স্টাফ রিপোর্টার ॥
কচুয়া উপজেলার গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নের উচিতগাবা হাজী বাড়ির ইব্রাহিম খলিল বেলু মিয়ার বড় ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের (৩৫) ঢাকায় মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার ঝড় বইছে। গতকাল শনিবার বিকেলে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে এসে পেঁৗছলে এলাকার শত শত জনতা ও পরিবারের লোকজনের মাঝে এক হৃদয় বিদারক শোকের ছায়া নেমে আসে।
জানা যায়, জাহাঙ্গীর ঢাকার বংশাল এলাকার আগাসাদিক রোডে একটি কেরামবোর্ড কারখানায় চাকুরি করত। ১৪ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে কারখানা থেকে সে ঘুরতে বের হয় এবং ৪ দিন নিখোঁজ থাকায় তার পিতা বেলু মিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে বংশাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যার নং-৮৬৭,তাং-১৮/০৮/২০১৫।
এরই মধ্যে ২১ আগস্ট শুক্রবার সকালে ঢাকা সায়েদাবাদ হুজুর বাড়ি আরকেজি চৌধুরী কলেজ রোডে অবস্থিত জাহাঙ্গীরের চাচা প্রবাসী আহম্মদ উল্লার ডিভোর্স হওয়া স্ত্রী শিমু আক্তারের বাসা থেকে জাহাঙ্গীরের লাশ যাত্রাবাড়ি থানার পুলিশ উদ্ধার করে। পরে লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই শামছুল আলম আলী জানান, শিমুর পরিবারদের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে এবং ৭/৮ মাস পূর্বে চাচা আহম্মদ উল্লা চাচী শিমুকে ডিভোর্স দেন। জাহাঙ্গীর নিখোঁজ হওয়ার পর চাচী শিমু আমাদের পরিবারের সদস্যদেরকে বেশ কবার মোবাইল ফোনে জানান, জাহাঙ্গীরকে ডিবি ধরে নিয়ে গেছে। তোরা আর তাকে খুঁজে পাবি নাসহ বিভিন্ন হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল। আলী আরও জানান, ঢাকায় শিমুর বাসা সংলগ্ন স্থানীয় লোকজন থেকে তিনি জানতে পারেন জাহাঙ্গীর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে চাচী শিমুর বাসায় ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে জাহাঙ্গীর স্ট্রোক করেছে বলে শিমু তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা দিলে শিমু জাহাঙ্গীরের লাশ তার নিজ বাসায় এনে গুম করার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে মেডিকেল মর্গে প্রেরণ করে। আলী ও তার পরিবারের লোকজন দাবি করছে, জাহাঙ্গীরকে পরিকল্পিতভাবে চাচী শিমু হত্যা করেছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে ফেলে তারা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তার লাশ গতকাল শনিবার গ্রামের বাড়িতে আসলে বাদ মাগরিব জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ফারুকী, শহীদ উল্লা ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা জহির মোল্লাসহ এলাকাবাসী।
