বিশেষ প্রতিনিধি চাঁদপুরে ভূমি ব্যবস্থাপনায় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহন শাখার সার্ভেয়ার মোঃ আব্দুর রহিম। যিনি গত এক বছর ধরে চাঁদপুরে ভূমি ম্যাপ তৈরি করন, ভূমি সার্ভেয়ার করনসহ ভূমি ব্যবস্থাপনায় সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অনেক ভুমি জটিলতার সমাধান হয়েছে। চাকরির বাহিরেও তিনি প্রতিমাসে মানুষের ভূমির কঠিন সমস্যার সমাধান করেছেন বলে জানা গেছে। তার কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতায় তিনি ইতিমধ্যে চাঁদপুরের ভুমি জরিপে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। চাঁদপুরের এই সুনামধন্য সার্ভেয়ার আব্দুর রহিমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে জেলার যেসকল ভূমির জটিলতা রয়েছে, সেগুলোকে সঠিক সার্ভেয়ারের মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থানায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার , ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১০ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জানাযায়, ২০০১ সালে তিনি সর্বপ্রথম চাঁদপুর সদর সেটেলমেন্ট অফিসে যোগদান করেন। তারপর ২০০২ সাল থেকে তিনি চাঁদপুর থেকে বদলী হয়ে ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া জেলার ব্রাঞ্ছারামপুরসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। একজন সুদক্ষ্য ও অভিজ্ঞ সার্ভেয়ার হিসেবে বিভিন্নস্থানে দায়িত্ব পালন করার পর সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহন শাখায় সার্ভেয়ার হিসেবে চাঁদপুরে পুনরায় যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি চাঁদপুর মতলব উত্তর উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার একরের অর্থ নৈতিক অঞ্চল হাইটেক পার্ক এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে প্রায় ২০ হাজার একরের প্রাথমিক ম্যাপ তৈরি করেন।
চাঁদপুরবাসীর ভূমি সেবার জন্য গত ৬ মে থেকে ১২ মে পর্যন্ত চাঁদপুরে ভূমি সেবা সপ্তাহ শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে ৬ মে সকালে এক বর্ণাঢ্য র্যালী বের করা হয় এবং র্যালী শেষে আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খানের সার্বিক তত্বাবধানে ভূমি সেবা সপ্তাহের কর্মসূচিতেও আব্দুর রহিম অনেক কাজ করে চলেছেন।
সার্ভেয়ারের ক্ষেত্রে তিনি অনেক প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেছেন। এমনকি প্রশিক্ষক হিসেবেও অনেক দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে আব্দুর রহিম বি সি এস ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন ও সিএলএমএস প্রজেক্টসহ বিভিন্নস্থানে ভুমির উপর উচ্চতর গুরত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করেন। ভূমির উপর তিনি যেসব উচ্চতর প্রশিক্ষন গ্রহন করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রশিক্ষন হলো, ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষন, কম্পিউটার ও ডিজিটাল ভূমি জরিপসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষন গ্রহন করেন।
সার্ভেয়ার মোঃ আব্দুর রহিম জানান, দেখা যায় আদালতে যেসব মামলা মোকাদ্দমা হয়, তার মধ্যে বেশির ভাগ মামলাই হচ্ছে জায়গা-জমিন সংক্রান্ত মামলা। আর এসব মামলার কারনে সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর একদিকে যেমন প্রচুর অর্থ ব্যয় করে অন্যদিকে মামলার জন্য দৌড়াতে গিয়ে অনেক হয়রানি হতে হয়। আমি চাঁদপুরে যোগদান করার পর থেকে সঠিক সার্ভেযারের মাধ্যমে ভূমির অনেক জটিল সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি। চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মাসুদ হোসেন স্যারের সাথেও কাজ করতে আমার সুভাগ্য হয়েছে। ভূমি সেবার ক্ষেত্রে আমি কতুটুক সফলতা অর্জন করতে পেরেছি তা তিনিও বলতে পারবেন। আব্দুর রহিম আরো জানান, চাকুরির বাহিরেও আমার মাধ্যমে অনেকের ভূমির সমস্যা সমাধান হয়েছে। তাই ভুমি সেবার ক্ষেত্রে আমি চাই আমার সততা এবং নিষ্ঠার সাথে চাঁদপুরের মানুষদেরকে সঠিক ভূমি সেবা দেয়া। যাতে করে ভূমি জটিলতায় মানুষের দুর্ভোগ কমে আসে।
সার্ভেয়ার আব্দুর রহিম ১৯৭৩ সালের ৩ মে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা মৃত মোঃ আমিনুল হক, মাতা ফাতেমা বেগম। ৪ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে তিনিই মেঝো।
এ ব্যাপারে গত ৫ মে কথা হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মাসুদ হোসেন তিনি সার্ভেয়ার আব্দুর রহিমের কর্মকান্ডের ওপর মতামত প্রকাশ করে বলেন, আসলেই উনি অনেক ভালো কাজ করেন। তিনি একজন করমুঠো লোক। বিশেষ করে ডিজিটাল ভূমি জরিপে অনেক অভিজ্ঞ। চাঁদপুর মতলব উত্তর উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার একরের অর্থ নৈতিক অঞ্চল হাইটেক পার্ক এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে প্রায় ২০ হাজার একরের প্রাথমিক নকশার ব্যাপারে তার ওপরই ভরসা ছিলো এবং তিনিই সে নকশা তৈরি করেছেন। হাইমচর উপজেলায়ও একই ভাবে আব্দুর রহিম কাজ করেন। তিনি কাজের প্রতি খুবই আন্তরিক।
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
