
প্রতিনিধি
কচুয়া উপজেলার উত্তর আশ্রাফপুর গ্রামের মুন্সী বাড়ির মনির হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী শিউলি আক্তারের (৩৫) আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। সে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছে কিনা এ প্রশ্নের ঝড় বয়ে যাচ্ছে এলাকাবাসীর মাঝে। শুক্রবার শেষ রাতে শিউলী নিজ গৃহে মারা যান।
জানা গেছে, মনির হোসেনের রয়েছে দুই স্ত্রী। তার দ্বিতীয় স্ত্রী শিউলি আক্তারের জন্মস্থান বরিশালে। শিউলি ঢাকার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে প্রায় ২০ বছর পূর্বে চাকুরি করাকালীন তার উপর নজর পড়ে মনির হোসেনের। নানা কৌশলে মনির হোসেন শিউলি আক্তারকে বিয়ে করেন। বর্তমানে মনির হোসেনের প্রথম স্ত্রী শাহিনের সংসারে ৩ মেয়ে, ১ ছেলে এবং দ্বিতীয় স্ত্রী শিউলি আক্তারের সংসারে ১ ছেলে রয়েছে। শিউলি আক্তারের ছেলে মামুন পয়ালগাছা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্র। গত ক’বছর যাবৎ পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে মনির ও শিউলির মধ্যে চরম বিরোধ চলে আসছে। প্রায়ই মনির শিউলিকে শারীরিক নির্যাতন করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২০ জুন শুক্রবার শেষ রাতে মনিরের শারীরিক নির্যাতনে শিউলি আক্তার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে বলে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন উঠে। গতকাল শনিবার সকালে শিউলি আক্তারকে কচুয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্মরত ডাক্তার শিউলিকে দেখা মাত্র বলে উঠেন ‘মৃত ব্যক্তিকে এখানে নিয়ে এসেছেন কেন’। স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, মৃত শিউলিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ রূপে মনিরের সাজানো নাটক। অর্থাৎ শিউলির মৃত্যুর মূল কারণ ধামাচাপা দিতে মনির এ কৌশলী পন্থা অবলম্বন করে।
এদিকে শিউলি আক্তারকে পিটিয়ে অথবা শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এমনি সংবাদ সমগ্র এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার এক পর্যায়ে বেশ ক’জন স্থানীয় সাংবাদিক ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে মনিরসহ বাড়ির লোকজনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকদের দেখামাত্রই মনিরের মেজাজ তুঙ্গে উঠে যায়। তিনি বলেন, এখানে সাংবাদিকদের কোনো কাজ নেই, যা কাজ শুধু পুলিশের, কোনো সাংবাদিক শিউলির মৃত্যু নিয়ে উল্টাপাল্টা লেখালেখি করলে তাদের হাত কেটে ফেলা হবে। এদিকে পুলিশ এক মহিলা গ্রাম পুলিশকে দিয়ে শিউলির মৃতদেহের সুরতহাল করায়। ওই মহিলা গ্রাম পুলিশ মনিরের একান্ত পছন্দের লোক বলেও লোকমুখে ব্যাপক গুঞ্জন উঠে। এ মহিলা গ্রাম পুলিশ শিউলির মরদেহ পর্যবেক্ষণ করে ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া কচুয়া থানার এসআই মোঃ নাছির উদ্দীনকে জানায়, শিউলি আক্তারের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এ গ্রাম পুলিশের বরাত দিয়ে এসআই নাছির উদ্দীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনকে জানান, শিউলি আক্তারের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি একই কথা বলেন সাংবাদিকদেরও। কিন্তু উপস্থিত লোকজন এসআই নাছির উদ্দীনের এ দাবিকে সহজভাবে মেনে নেয়নি। এদিকে সাংবাদিকরা মনিরের বাড়ির ও আশপাশের বাড়ির লোকজনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। এ সময় মনিরের মদদপুষ্ট কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল যুবক কারা সাংবাদিকদের সাথে কি কথা বলে সে ব্যাপারে কড়া নজরদারি রাখে। তাদের চোখ রাঙ্গানিতে সাংবাদিকরা যার সাথেই কথা বলতে চেয়েছে সে তড়িগড়ি করে স্থান ত্যাগ করে। সাংবাদিকসহ এলাকার বিশিষ্টজনদের সামনে মনির হোসেনের আচরণ ছিল খুবই মারমুখী ও অশালীন।
স্থানীয় অধিবাসীরা জানায়, মনির একটি রাজনৈতিক দলের নেতা বলে দাবি করে আসছে। তার রয়েছে একটি বাহিনী। ওই বাহিনীর দ্বারা অপরাধ জগতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে সে। বিশেষ করে সে একজন মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী। ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের সে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তার আশীর্বাদপুষ্ট মাদকসেবী চক্রের ভয়ে স্থানীয় অধিবাসীরা মুখ খুলতে সাহস পায় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় ক’ব্যক্তি জানায়, তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী আমুজান বাজারে প্রায় ১ মাস পূর্বে একটি দোকানে শিউলিকে নিয়ে ওই দোকানের সার্টার টেনে তাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে মনির। এদিকে মনিরের বিরুদ্ধে এতসব অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও তার স্ত্রী শিউলি আক্তারের পোস্টমর্টেম ব্যতীত কেনো তাকে দাফন করা হয়েছে এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর কাছে প্রকট হয়ে উঠেছে।
