শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥ চাঁদপুর কোর্টষ্টেশন ও গেট ঘর(গুন্ডি ঘর) এর সামনে অবৈধ ফলের দোকানের কারনে যাত্রীদের চরম ভাবে চলাচলে বিগ্ন ঘটছে। ট্রেন যাত্রীরা চলাচল করতে না পারায় বড় ধরনের দূরঘটনা ঘটছে ও অনেক যাত্রীর প্রান হারিয়েছে। তাদের জীবন এখন হুমকির মুখে পরতে হয়েছে। চাঁদপুরে সচেতন মানুষের প্রশ্ন আর কত যাত্রী প্রান হারালে এ অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্টেশন রেল-লাইনের পাশ থেকে সরাবে।
সড়ক পথের অবস্থা বিভিন্নস্থানে নাজুক হওয়ায় দেশের অধিকাংশ জেলার মানুষ এখন রেলওয়ের ট্রেনের উপর নির্ভরশীল হচেছ,প্রতিনিয়ত। যার ফলে চাঁদপুর-লাকসাম রেল-পথে এখন পূর্বের চাইতে যাত্রী সংখ্যা বৃদ্বি পেয়েছে। এ সব যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে যাওয়ার প্রয়োজনে তারা হুরা করে ট্রেন থেকে নামতে ও উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অনেকে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরন করছে এবং কষ্ট শিকার করে জীবন কাটাতে হচেছ। অনেকে প্রান পর্যন্ত হারিয়ে শেষ ঠিকানা কবরে যেতে হচেছ।
রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ আসার খবর শুনলে দোকান সরিয়ে সাদা মনের মানূষের মত স্টেশন এলাকা সাদা করে ফেলে তারা নিজেরাই। আবার তাদের প্রয়োজনে তারা রেল-লাইনের ২ পার্শ্বেই শুধু নয় রেল-লাইনের উপরে পর্যন্ত তাদের দোকান বসিয়ে ব্যবসা করে যাচেছ।
একটি সুত্রে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের অত্যান্ত ব্যাস্ততম ও গুরুত্বপূর্ন স্থান চাঁদপুর কোর্টষ্টেশন এলাকা। এখানে প্রতিদিন হাজার-হাজার মানুষের সমাগম ঘটে থাকে। সে গুরুত্বপূর্ন জনাকীর্ন এলাকায় রেল-লাইনের ২ পাশের্^ গেইটঘর লাগোয়া প্রায় রেল-লাইন গেসেই অবৈধ ও বেআইনী ভাবে শতাধিক অবৈধ দোকান ও গেইট ঘরের ভিতরে রয়েছে ফলের আড়ৎ ও ফলের গোডাউন। যা” সম্পূর্ন বেআইনী। এ অবৈধ ফলের দোকানের কারনে ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের মালামাল নিয়ে উঠতে গিয়ে ও নামতে গিয়ে যানজটের কারনে রমজান মাসে শহরের আদালত পাড়ার বৃদ্বার মৃত্যুসহ এ পর্যন্ত ৩ বছরে ২৬ যাত্রী তাদের প্রান হারায়। এখানকার ব্যবসায়ী এলাকাবাসীরদের আরো অভিযোগ, এদেরকে প্রশাসনিক ভাবে সহযোগিতা করেন,স্থানীয় কোট স্টেশন মাস্টার ও রেলওয়ের এ পথের দায়িত্বে থাকা এক জন মেস্তরী। তাদের সাথে যোগাযোগ করে এ সব দোকান বসানো হয়েছে। যা” তদন্ত কালে তাদের নাম প্রকাশ পাবে।
