বিদেশে যাওয়ার জন্য ডিজিটাল পাসপোর্ট করতে গিয়ে বাড়ি ফিরে আসার পথে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ঘাতক ট্রাক অকালে কেড়ে নিলো সদ্য প্রবাস ফেরৎ দু সন্তানের জনক রিপন হোসেনের (৩৬) প্রাণ। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়কের ধানুয়া এলাকায়। রিপনকে বহনকারী সিএনজি স্কুটারটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই রিপন নিহত হন। এছাড়া এ ঘটনায় আরো অন্তত ৪জন মারাত্মক আহত হয়েছে। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনার পরপর ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ঘাতক ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ড-১১-৩৯০৬) ও সিএনজি স্কুটারটি (চাঁদপুর-থ ১১-৬৩২১) আটক এবং নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। পরে অবশ্য উভয় পক্ষ আত্মীয়স্বজন হওয়ায় এবং মামলা না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ময়না তদন্ত ছাড়াই রিপনের লাশ দাফনের জন্য বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা গেছে, ফরিদগঞ্জ উপজেলার উত্তর চরবড়ালী গ্রামের মানিক খানের ছেলে রিপন হোসেন খান গত ৩ দিন পূর্বে ২৮ মার্চ কাতার থেকে দেশে আসেন। ইচ্ছা ছিলো আবার প্রবাসে পাড়ি দেয়ার। তাই পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ডিজিটাল পাসপোর্ট করতে বা পুরানোটি নবায়ন করতে গতকাল মঙ্গলবার সকালে চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসে যান। কাজ শেষে দুপুরে একটি সিএনজি স্কুটারে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু ধানুয়া এলাকায় আসলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক রিপনকে বহনকারী সিএনজি স্কুটারটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই রিপন নিহত হন। জীবিত না হলেও রিপন বাড়ি ফিরলেন লাশ হয়ে, প্রবাসে যেতে না পারলেও চলে গেলেন না ফেরার দেশে। দুর্ঘটনার সময় সিএনজি স্কুটারে থাকা আরো ৪জন যাত্রী মারাত্মক আহত হয়। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। রিপনের স্ত্রীর নাম খাদিজা আক্তার রিনা এবং তার দু সন্তান রিতি (৪) ও এশা (১)। ৭ ভাই-বোনের মধ্যে রিপন ছিলেন ৬ষ্ঠ। তিনি চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবুল কাশেম কন্ট্রাক্টরের চাচাতো ভাই।

