সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরে চাঁদপুর আহমাদিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমানের জুতা পেটায় খুন হয়েছে তার বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা নৌ-কমান্ডার লুৎফুর রহমান খান। শুক্রবার দুপুর ১২টায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার নয়াহাট চাঁদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লুৎফুর মৃত নুর খানের ছেলে। সে চাঁদপুর সঞ্চয় অফিসের (অবঃ) কর্মকর্তা ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ, নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে সম্পত্তিগত বিরোধর জের ধরে ছোট ভাই মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমানের নিজের জুতা দিয়ে বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা নৌ-কমান্ডো লুৎফুর রহমানের মাথায় বেশ কয়েকবার আঘাত করে। আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলে লুৎফর রহমান জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মুমুর্ষ অবস্থায় লুৎফুরের স্ত্রী হাজেরা বেগম ও ছেলে হাবিবুর রহমান সহ অন্যান্যরা তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক হামিমা তাকে দেখে মৃত বলে জানায়। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতের ছেলে হাবিবুর রহমান জানায়, তার চাচা চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার আহ্মদিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান বিগত কয়েক বছর পূর্বে তার খরিদকৃত ওয়ারলেছ বাজার এলাকায় সোয়া ৩ শতাংশ জমি তার পিতা লুৎফুর রহমানের কাছে বিক্রি করে। বিক্রির পর থেকে পুরো জায়গা বুঝিয়ে না দেওয়ায় স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমিন দিয়ে জায়গা পরিমাপ করার পর সাড়ে ৩ ফুট সম্পত্তি ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমানের দখলে চলে যায়। এ নিয়ে দু-ভাইয়ের মধ্যে একাধিকবার মত বিরোধ সৃষ্টি হয়। ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান সম্পত্তি ছেড়ে দিবে বলে অঙ্গিকার করলেও পরে তা বুঝিয়ে দেয়নি। গতকাল সকালে মোস্তাফিজুর রহমান তার গ্রামের পন্ডিত বাড়ী জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়াতে গেলে বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা নৌ কমান্ডো লৎফুর রহমান (৬২) তাকে দেখতে পেয়ে সম্পত্তির বিষয়ে জানতে চায় এরপরই ঘটনাটি ঘটে।
নিহতের ছেলে হাবিব ও পরিবারের লোকজন খুনি মোস্তাফিজুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহের জন্য তাঁর চাচার লোকজন অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সে জেলা সদরে অবস্থান করে বিধায় সব স্থানেই তার হাত রয়েছে।
অপরদিকে ছোট ভাই ঘাতক মোস্তাফিজুর রহমান বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত জেনে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে তার মুঠোফোন ০১৮২৯০৭৭৪৯৪ নাম্বারে যোগাযোগ করেলে তিনি রিসিভ না করে মামুন খান নামে জনৈক যুবক ফোনটি রিসিভ করে বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে নয়ার হাটে তার বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় আছে।
নিহতের খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার এসআই নিজাম ঘটনাস্থালে গেলে কাউকে পায়নি এবং আসামি পলাতক রয়েছে বলে জানায়। এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি জানায়, নিহতের ছেলে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে মামলা দায়ের করা হলে আমরা আসামীকে আটক করা হবে।
শিরোনাম:
সোমবার , ২৫ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