এতে করে এ স্থান দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানের হাজার-হাজার যাত্রীদের প্রতিদিন জীবন-বাজী রেখে মারাত্বক হুমকির মধ্য দিয়ে ট্রেনে উঠতে ও নামতে হচেছ। এখানে বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রেল-লাইন থেকে ২০/৩০ ফুট দুরে ব্যবসা করে সরকারকে লক্ষ-লক্ষ টাকা রাজস্ব দিচেছ। আর অবৈধ ব্যবসায়ীরা কোন রুপ রাজস্ব না দিয়ে রেল-লাইন গেসে ব্যবসা করে লক্ষ-লক্ষ টাকার ব্যবসা করছে হরহামেশে। রেলওয়ের চট্রগ্রাম বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ আসলে অবৈধ দোকান সরিয়ে ফেলা হয়। কর্তৃপক্ষ চলে গেলে আবার দোকান বসান হয়। এখানে অবৈধ ভাবে ব্যবসা করা উল্লেখ্য যোগ্য ব্যক্তিরাহচেছ, মো: মুনাফ মিজি,লতিফ মাতাব্বর,আল-আমিন,আব্দুর রশিদ, মো: দুদু মিয়া, লাদেন মোল্লা শাহাতলী,মো: জসিম,মো; মুরাদ,মো: বাচ্চু মিয়া, মো: ইসহাক মিয়া ও কবিরাজ।
এ সব অবৈধ দোকানদারদের রেলওয়ের পক্ষ থেকে উচেছদ নৌর্টিশ দেওয়ার পর ও তারা সেখানে স্থায়ী ভাবে দোকান বসিয়ে দাপটের সাথে ক্রেতাদের সাথে প্রতারনা করে বেশী দামে ফল বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সর্ব মহলে প্রশ্ন উঠেছে,তাদের খুটিরজোর কোথায়। অবৈধ দোকানে রাতে জ¦ালানো কয়েলের আগুন থেকে অগ্নিকান্ডের সৃস্টি হয়ে বর্তমান পাকা এ গেইট ঘরটি তখন টিন ও কাঠের থাকায় আগুনে পুড়ে রেলওয়ের লক্ষ-লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধিত হয়। এত বড় দুর্ঘটনার পর ও তাদের বিরুদ্বে রাষ্টীয় সম্পদ বিনস্ট হওয়ার পর কোন মামলা বা শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। এতে করে এ সব দোকানীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
জেলা প্রশাসক গ্রীন চাঁদপুর ক্লীন চাঁদপুর ঘোষনার পর এস্থানে এ ক্লিন চাঁদপুরের হাওয়া লাগেনি। দেশের প্রধান মন্ত্রী ১ এপ্রিল চাঁদপুর আগমনে ৩দিন অবৈধ দোকান গুলো সরিয়ে রাখা হয়েছিল। এতে কোর্ট স্টেশন এলাকার এ জায়গার পরিবেশ ছিল অত্যান্ত সুন্দর ছিল। তার পর আবার প্রধান মন্ত্রী চলে যাওয়ার পরের দিন থেকে পুনরায় অবৈধ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বহাল তবিয়তে চর দখলের মত জায়গা দখল করে অবৈধ ভাবে পরিচালনা করে যাচেছ। স্থানীয় প্রশাসন আইন নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা,রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও রেলওয়ে পুলিশ নিশ্চুপ থাকায় তারা প্রতিযোগিতা করে প্রতিদিন নতুন-নতুন দোকান বসাচেছ। সম্প্রতি অবৈধ দোকান থেকে আগুন লেগে কোর্টষ্টেশন গেইট ঘরটি পুড়ে সরকারের লক্ষ-লক্ষ টাকার সম্পদ ক্ষতিসাধিত হলেও এ সব অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্বে কোন ব্যবস্থা বা আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করেনি স্থানীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচেছদের চিঠি দিয়ে উচেছদ নাকরায় তারা আরো মজবুত করে দোকান নির্মান করছে। এ সব অবৈধ দোকানদারদের খুটির জোর কোথায় তা”চাঁদপুরের সচেতন মানুষ জানতে চায়।
