শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥
চাঁদপুর-চট্রগ্রামের মধ্যে চলাচলকারী আন্তঃ নগর মেঘনা এক্্রপ্রেসের টিকেট দিনের বেলাই কালোবাজারি হাতে চলে যায়। যার ফলে দক্ষীনাঞ্চলীয় শত শত যাত্রী নাম্বার বিহীন টিকেট নিয়ে চরম দূভোগের শিকারের মধ্যে পড়ে। চাঁদপুর বড় স্টেশন বুকিং কাউন্টারে প্রতিটি টিকেট দ্বিগুন মূল্যে ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে যাত্রীরা। গত শুক্র ও শনিবার দুই দিন ১৮টি ট্রেনের বর্গির ছাদের উপর খোলা আকাশের নিচে জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রায় দুই সহ¯্রাধিক যাত্রী জীবনবাজি রেখে চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে সকাল ৫টা ২০ মিনিটে। রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনী ,আনচার বেটেলিয়ান সদস্য ও রেলওয়ে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের নিদ্দেশ্যে চাঁদপুর ঈদ উপলক্ষে আসা কর্মকর্তরা তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন না করায় ,এক দিকে টিকেট কালোবাজারি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনির সামনে রেলওয়ের কর্মচারিরা প্রকাশ্যে কাউন্টারের বাইরে টিকেট বেশি মূল্যে বিক্রী করে অর্থ হতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। টিকেট বিক্রীকালে স্থানীয় সাংবাদিকরা তা ক্যামেরা বন্ধি করে। এ সময় কালোবাজারে টিকেট বিক্রীকালে ঐ কর্মচারী
গনধোলাইয়ের শিকার হয়। যাত্রীদের অভিযোগ রাতে দেরি করে টিকেট কাউন্টার খোলার ফলে দক্ষিনাঞ্চলীয় যাত্রীরা কষ্ট শিকার করে লঞ্চ যোগে নৌ টারর্মিনালে নেমে ,সেখান থেকে চাঁদপুর স্টেশনে এসে তাড়াহুরো করে টিকেট ক্রয় করতে গেলে দায়িত্বরত বুকিং সহকারী মোহম্মদ শাহাজাহান এইচ বিএ ও আবদুর সালাম যাত্রীদের নিকট থেকে টিকেটের মূল্য দ্বিগুন হাতিয়ে নেয়। যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে লাঞ্চিত হতে হয়। এসময় কয়েকজন যাত্রীর সাথে আপালকালে তারা জানায়, টিকেটের দাম বেশি নেওয়ায় টিকেট ফেরত দিতে গিয়ে নিরাপত্তা ইনচার্য যাত্রী মোঃ রাশেলকে টিকেট রেখে কাউন্টারের বাহির থেকে তাড়িয়ে দেয়। টিকেট নং সিডিআর ০০০৮৩০৮৯ হতে সিডিআর ০০০৮৩০৯১ তিনটি টিকেটের বিপরীতে তার কাছ থেকে ৪৫০ টাকার স্থলে ৯০০ টাকা রেখেছে বলে মোঃ রাশেল জানিয়েছেন। তার মধ্যে আবার টিকেটের আসন নাম্বার ছিলো না। অপর যাত্রী রিপন জানায় সে টিকেট কাউন্টার থেকে সিডিআর ০০০৮৩০৮৮, ০০০৮৩১১৬,০০০৮৩০৮৭ তিনটি টিকেট ক্রয় করেছে ১হাজার টাকায়। এভাবে অসংখ্য যাত্রীর কাছ থেকে দেড়শ টাকার টিকেট ৩০০ টাকা বিক্রী করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বুকিং সহকারিরা। এছাড়া কালোবাজারে প্রতিটি টিকেট ৪০০/৫০০ টাকায় ক্রয় করেছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করে জানায়।
