শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আজ উপ-নির্বাচন। এ নির্বাচনটিকে ঘিরে ভোটারদের মাঝে তেমন কোনো উৎসাহের আমেজ লক্ষ্য করা যায় নি। প্রার্থীদেরও তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ার মতো নয়। যে কোনো নির্বাচনে পাড়া-মহল্লায় আনাচে-কানাচে পোস্টারের ছড়াছড়ি থাকলেও এ নির্বাচনে পোস্টারও খুঁজে পাওয়া দায়। এ উপ-নির্বাচনের প্রথম দফায় তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী মাঠ কিছুটা জমে উঠলেও নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ভোটারদের আগ্রহে ভাটা পড়ে। শেষে মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত হওয়ার গুঞ্জন চলে এলাকায়। উপজেলা পরিষদের এ উপ-নির্বাচনে শুধুমাত্র চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছাড়াও রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গতকাল ২ অক্টোবর সকালে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ব্রিফিং করেন পুুলিশ সুপার মোঃ জিহাদুল কবির পিপিএম। এ সময় তিনি বলেন, আপনারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, কোনোভাবেই যাতে এ নির্বাচন বিতর্কিত না হয়। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আমি পুরো জেলার ফোর্স নিয়ে এসেছি। কারণ, আপনারা আমাকে বুঝবেন আমি যে দায়িত্ব দিচ্ছি তা পালন করবেন সে বিশ্বাস আমার রয়েছে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ মারুফ বক্তব্য রাখেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্যে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুটি মোবাইল টিম, পুরো উপজেলায় ৩ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে স্ট্রাইকিং ফোর্স, তিন প্লাটুন বিজিবি ও পর্যাপ্ত র্যাব সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এ নির্বাচনে তিনজন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে মোঃ কামরুজ্জমান মিন্টু, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ওবায়দুল হক মজুমদার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীক নিয়ে মোঃ বাবুল আক্তার। নির্বাচনটি নিরুত্তাপ হওয়ায় জনগণের মাঝে তেমন কোনো সাড়া জাগাতে পারেনি। অনেকের ধারণা স্বল্প সময়ের জন্যে এ নির্বাচন হওয়ায় মানুষের মাঝে আগ্রহ কম। তাছাড়া সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় সকলের দৃষ্টি এখন সে দিকে। তাই সে নির্বাচনের আগে কোনো ঝামেলায় পড়তে চান না অনেকেই। অনেকেই ধারণা করছেন এ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি হবে অনেক কম। তবে যে প্রার্থী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি করাতে পারবেন তার জন্যে জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকবে।
নির্বাচনটি জমে না উঠায় কে হবেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তা বলা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশিরভাগ জনগণেরই ধারণা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ত্রিমুখী। কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আশা করছে উপজেলাবাসী।
উল্লেখ্য, গত ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন মিয়াজী দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২৭ এপ্রিল তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। আগামী ২০ মে ২০১৯ তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ বছরের এপ্রিল মাসে তিনি হঠাৎ চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে বসেন। গত ৮ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাঁর পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে এ পদটি শূন্য ঘোষণা করে। গত ১০ জুন নির্বাচন কমিশন শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ২৫ জুলাই ভোটগ্রহণের কথা ছিল। এরই মধ্যে উপজেলার রাঢ়া গ্রামের জাকির হোসেন বাদী হয়ে আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করলে আদালত ১০ কর্ম দিবসের জন্যে এ নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে। এরপর ২২ জুলাই নির্বাচন কমিশন অনির্দিষ্টকালের জন্যে এ নির্বাচন স্থগিত করে। প্রায় দু’ মাস পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন আবার এ উপ-নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। সে অনুযায়ী আজ ভোটগ্রহণ।
