
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট: চাঁদপুর জেলা শহরের হাটে-বাজারে, বিভিন্ন বিপনী বিতানে, শহরতলীর অধিকাংশ বাজারে ও বিভিন্ন স্থানে অতিমাত্রায় ফরমালিনযুক্ত ও ভেজাল ফলে বাজার সয়লাব হয়েছে বলে ভোক্তা ও ক্রেতাদের কাছ থেকে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকরা বলছে, এধরণের ভেজাল ফল খেয়ে শিশুদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ও বিপন্ন হওয়ার আশংকা দেখা দিতে পারে।
এ ফল খেয়ে চাঁদপুরের একজন সংবাদ কর্মী মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে দুইদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এমনি অবস্থায় চাঁদপুর জেলার অসংখ্য শিশু ও শতশত সাধারন মানুষের জীবন রক্ষায় ও রক্ষাকল্পে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিদ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন এখন সময়ের দাবী হয়ে উঠেছে।
চাঁদপুরের ক্রেতা সাধারনের অভিযোগের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদক চাঁদপুরের বিভিন্ন হাট-বাজারে সরজমিনে ঘুরে দেখতে পান আপেল, বিভিন্ন প্রকার আপেল, সাদা আংগুর, কালো আংগুর, লাল আংগুর, নেশপতি, সবুজ আপেল, মালটা, কেনু, কমলা, চাষের পেয়ারা, পেপে, থাইপেপে, বিভিন্ন প্রকার কলাসহ অন্যান্য ফল দোকানীরা দোকানে সাজিয়ে রেখে বিক্রি করছে।
এ সব ফল দেখা যায়, ১০-১৫ দিন জুলিয়ে রাখা হলেও কোন প্রকার কালার নস্ট বা ফলে পচন ধরছেনা। এতে প্রতিয়মান হচ্ছে, যে এ ফলে মাত্রাতিরিক্ত ফরমালিন ব্যবহার করা হয়েছে। যার কারনে ফলে কোন প্রকার পচন হয়নি।
ক্রেতারা জানান, বাজার থেকে ক্রেতারা এ সব ফল ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে ৪-৫দিন রাখলেও কোন প্রকার ফল নস্ট হতে দেখা যায়নি। অনেক সময় দেখা যায়,বিভিন্ন ফলের উপর দিয়ে পুরোদমে চকচকে এবং ভাল, কিন্তু ভিতরে পচে গেছে। ফল কাটার পর ভিতরে এ অবস্থা পরিলক্ষিত হচেছ।
চাঁদপুর শহরের পালবাজার,ব্রীজ এলাকায়, নতুনবাজার, পুরানবাজার, বিপনীবাগ, বাসস্ট্যান্ড, কালীবাড়ি, কোট স্টেশন এলাকাসহ বিভিন্নস্থানে শত শত দোকানের দোকানীরা বিভিন্ন প্রকার ফল সাজিয়ে রাখতে দেখা যায়। এ সব ফল ক্রয় করতেও দেখা যায় শত শত ক্রেতাদের। তারা বুঝে না বুঝে এ ফল ক্রয় করছে বলে ক্রেতারা জানান। এ ফল ক্রেতারা ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে আদরের শিশু ও কিশোরদের নিয়ে খাওয়ার পর দেখা দেয় শরীরে নানা প্রতিক্রিয়া। এ সব ফল খাওয়ার পর মাথা ব্যাথা, পেট ব্যাথা, বুক মারাত্মক ভাবে জ¦লা, হাত-পা’জিমিয়ে আসা, মুখে জ¦াজেরমত অনুভূূতি ও পাতলা পায়খানা হয়ে শরীর নিজতেজ হয়ে পড়ে। আবার দেখা যায় মূখ শুকিয়ে শরীর নিজতেজ হয়ে মৃত্যু মূখে পতিত হওয়ার উপক্রম দেখা দেয়।
ফরমালিন যুক্ত ফল খেয়ে চাঁদপুরের সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ শওকত আলীর যে অবস্থার সৃস্টি হয় তা’ নিয়ে তিনি জানান, চাঁদপুর শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকার রেলওয়ে গেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক প্রকার ফল ক্রয় করি। পরে সে ফলের মধ্য থেকে একটি বড় সাইজের কালো আংগুর স্বাবিক পানি দিয়ে পরিস্কার করে ধুয়ে চিবিয়ে খাই। তার পর থেকে আমার মূখে ঔষদের গন্ধ অনুভব হয়ে মূখ জাজে জ¦লে যাচিছল এবং শরীরে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়ে তিনি মারাত্বক অসুস্থ্য হয়ে পড়ে ২দিন একজন চিকিৎকের পরামর্শে চিকিৎসা নিয়ে এখন কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ ছাড়া তার বাসার অন্য শিশু ও কিশোররা গরম পানিতে কালো আংগুর অনেক সময় ভিজিয়ে রেখে খাওয়াতে তাদের তেমন কোন সমস্যা হয়নি। এ ব্যাপারে শওকতআলী অভিযোগ করে বলেন,জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিস্ট দায়িত্ব প্রাপ্ত সংস্থার পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করে ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য তিনি জোর দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্ব প্রাপ্ত আরএমও ডাক্তার আসিব হাসান চৌধূরী আসিব বলেন, ফলে ফরমালিন দেওয়া অবশ্যই কো ভাবেই ঠিক না। ফলে ফরমালিন দেওয়া ক্ষতিকারক। এ ব্যাপারে পুস্টি সংস্থার পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। ফরমালিন শিশু এবং বৃদ্ধদের বেশী ক্ষতি করে। বর্তমান এ সময়ে খাদ্যে বা ফলে ফরমালিন দেওয়া মোটেও ঠিকনা। এ ব্যাপারে পুস্টি সংস্থার জানা রয়েছে, কি পরিমান ফরমালিন দেওয়া প্রয়োজন ফলে। বেশী পরিমান ফরমালিন ব্যবহারে নিশ্চয় প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের ভেজাল বিরোধী সংস্থার পক্ষ থেকে বেশী বেশী করে অভিযান পরিচালনা করা হলে এর প্রতিরোধ হবে এবং অভিযান বর্তমান এ সময়ে অবশ্যই বেশী প্রয়োজন।
চাঁদপুরনিউজ/এমএমএ/
