সংবাদদাতা ॥
চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন এলাকা থেকে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে এসে তিন যুবককে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অপহরন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার দুপুর ২ টায় শহরের ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে। অপহরনের ২৮ ঘন্টা পর ১ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা, ৩টি মোবাইল সেটের বিনিময়ে শনিবার বিকেল ৬ টায় অপহরকারীরা অপহৃতা ৩ যুবককে ছেড়ে দেয় বলে তাদের বন্ধু সুজন (২২) জানিয়েছেন। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর মডেল থানার এসআই মোঃ ফিরোজ আলম। এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ও অপহৃতারা জানান, নদীর পশ্চিম পাড়ের শরীয়তপুর থেকে ৫৬ জন বন্ধু যুবক গতকাল শুক্রবার চাঁদপুর আশে বড় স্টেশন মেঘনা, ডাকাতিয়া ও পর্যটন কেন্দ্র মোলহেডে ঘুরতে। দুপুর ২ টার দিকে ২ বন্ধু মেহেদী (২২) ও নাজমুল (২৩) নদী পাড়ে নিজেদের ছবি তুলতে থাকে মোবাইল দিয়ে। এসময় ১৫/১৬ জনের একটি অপহরনকারী ও ছিনতাইকারী চক্র মেহেদী ও নাজমুলকে মেয়েদের ছবি তুলছে কেন বলে। তারা এধরনের প্রতারণা করে ২ যুবকের মোবাইল সেট ছিনিয়ে নিয়ে যায়। যুবকরা মোবাইল সেটের জন্য তাদের পিছু পিছু গেলে চক্রটি তাদের ঘটনাস্থল থেকে একটু দুরে আটক করে। এসময় তাদের অপর বন্ধু সুজন (২২) এগিয়ে আসলে, তাকেও আটক করে চক্রটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। ৫৬ জন বন্ধুর মধ্যে ৩ জন অপহরন হওয়ায় অপর বন্ধুরা ডাকাতিয়া নদীতে রাতভর তাদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। গতকাল শনিবার ২ লক্ষ টাকার মুক্তিপনের দর কসাকসির পর মেহেদী ও নাজমুলকে আটকে রেখে, সুজনকে অপর অপহরন চক্রের সদস্যের একজন সাথে দিয়ে টাকার জন্য পাঠায়। সকল বন্ধুরা মিলে ১ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা ও তিনটি দামি মোবাইল সেট দেওয়ার পর, মোবাইলের নির্দেষ পর পর আটক ২ বন্ধু মেহেদী ও নাজমুলকে ছেড়ে দেয় চক্রটি। চাঁদপুর মডেল থানায় এ ঘটনার আলোকে অভিযোগ হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে আটক করতে পারেনি। এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল এসআই ফিরোজ আলম জানান, ঘটনা শুনার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ছিনতাইকারী চক্র পুলিশ যাওয়ার পূর্বেই টাকা ও মোবাইলসেট নিয়ে উধাও হয়ে যায়। আটকের চেষ্টা চলছে। ছিনতাইকারী চক্রের সন্ধান ও দুইটি নাম পাওয়া গেছে। এদের বাড়ি শহরের কাঁচ্চা কলোনী এলাকায়। এদেরকে আটক করতে পারলে ছিনতাই চক্রের সদস্যদের আটক করা সম্ভব হবে।

