
শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥
চাঁদপর শহরের সেন্ট্রাল হাসপাতালের পিছনে খান ভিলার ৩য় তলায় কাজের মেয়ে খাবারের সাথে চেতনানাশক ঔষধ মিশিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী ও তার ২ সন্তানকে অচেতন করে সর্বস্ব লুট করার চেষ্টা করেছে। এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ কাজের মেয়ে জেসমিন (১৮) ও মূল পরিকল্পনাকারী বীথি (২০) কে আটক করেছে।
জানা যায়, সেন্ট্রাল হাসপাতালের পিছনে ইলিয়াছ খানের খান ভিলার ৩য় তলার স্পেন প্রবাসী শাহালম বেপারী বাসা ভাড়া নিয়ে তার ২ সন্তান ও স্ত্রীকে রেখে বিদেশ চলে যায়। প্রবাসীর বাসায় হাজিগঞ্জে মজিবুর রহমানের মেয়ে জেসমিন দীর্ঘ ৬ বছর যাবত বাসায় কাজ করে আসছে। কাজের মেয়ে জেসমিন গত কয়েকমাস পূর্বে কল্যানদী গ্রামে গাজি বাড়ির বাচ্চু গাজির মেয়ে বীথির সাথে পরিচয় হয়। প্রবাসীর বাসা থেকে স্বর্নলঙ্কার টাকা পয়সা লুট করার জন্য বীথি ও জেসমিন পরিকল্পনা করে। শনিবার দুপুরে বীথির কথা মতো তার দেওয়া চেতনানাশক ঔষধ জেসমিন রাতে তরকারীর সাথে মিশিয়ে দেয়। পরিকল্পনা ছিলো প্রবাসীর স্ত্রী ও তার ২ সন্তান অচেতন হওয়ার পর মূল হোতা বীথি ও তার সহযোগী কয়েকজন মলম পার্টির সদস্য রাতে বাসায় প্রবেশ করে স্বর্নালঙ্কার লুট করে নিয়ে যাবে। কিন্তু শনিবার রাতে ভুল বসত জেসমিনের দেওয়া চেতনানাশক ঔষধ মিশানো তরকারী নিজে খেয়ে নিজে অচেতন হয়ে পরে। সেই তরকারী খেয়ে প্রবাসীর স্ত্রী লাকি আলম (৩০) তার মেয়ে সুজানা আলম প্রীতি (১৫) ও ফাইজা আলম (১২) অচেতন হয়ে গত রবিবার রাতে জ্ঞান ফিরলে কাজের মেয়ে জেসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সে বীথির কথা মতো তরকারীর সাথে চেতনানাশক ঔষধ মিশিয়েছে বলে স্বিকার করে। মূল ঘটনা জানতে পেরে ভাড়াটিয়া আখি আলম ও বাড়ির মালিক ইলিয়াছ খান চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে মডেল থানার এসআই অনুপ রবিবার রাত আড়াইটায় কাজের মেয়ে জেসমিনকে আটক করে। জেসমিনের কথামতো মূল হোতা জেসমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তবে এর ঘটনায় প্রবাসীর কোন মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে কয়েকমাস পূর্বে শহরের ওয়ারল্যাছ মোড়ে ফ্ল্যাট বাসায় বৃদ্ধ ও বৃদ্ধাকে অচেতন করে সর্বস্ব লুটের ঘটনা ঘটে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঢাকা থেকে চোর সহ মালামাল জব্দ করে।