রেলওয়ে কোর্টষ্টেশন গেইট ঘরটি ফলের আড়ৎ হিসেবে ব্যবহার হচেছ। কিন্তু দেখার যেন কোন কর্তৃপক্ষ নেই। এখানে নাশকতা সুস্টি কারী একটি চক্র সব সময় রেলওয়ে গেইট ঘরে অবস্থান করে এলাকার ব্যবসায়ীদের থেকে জানা গেছে। আগুনে পুড়ে গেইট ঘরটি টিন সেট থেকে পাকা হওয়ায় অবৈধ ব্যবসায়ীদের পক্ষে আরো ভাল হয়েছে। তারা অবৈধ ভাবে মালামাল রাখার পর সরকারী বিদ্যুৎ ব্যবহার ও প্রতিনিয়ত টয়লেটটি ব্যবহার করে শতাধিক দোকানদার এটিকে গনশোচাগারে পরিনত করেছে। ইতিপূর্বে এ সব দোকান উচেছদ হলেও আবার দোকান বসিয়ে দাপটের সাথে চড়াদামে বিভিন্ন ফলও মালামাল বিক্রি করে যাচেছ। প্রশ্ন উঠেছে,কিভাবে গুরুত্বপূর্ন স্থানে অবৈধ ভাবে রেল-লাইনের ২ পাশের্^ ও উপরে দোকান বসানো হচেছ। ট্রেন আসছে, দেখলে দোকান সরানো হয়। আবার ট্রেন চলে গেলে দোকান বসিয়ে দোকানদারী চলছে। এ অবৈধ দোকানদারদের কারনে বৈধ ব্যবসায়ীদের সমস্যা হচেছ প্রতিনিয়ত।
এ ভাবে চলতে থাকলে আবার ও ট্রেনের নীচে যাত্রী পড়ে কাটা গিয়ে প্রান হানির আশংকা শতভাগ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে অতিগুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার পৌর মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরদাবী ও তাদের সুদৃস্টি কামনা করেছেন সচেতন শহরবাসী।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর রেলওয়ে মো: সারোয়ার আলম জানান, বিগত দিনে আমরা অবৈধ দোকান পাঠ সরিয়ে দিয়ে ছিলাম। প্রধান মন্ত্রী ১ এপ্রিল চাঁদপুর আসার পূর্বে ও অবৈধ দোকান সরিয়ে দিয়ে ছিলাম। আবার তারা বসছে। এ ব্যাপারে আবার উচেছদ করে অবৈধ দোকান সরিয়ে দিব,যাত্রীদের চলাচলের স্বার্থে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ মো: আমিনুল হক জানান, আমার অফিসের কেহ এখান থেকে কোন সুবিধা ভোগ করেনা। কয়েকবার উচেছদ করার পর আবার বসে। আমাদের এখানে স্থায়ী ভাবে ডিউটি দেওয়ার কোন লোক নেই। তাদের হাত লম্বা হওয়ায় উচেছদের পর পূনরায় বসে। তবে যাত্রীদের যাতায়তের স্বার্থে আবার উচেছদ করার ব্যবস্থা নিব। যেভাবে ফলের দোকান বসেছে,তাতে যাত্রী যাতায়তের বিঘœ সৃষ্টি হয়ে কাটা পড়ার সম্বাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে চট্রগ্রাম রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী -১ মো: রফিকুল ইসলাম বলেন,রেলওয়ের নিয়ন মোতাবেক রেলওয়ের কোন জায়গা প্রয়োজন না হলে তা”ও রেললাইন থেকে ২০/৩০ ফুট দূরে হলে সে জায়গা নিতিমালা মোতাবেক লীজ দেওয়া যেতে পারে। রেল-লাইনের কাছে কোন লিজ দেওয়ার বিধান নেই। চাঁদপুরের বিষয়টি দেখার জন্য আমাদের দায়িত্বরত ব্যক্তি রয়েছে,তার সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
