বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৩ দিনের অবরোধের শেষ দিনে চাঁদপুর রেললাইনে অগ্নিসংযোগ ও যাত্রীবাহী লঞ্চ ভাংচুর করে চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
গতকাল সকালে অবরোধকারী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকায় রেল লাইনে টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এ ছাড়া অবরোধকারীরা কয়লাঘাট ও লঞ্চঘাট এলাকার সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে দেয়। দুপুর ১টায় পুরাণবাজার থেকে আসা ছাত্রদলের একটি গ্রুপ ট্রলারযোগে নদীতে নেমে পড়ে। চাঁদপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া নারায়ণগঞ্জগামী এমভি তৃণা ও পট্টির উদ্দেশ্য ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী এমভি লামিয়া লঞ্চটিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে লঞ্চ দু’টির ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ প্রহরায় চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী এমভি আবে জমজম লঞ্চটি ছেড়ে যায়। এ ছাড়া অবরোধকারীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে পিকেটিংসহ বেশ ক’টি গাড়ি ভাংচুর করে। শহরের বড় স্টেশন এলাকায় অবরোধ সৃষ্টিকালে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় অবরোধকারীরা বেশ কিছু ককটেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে পুলিশ আটক করে। তাছাড়া চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিক্ষিপ্ত সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।
গত ৩ দিনে অবরোধ চলাকালে পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে ২৫ জন পিকেটারকে আটক করে। গতকালও চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে ছিলো পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা। দুপুরের পর বিভিন্ন স্পটে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের খোঁজ খবর নেন পুলিশ সুপার আমির জাফর ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রাকিব উদ্দিন আহমদ ঘোষিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখ্যান করে প্রথমে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অবরোধের ২য় দিনে ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারসহ সহিংসতার কারণে বুধবার রাতে ফের ২৩ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহম্মেদ।
অবরোধের শেষ দিনে সকালে চাঁদপুরে ১৮ দলীয় জোট জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উক্ত কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এসএম কামাল উদ্দিন চৌধুরী, শরীফ মোঃ ইউনুছ, যুগ্ম সম্পাদক দেওয়ান সফিকুজ্জামান, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তার মাঝি, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান গাজী, জেলা যুবদলের সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, শহর জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যাপক আরিফুলস্না, শহর যুবদলের আহ্বায়ক আঃ কাদির বেপারীসহ অন্য ১৮ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ।
জেলা বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন চাঁদপুর জেলার পক্ষ থেকে শহরের বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। অবরোধ কর্মসূচিকে সফল করতে নেতৃবৃন্দ একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এতে অংশ নেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন খান বাবুল, কাজী গোলাম মোসত্দফা, যুগ্ম সম্পাদক শাহনেওয়াজ খান, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অ্যাডঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খান, বিএনপি নেতা অ্যাডঃ মেহেদী হাসান জসীমসহ নেতৃবৃন্দ।
অবরোধের সমর্থনে শহরের তালতলা এলাকা থেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অ্যাডঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খান ও সদস্য সচিব হযরত আলীর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে অংশ নেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সোলায়মান ঢালী, যুগ্ম আহ্বায়ক খোকন মিজি, শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেরাজ চোকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক আকবর মাতাব্বরসহ জেলা, উপজেলা ও শহর নেতৃবৃন্দ।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ বাহারের নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ কোর্ট স্টেশন এলাকা ও বকুলতলায় রেল লাইনে অগ্নিসংযোগ ও পিকেটিং করে। দুপুরে লঞ্চঘাট এলাকায় বেশ কটি লঞ্চ ভাংচুরের চেষ্টা করে।
এ ছাড়া চাঁদপুর সরকারি কলেজ গেট এলাকায় ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ নেতা-কর্মীরা একটি রিঙ্ায় অগ্নিসংযোগসহ বেশ কটি ককটেল বিস্ফোরণ করে। এ সময় আগুন নেভাতে গিয়ে বেশ ক’জন পুলিশ সদস্য আহত হন। তবে চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে গতকাল ঈগল, আবে জমজমসহ নারায়ণগঞ্জের বেশ ক’টি লঞ্চ ছেড়ে যায়।

