার পিতা-মাতা কুলছুমাকে তাদের বাড়িতে না নিয়ে কাদির বেপারীর ঘরে রেখে যায়। পরবর্তীতে কুলছুমার পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন ও কুলছুমার কুচক্রি সঙ্গী কুলছুমার পরকীয়ার পাপ ধামাচাপা দেয়ার জন্য সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘কুলছুমাকে শ্বশুর বাড়িতে জোরপূর্বক আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে’ মমে কোর্টে সম্পূর্ণ মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিয়ে কোর্ট ও থানা-পুলিশের মাধ্যমে কুলছুমাকে উদ্ধারের নামে কুলছুমার বাবা-মা তাদের বাড়িতে কুলছুমাকে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কাদির বেপারীর ছোট ভাই মোঃ সোহেল বেপারী হাজীগঞ্জ থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘আমার ভাইয়ের সংসার ধ্বংসের পেছনে কুলছুমা ও সবুজের গোপন সম্পর্কই দায়ী। তাদের কারনে আমাদের ভাতিজা ও ভাতিজির জীবন আজ ধ্বংসের পথে। আমরা সকল অপকর্মের হোতা কুলছুমা ও সবুজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি’। তিনি আরো জানান, ‘আমার ভাবি কুলছুমা নারায়ণগঞ্জে তার বাবার নতুন ক্রয় করা বাড়িতে আমার ভাইকে ফ্ল্যাট দিবে বলে আমার ভাইয়ের কাছ থেকে ১০লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পরবর্তীতে এই বেঈমানরা আমার ভাইকে কোনো ফ্ল্যাটও দেয়নি এবং এমনকি ১০লাখ টাকাও ফেরত দেয়নি’। এমতাবস্থায় ভূক্তভোগী, অসহায় ও নীরিহ ফজিলুদ্দিন বেপারী এবং এলাকাবাসীর জোর দাবি, পরকীয়া প্রেমের নায়ক সবুজকে অবিলম্বে খুঁজে বের করে স্বর্ণালংকারসহ উক্ত প্রায় ৮ লাখ টাকা উদ্ধার স্বাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধী সবুজকে আইনের আওতায় আনা হোক। তাহলেই কেবল থলের বিড়ালের ন্যায় সকল রহস্যই ধীরে ধীরে বেরিয়ে পড়বে বলে অভিজ্ঞ ও পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন।
শিরোনাম:
রবিবার , ১৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
চাঁদপুর নিউজ সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

