
রফিকুল ইসলাম বাবু॥
চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর বালিয়া গ্রামে সম্পত্তিগত বিরোধে সফিক গাজী (২৫) নামে যুবককে পিটিয়ে হত্যার দায়ে ৫জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং প্রত্যেককে আসামীকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে আদালত। বুধবার বেলা ২টায় চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ মো. সালেহ উদ্দিন আহমদ এই রায় দেন।
নিহত যুবক সফিক গাজী সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাঘুনাথপুর গ্রামের খোকন গাজীর ছেলে। সে পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছেন: রঘনুথাপুর গ্রামের পাশ্ববর্তী উত্তর বালিয়া গ্রামের কলিমুল্লাহ মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন মিজি (৪৮), নুর হোসেন মিজির ছেলে মজিবুর হোসেন মিজি (৪২) ও নাজির মিজি (৩৫), বাবুল মিজি (৩২) মজিদ মিজি (৪০)। এদের মধ্যে নাজির মিজি পলাতক রয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানাযায়, ২০১১ সালের ২৩ ডিসেম্বর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টায় উত্তর বালিয়া গ্রামে ফরিদ খোকনের বাড়ীতে তার চাচা ইয়াকবু ও একই বাড়ীর দেলোয়ার মিজির সাথে সম্পত্তিগত বিরোধে জগড়া ও মারামারি সৃষ্টি হয়। এ সময় নিহত সফিক গাজী তাদেরকে থামাতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে রক্তাক্ত জখম হয়। তাৎক্ষনিক তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে পর দিন ২৪ ডিসেম্বর সফিকের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় সফিকের চাচাত ভাই ফরিদ আহম্মেদ বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বাতেন ভুঁইয়া তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২৮ এপ্রিল আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
সরকার পক্ষের আইনজীবী (পিপি) আমান উল্লাহ জানান, আদালত দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছরে ১৩ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহন করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে উল্লেখিত আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ৩০২/৩৪ দন্ড বিধিতে এই রায় দেন। বাকী ৬ আসামী শাহ নেওয়াজ মিজি, বিল্লাল মিজি, মপু মিজি, সালাহউদ্দিন মিজি, হাসান মিজি ও নাছিমা বেগম এর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় আদালত তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
সরকার পক্ষের (এপিপি) ছিলেন অ্যাড. মোক্তার হোসেন অভি। আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন কাজী হাবীবুর রহমান ও সেলিম আকবর।
