
রফিকু ইসলাম বাবু ॥
চাঁদপুর শহরের ছায়াবানী এলাকা থেকে ঔষধ ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান খানের মুখে নেশা জাতীয় রোমাল চাপা দিয়ে ৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে আন্ত:জেলা প্রতারক চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে রাত শহরের ব্রীজ সংলগ্ন পালবাজার গেইট থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এ সময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে সৌদি আরবের মুদ্রা ৪শ’ রিয়াল উদ্ধার করে। প্রতারক চক্রের সদস্যরা হচ্ছে: নওগাঁও জেলার মান্দা থানার গোপালপুর গ্রামের অকিল উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রশিদ (৫৭), গোপালগঞ্জ জেলার মোরশেদপুর থানার চরসিয়ামুর গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে ফারুক মিয়া (৪৫) ও একই জেলার মোরশেদপুর থানার লোহাহর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে মো. কাইয়ুম (৩৫)। প্রতারণার শিকার আব্দুর রহমান খান সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের নানুপুর গ্রামের খান বাড়ীর মৃত আব্দুল মজিদ খানের ছেলে। বাড়ীর সামনে দীর্ঘদিন তিনি ঔষধের ব্যবসা (ফার্মেসী) করে আসছেন। ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান খান বলেন, চলতি মাসের ১৯ তারিখ বিকেলে তিনি বাড়ীর সামনে ছাগলকে ঘাস খাওয়াচ্ছিলেন। এ সময় প্রতারক চক্রের উল্লেখিত সদস্যরা রহমানকে বলেন, চাচা আমরা দূর থেকে এসেছি আমাদের কাছে কোন টাকা নেই ১শ’ রিয়াল আছে, এটা রেখে আমাদেরকে টাকা দিতে পারবেন। বিপদ মনে করে তিনি তাদেরকে প্রথমে ১শ’ টাকা দেন। তারা বাকী টাকা পরদিন এসে নিবেন বলে চলে যায়। তারা এর মধ্যে আর না এসে (রবিবার) ২৩ জুলাই সকালে এসে রিয়ালের বিনিময়ে বাকী ১৯শ’ টাকা এসে নিয়ে যান। তিনি আরো বলেন, এরপর আবার পুনরায় ২৪ জুলাই সোমবার সকালে আসেন ১২শ’ রিয়াল এর ভাঙিয়ে টাকা নেয়ার জন্য। ব্যবসায়ী রহমান তাদেরকে বলে আপনারা ব্যাংকে গিয়ে টাকা নেন। তারা না গিয়ে তার বাড়ীতেই বসেন। কয়েকদিনের কথা-বার্তা প্রতারকদের সাথে ব্যবসায়ীর কিছুটা সম্পর্ক গড়ে উঠে। সকাল ১০টার দিকে ব্যবসায়ী রহমান তার ইট ভাটায় রাখা ইট বিক্রির ৪ লাখ টাকা ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড চাঁদপুর শাখায় জমা দেয়ার জন্য শহরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সাথে প্রতারক চক্রের সদস্যরা শহরে আসেন। ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার পূর্বে শহরের ছায়াবানী সিনেমা হলের সামনে চায়ের দোকানে বসলে প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাকে মুখে নেশা জাতীয় রোমাল চাপা দেন। এ সময় ব্যবসায়ী রহমান অচেতন হয়ে পড়লে তারা যে ব্যাগে ৪লাখ টাকা ছিলো ঠিক একই ধরনের একটি ব্যাগ রেখে চলে যায়। তিনি জ্ঞান ফিরলে তাদেরক শহরের বিভিন্ন স্থানে খুজে না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান এবং বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদেরকে জানান। ব্যবসায়ী রহমানের ছেলে মো. আলাউদ্দিন খান বলেন, সে প্রতারক চক্রের সদস্যদেরকে বাড়ীতে পিতার সাথে কথা বলতে দেখেছেন। গত কয়েকদিন শহরে বিভিন্ন স্থানে খুঁজেন। হঠাৎ শনিবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের পালবাজার গেইট এলাকায় তাদেরকে কাপড়ের দোকানে তোয়ালিয়া ক্রয় করতে দেখে আটক করেন। এ সময় মানুষ জড়ো হয়। পরে চাঁদপুর মডেল থানায় সংবাদ দিলে উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রহলাদ রায় তাদের ৩জনকে আটক করেন।
চাঁদপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিপ্লব নাথ বলেন, আটকের পর প্রতারক চক্রের সদস্যরা ৪ লাখ টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা শহরের পুরাণ বাজার ৫নম্বর ঘাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় অভিনব কায়দায় তারা মানুষের টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিতেন। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। রবিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
