
স্টাপ রিপোর্টার : হাড় কাঁপানো শীতে কাবু গোটা দেশ। প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে শীতের তীব্রতা। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুরা হিমবাহিত রোগ সর্দি, জ্বর, কাঁশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশী। বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল গুলোতে এ রোগীর সংখ্যাই এখন সবচেয়ে বেশী।
বিশেষ করে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসাপাতালে এমন রোগীর সংখ্যা এখন সর্বাধীক। ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য বয়স্ক ও শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে সবচেয়ে বেশী রোগী আছে শিশু ওয়ার্ডে। সেই সব শিশুর প্রায় সকলেই সর্দি, জ্বর, কাঁশি, ও খিচুনি রোগে আক্রান্ত।
২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার পর্যন্ত এ ওয়ার্ডে শিশু রোগীর সংখ্যা হলো ১শ’ ১৫ জন। আর পুরুষ ওয়ার্ডে এমন রোগী আছেন ৪৫ জন। এসব রোগীর সংখ্যা অতিরিক্ত হওয়ার কারনে ও স্থান সঙ্কুলানের জন্য বহু রোগীর ঠায় হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায়। বর্তমানে এ হাসপাতালের তিন তলায় পুরুষ ও শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারনের জায়গা নেই। আর এতো রোগীর সেবার বিপরীতে ডাক্তার ও নার্সদের সংখ্যা নেহাতই অপ্রতুল। ফলে এতো রোগীর সেবা দিতে ডাক্তার ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কথা হয় দেড় বছরের শিশু রোগীর মা মমতাজ বেগমের সাথে। ছেলেকে কি সমস্যার কারনে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন? উনি খুব চিন্তিত গলায় বললেন যে ভাই ঠান্ডার কারনে ছেলের প্রচন্ড শ্বাস কষ্ট হচ্ছে তাই এখানে এনেছি। কিন্তু খুব ভয় হচ্ছে কারন, এখনতো আবার দেশে করোনাও আছে। যদি ছেলের ঠান্ডা থেকে করোনা হয়ে যায়।
রোগীর সাথে আসা এক অভিভাবক বলেন, ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে যদি ১৬০ জন রোগীই হয় সর্দি, জ্বর, কাঁশির রোগী, তবে শীতের তীব্রতা কতটা প্রকোট, আর শীত জনিত রোগের প্রকোপ কতটা বেশি তা এ হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি দেখলেই বোঝা যায়।
এ বিষয়ে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, গত কয়েকদিন শীতের তিব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পূর্বের চাইতে বর্তমানে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুন বেড়ে গেছে। এদের মধ্যে শিশুদের ক্ষেত্রে অধিকাংশরই শ্বাস জনিত ও নিমোনিয়ায় ভর্তি হচ্ছে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে শ্বাস কষ্ট ও পূর্বে যাদের শ্বাস কষ্ট ছিলো বর্তমানে তাদের শ্বাস কষ্ট আরো বেড়ে গেছে। এই রোগগুলির কারনেই হাসপাতালে বর্তমানে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে।
চাঁদপুর নিউজ/এমএমএ/
