হাজীগঞ্জে রহিমা আক্তার (১৫) নামে এক প্রবাসীর কন্যা আত্মহত্যা করেছে। গতকাল সোমবার সকালে রহিমা সবার অগোচরে নিজ বসতঘরের অাঁড়ার সঙ্গে ফাঁস দেয়। ঘটনার পর হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়ন তদন্তের জন্যে মর্গে প্রেরণ করেছে। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের মধ্য সন্না গ্রামের বেপারী বাড়িতে। রহিমা ওই বাড়ির কলমতর হোসেনের মেয়ে। সে এ বছর বাকিলা ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে জেডিসি পরীক্ষার্থী ছিলো।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে রহিমা তার মা ও ভাই-বোনদের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ফুলছোঁয়া সর্দার বাড়িতে নানীর মৃত্যু পরবর্তী মিলাদে অংশগ্রহণ করে। পরে মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে নিজেই বাড়ি চলে আসে। বাড়িতে এসেই সে সবার অগোচরে ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘরের অাঁড়ার সাথে ফাঁস দেয়। এ ঘটনার অনেক পরে রহিমার ছোট বোন রাবেয়া বাড়িতে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে বোনকে ডাকতে থাকে। ভেতর থেকে বোনের কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রাবেয়া বেড়ার ফুঁটো দিয়ে দেখে বড় বোন ঝুলছে। তখন রাবেয়ার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘরের বেড়া ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে লাশ নামিয়ে আনে। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ এসে ময়না তদন্তের জন্যে লাশ মর্গে পাঠায়। বিকেলে ময়না তদন্ত শেষে রহিমার লাশ রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
রহিমার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ওমর ফারুক জানান, জেডিসি পরীক্ষার মূল্যায়ন পরীক্ষা চলছে। আজ (সোমবার) সকাল ১০টায় আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষায় রহিমার অনুপস্থিতি দেখে খবর নিয়ে জানতে পারি সে আত্মহত্যা করেছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, লাশ উদ্ধার ও ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তদন্ত রিপোর্ট আসার পরেই বিষয়টি পরিষ্কার জানা যাবে।
