চাঁদপুর শহরে নিরবে চলছে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি। এ চাঁদাবাজির কথা যানবাহন পরিদর্শক নিজেও জানেনা। তাদের টার্গেট পিকাপ, সিএনজি ও বহিরাগত গাড়ি।
প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষ হলেই চাঁদপুর ট্রাফিক বিভাগের কতিপয় কয়েক সদস্য লুঙ্গি, জামা, পায়ে সেন্ডেল পরে চলে যায় চৌধুরী মসজিদের সামনে। সেখান থেকে তারা পালবাজার ২নং গেইট পর্যন্ত বিচরন করতে থাকে। এ সময় ক্ষুদ্র তরকারি ব্যবসায়ীরা তাদের নিজস্ব এলাকায় বিক্রির জন্য পালবাজার থেকে তরকারি পাইকারি দামে কিনে সিএনজি স্কুটার, অটোরিক্সা ইত্যাদি পরিবহনযোগে নিজ এলাকায় নেয়ার জন্য গাড়িতে তুললে সিভিল পোষাকে থাকা ট্রাফিক সদস্যরা তারই গতিরোধ করে। ওই সময় ৫০ টাকা থেকে ২শ’ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে থাকে। ট্রাফিক পুলিশকে টাকা দিতে দেরী হলে কিংবা অপরাগতা প্রকাশ করলে ওই সিএনজি স্কুটার চালককে ভয়ভীতি দেখানো হয় মামলা দেয়া হবে বলে। তখন তারা বাধ্য হয়ে মামলার হাত থেকে বাঁচতে ট্রাফিক পুলিশকে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে থাকে।
গতকাল ২০ এপ্রিল রোববার সকাল সোয়া ৯টা। শহরের ব্যস্ততম এলাকা কালীবাড়ি কোর্ট স্টেশন রেললাইনের সামনে শপথ চত্বর মোড়ে কর্মরত এক ট্রাফিক কনস্টেবল পন্যবাহী একটি পিকাপ ট্রাককে সঙ্কেত দিয়ে থামায়। তখন ওই ট্রাফিক কনস্টেবল পিকাপ চালককে জানালা দিয়ে কি যেন বলতে থাকে। এ সময় ট্রাফিকের এক হাবিলদারও দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। ওই ট্রাফিক পুলিশ পিকাপ চালক তার দাবিকৃত টাকা হাতে গুজে দিয়ে মানে মানে কেটে পরেন। ট্রাফিকের চাঁদাবাজির এ দৃশ্যটি দূর থেকে এক সাংবাদিকের ক্যামেরা ধরা পরে। চালকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ট্রাফিক কনস্টেবল ও হাবিলদার দু’জনেই চলে যান। শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কে সকাল থেকে যেন সিএনজি স্কুটার স্ট্যান্ডে পরিণত হয়। আর ট্রাফিক পুলিশ এসব সিএনজি স্কুটার থেকে প্রতিদিনের বাট্টা নিয়ে থাকেন বলে একটি সূত্র থেকে জানা যায়। তারা আরো জানায়, এই স্থানে যেসব সিএনজি স্কুটার থাকে তা থেকে ট্রাফিক পুলিশ ট াকা আদায় করে থাকে। যারা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে সেই সব গাড়ী এখানে থামতে ও দাঁড়াতে দেয়না। ১০/২০ টাকা হাতে গুজে দিলে আর ধাওয়া খেতে হয়না চালকদের। সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, চাঁদপুর শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে ট্রাফিক পুলিশ চাঁদাবাজি করে থাকে। শহরের ছায়াবানী মোড়, বাসস্টেশন, চেয়ারম্যান ঘাট, ওয়ারল্যাছ মোড়ে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি করা হয়। সকাল থেকে ট্রাফিক পুলিশরা বাসস্টেশনে ও ওয়ারল্যাছ মোড়ে যেন কল পেতে বসে। এই দু’টি স্থানে অপরিচিত গাড়ী বেশি আসা যাওয়া করে। যার জন্য এখানেই ট্রাফিক পুলিশরা বেশি বিচরণ করে। একের পর এক এহেন কর্মকাণ্ডের কারণে চাঁদপুর জেলা পুলিশের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে।
শিরোনাম:
শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
