
মোঃ আমিনুল ইসলাম ঃ-
সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সরব হয়ে উঠছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই নানামুখী কৌশলে প্রচারণা শুরু করেছে। প্রার্থীরা ইউনিয়নের নাগরিকদের মন জয়ের চেষ্টায় তৎপর। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতারা বসে নেই। নিমন্ত্রণ-দাওয়াত বাদ দিচ্ছেন না কেউ। প্রতিটি সামাজিক অনুষ্ঠানে ভিড় করেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি সমর্থকদের দিয়ে ডিজিটাল পোস্টার, ব্যানার টানানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পেজ-গ্রুপ খুলে কৌশলী প্রচারণায় নেমেছেন প্রায় সবাই। শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে অনেকে তাদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি সাধারণ ভোটারের সামনে তুলে ধরতে চাইছেন। অনেকে ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙ্গিয়ে এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দোয়া কামনা করেছেন।
ইতোমধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন জনসাধারণের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও এলাকার পাড়া-মহল্লায়,সভা ও উঠান বৈঠক করে বেড়াচ্ছেন। বাজারের চায়ের দোকান ও গ্রামের দোকান সমুহে এখনই গভীর রাত্র পর্যন্ত কে প্রার্থী হচ্ছেন,কে প্রার্থী হলে ভালো হবে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করছেন।
এদিকে দেশে প্রথমবারের মতো স্থানীয় নির্বাচন দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে আয়োজনের আইন পাস হওয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের ও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। অনেক প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় নিজ নিজ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে লবিং শুরু করেছেন। শীর্ষ নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন বলে ও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
এবার দলীয় প্রতীকে প্রার্থী মনোনয়ন হওয়ায় বিদ্রোহী হওয়ার সুযোগ না থাকায় সব দলের শীর্ষ নেতারা রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। নেতাদের মতে, এবার তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারের মন জয় করতে মাঠে নেমে পড়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তারা তৃণমূলের কার্যক্রম ঠিক রেখে হাইলেভেলে জোর তদবির ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
এবার সুচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করতে নির্বাচনী মাঠে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে ৬ জন এবং বিএনপি থেকে ৫ জন প্রার্থীতা ঘোষনা করেছেন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে নানা হিসাব নিকাশ। দল থেকে কাকে সমর্থন দেয়া হবে তা নিয়ে তৈরী হয়েছে এক ধরণের অনিশ্চয়তা।
এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সুচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ-বিএনপির বেশ ক’জন প্রার্থী মাঠে বিচরণ করছেন। গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হন সাবেক ছাত্রনেতা ও উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান পাটোয়ারি।
এবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকের দাবিদার ৭ জন প্রার্থী। তারা হলেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল মজুমদার, যুবলীগ নেতা মোঃ মেশকাত হোসেন বিটু, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সহসভাপতি মোঃ সেলিম খান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ নজরুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন মজুমদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও যুবলীগ নেতা মোঃ কবির হোসেন মিয়াজি, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান।
এবার বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকের দাবিদার ৫ জন প্রার্থী। তারা হলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রনেতা ও উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান পাটোয়ারি, জেলা যুবদলের সহসভাপতি আলী হোসেন মন্টু, ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোঃ আলী আকবর ব্যাপারী, উপজেলা বিএনপি’র অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ তাফাজ্জল হোসেন ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মনির হোসেন।
সূচীপাড়া দক্ষিণ
এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সূচীপাড়া দক্ষিন ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ-বিএনপির বেশ ক’জন প্রার্থী মাঠে বিচরণ করছেন। গত নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন ৪ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ গোলাম মোস্তফা।
এবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকের দাবিদার ৫ জন প্রার্থী। বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী ৫ জন। যথাক্রমে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক মোঃ মাসুদ আলম, আওয়ামীলীগ নেতা মাহাতাব উদ্দিন, ইউপি যুবলীগের আহ্বায়ক মোঃ মনির হোসেন, বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন, ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আবুল কাশেম মোল্লা, সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন সর্দার, শাহাদাত হোসেন মাষ্টার মোঃ আবদুর রশিদ ও জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া। সকলেরই প্রত্যাশা দলীয় নেতাদের মন জয় করে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার মাধ্যমে ইউপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করা।