ট্রেনের ছাদের উপরে বিনা টিকেটে ২সহ¯্রাধীক যাত্রী ভ্রমন করায় সরকার লক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহীনি যাত্রীদের ছাদে উঠার সময় বাধাঁ সৃস্টি করেনি বলে তারা যানায়। এ ব্যাপারে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জানান, যাতীদের ছাদ থেকে নামাতে গেলে দূঘটনা ঘটতে পারে। যার জন্য তাদেরকে ছাদ থেকে নামানো হচ্ছে না । তবে ঐ কর্মকতা স্বিকার করেন ছাদের উপর থাকা যাত্রীরা সবাই বিনা টিকেটে। সরজমিনে বড়স্টেশনে শনিবার ভোরে গিয়ে যাত্রীদের সাথে ও ঐ এলাকার ব্যাবসায়ীদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঈদের পূর্বে ও পরে সাগরিকা মেইল ট্রেন ও আন্তঃনগর মেঘনা ছাড়ও ৪টি ঈদ স্পেশাল ট্রেন এ পথে দেওয়া হয়। বিশেষ করে দক্ষিনাঞ্চলের যাত্রীদের সুবিধার্থে। ঈদের পর থেকে দক্ষিনাঞ্চলীয় যাত্রীরা নাম্বার বিহীন টিকেট ক্রয় করে যাচ্ছে। গত ২৭ সেপ্টম্বর থেকে ট্রেনের টিকেট যাত্রীদের দেওয়ার পূর্বে কালোবাজারে বিক্রী করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্র ও শনিবার মেঘনা আন্তনগর ট্রেনের টিকেট বিকেল থেকে কালোবাজারে বিক্রী করে দেয়। বুকিং সহকারি ক্লার্করা। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় দক্ষিনাঞ্চলিয় যাত্রীরা লঞ্চ যোগে চাঁদপুর নৌ র্টারমিনালে এসে পৌছে। তার পর রেলওয়ে স্টেশনে বুকিংকাউন্টরে লাইনে দাড়িয়ে নাম্বার বিহীন টিকেট ক্রয় করতে হয় ,দ্বিগুন টাকা দিয়ে। কোন আসনের জন্য উত্তেজিত হলে তাকে ৪/৫টি টিকেটের বিপরীতে ২/১টি আসন(নাম্বার লাগানো) আসন থাকা টিকেট দেওয়া হয়। রেলওয়ে চট্রগ্রাম বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের সামনে এ ধরনের টিকেট কেলেঙ্কারির কথা বলেও কোন প্রতিকার পায়নি যাত্রীরা। নিরাপত্তা বাহিনী, রেলওয়ে পুলিশ,আনছার বেটেলিয়ানের সদস্য ও আইন নিয়ন্তন কারী অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃংখলার নামে যাত্রীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ধাক্কা ধাক্কি ও লাঠিপেটা দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। এছাড়া টিকেট কাউন্টারের বাহিরে প্রতিটি টিকেট কালোবাজারে ৪/৫শ’ শুরু করে ৬শ’ টাকা বিক্রী করে বলে অসংখ্যা যাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে আসনবিহীন টিকেট বিক্রী করার কারনে ১৮টি ট্রেনের বগির ছাদের উপর বসে বিনা টিকেটে প্রায় ২শহ¯্রাধীক যাত্রী ঝুকির মধ্যে চাঁদপুর থেকে চট্রগ্রাম যেতে বাধ্য হচ্ছে। আর কালোবাজারে টিকেট বিক্রী করা চক্র যাত্রীদের জিম্মী করে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাত্রী হয়রানি করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে স্টেশন মাস্টার মোহম্মদ হোসেন মজুমদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। কালোবাজারীদের আটক করার চেস্টা চলছে। বুকিং কাউন্টরে সরকার নিধারিত ভাড়া নেওয়ার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে। বুকিং সহকারীদের বিরুদ্ধে লিখিত কোন অভিযোগ কেউ করেনি। অভিযোগ হলেই ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

