প্রতিনিধি ভাঙ্গা সড়ক আর ধুলাবালুতে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে কচুয়া-হাজীগঞ্জ ভায়া গৌরিপুর আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারীদের। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সব ঋতুতেই ধুলায় আচ্ছন্ন থাকে এ সড়কটি। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষার জন্যে দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়েছে এ সড়কে চলাচলকারীরা। চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় কচুয়া-হাজীগঞ্জ-গৌরিপুর ভায়া ঢাকা সড়কে ৩২ কিঃমিঃ রাস্তার চাঁদপুর অংশে ১৮ কিঃমিঃ রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল রয়েছে।
কচুয়ার ঘাগড়া থেকে পৌরসভার বিশ্বরোড হয়ে হাজীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় রাস্তাটির অনেক জায়গায় পিচ ঢালাই, পাথর ও খোয়া ওঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙ্গাচুরা সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, বিকল হচ্ছে যানবাহন। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চালক ও যাত্রীদের। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে গাড়ি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ, রায়পুর, হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি, চাঁদপুর ও কচুয়ার বিভিন্ন যানবাহনে যাত্রীসাধারণ চলাচল করা ছাড়াও পণ্য, মালামাল আনা-নেয়া করে থাকে। এ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় এখন যাত্রীসাধারণ বহনকারী যানবাহন ছাড়াও প্রায় মালবাহী ট্রাক, সিএনজি স্কুটার, রিক্সা ও অটোরিক্সা গর্তে পড়ে উল্টে গিয়ে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে এবং একবার এ রাস্তা দিয়ে যারা আসেন পুনরায় আর কেউ এ সড়কে যেতে চায় না। তাছাড়া ভাড়া দ্বিগুণ হওয়ায় ও ধুলাবালুতে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।
এ সড়কে চলাচলকারী সুরমা বাসের চালক আঃ রহিম মিয়া জানান, পুরো সড়ক যেনো ধুলার রাজ্য। নিঃশ্বাস নেয়ার উপায় নেই। আবার একটু বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। রাস্তার গর্তগুলো দেখে যেনো মনে হয় এটি সড়ক নয়, যেনো ফসলি জমির জন্যে তৈরি ক্ষেত। অন্য কোনো কাজ না জানা থাকায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কোনো রকম বেঁেচ থাকার জন্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে যাত্রীদের আনা-নেয়া করি।
এসব সড়কের সংস্কার সম্পর্কে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকোশলী সুব্রত দত্ত বলেন, কচুয়া-হাজীগঞ্জ ও কচুয়া-গৌরিপুর ৪২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কুমিল্ল্লা জেলা অংশে ১০ কিলোমিটার। বাকি চাঁদপুর জেলার ৩২ কিলোমিটারের মধ্যে (কচুয়া ও হাজীগঞ্জ অংশে) ১১তম হতে ২৪তম অংশ (১৪ কিলোমিটার) সংস্কার করা হয়েছে। বাকি ১৮ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ করার জন্যে ৭৮ কোটি দুই লাখ টাকার তৈরি করা প্রাক্কলন সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদনের পর এখন একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সরজমিনে গিয়ে আরও জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কচুয়া উপজেলার ৩শ’ ১১ কিলোমিটার পাকা রাস্তার প্রায় ৭০ ভাগেরই বেহাল অবস্থা। এ রাস্তা মেরামতের বিষয়ে কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ বলেন, জরাজীর্ণ রাস্তার মধ্যে প্রায় ১শ’ কিলোমিটার রাস্তার তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। আশা করি, এসব রাস্তার কাজের দ্রুতই অনুমোদন পাওয়া যাবে।
