শওকত আলী ঃ
চাঁদপুরে প্রান্তিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠি বিগত ২শ’ থেকে আড়াইশ’ বছর যাবত চাঁদপুর শহরের ৩টি নির্ধারিত স্থানে ও জেলার বিভিন্ন স্থানে বসবাস করে যাচ্ছে। তারা এ দেশের মানুষের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করার জন্য ভারত বর্ষের মাদরাজ প্রদেশ থেকে এ দেশে এসেছে বলে তাদের পূর্ব পুরুষরা তাদেরকে জানিয়েছে বলে তারা জানান। তারা এদেশের মানুষের কল্যানে কাজ করলেও বৈষম্যের শিকার হয়ে যাচ্ছে। শুরু থেকে এসব জানান প্রান্তিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির মানুষগুলো। তারা এদেশে সর্বক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হলেও সহৃ করে যাচ্ছে বলে তারা জানান। এসব বৈষম্যের শিকার হয়ে তারা তাদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা অর্জন করার পরও বৈষম্য থেকে রেহাই পাচ্ছেনা। এ দেশের মুসলিম ও হিন্দু সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ তাদেরকে ভিন্ন চোখে দেখে বলে তারা উপলব্দি করে জানান। এসব বৈষম্যের পথ থেকে তারা নিস্কৃতি পাওয়ার পথ খুজে পচ্ছেনা।
তারা জানান, তাদের সন্তানরা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেও বৈষম্যের কারনে মর্যাদাপূর্ণ চাকুরী বা কর্ম পাচ্ছে না। শিক্ষা অর্জন করে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ তাদের করতে হচ্ছে।
চাঁদপুর শহরের প্রান্তিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির নেতা ও ৩টি কলোনির লোকদের সাথে ব্যাপক ভাবে চলমান বৈষম্য নিয়ে আলোচনাকালে জানা যায়, চাঁদপুরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির লোকেরা এদেশের সকল সম্প্রাদায়ের কাছেই বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে পূর্ব থেকেই। পূর্বে বেশি ছিলো, তবে এখন একটু কমেছে। যেমন এদেরকে পূর্বে হোটেল রেস্তোরায় এ হরিজন জনগোষ্ঠির লোকদের ডুকতেও দিতো না। কিন্তু বর্তমানে ডুকতে দিলেও তাদের জন্য ভিন্ন গ্লাস, প্লেট ও চায়ের কাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। এরা পরিবেশের দিক থেকেও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এদের জন্য সরকারি বা বেসরকারি ভাবে এদের বাসউপযোগী কোন বাসস্থানের ব্যবস্থা করছে না। এরা পানি, মানসম্মত টয়লেট ব্যাবহার থেকে বঞ্চিত। নোংড়া, শ্বেতশেতে টয়লেট ব্যবহার করা হচ্ছে। নারী পুরুষ একই টয়লেটে লাইন ধরে যেতে হয়, যা অমানবিক। হরিজন কলোনিতে পানি না থাকায়, মহিলারা অন্যত্রে গিয়ে পানি আনতে গেলে এদেরকে পানি দেওয়া হয় না। সকলে পানি নেওয়ার পর বৈষম্যের কারনে এদের পরে পানি দেওয়া হয়। পূর্বে ছৌঁয়াছুয়ি ছিলো। এদের শরীরের সাথে কেউ স্পর্শ করতো না, এখন কিছুটা কমেছে। স্থানীয় পৌর সভার কাছে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার। পৌরসভা বেতন কাঠামো মত এদের বেতন দিচ্ছে না। মাসিক এদেরকে বেতন দেওয়া হয় ৯শ’ টাকা। আর বিদ্যুৎ বিল বাবত এদের দিতে হয় ১ হাজার থেকে ১৪শ’ টাকা পর্যন্ত। বিদ্যুতের মিটার পৌর মেয়রের নামে, কিন্তু বিল দিতে হয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠির লোকদের। এদের বৈষম্য নিরশনে স্থানীয় ও সরকারি ভাবে কোন উদ্যোগ নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এদের জন্য যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা স্থানীয় বা সরকারি ভাবে কার্যকর নেই। প্রান্তিক জনগোষ্ঠির সমস্যা সমাধানে স্থানীয় ভাবে সরকারি ও রাজনৈতীক ভাবে জনপ্রতিনিধিরা কেউ তা নিরশনে ভূমিকা রাখছেনা। দিন যাচ্ছে বছর যাচ্ছে হরিজন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠি তাদের সমস্যা নিয়েই বেঁচে থাকতে হচ্ছে। তারা বৈষম্যের ভেড়াজালেই থেকে যাচ্ছে। চাঁদপুরের পরিবেশগত কারনে এ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারনেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠি বৈষম্যের মধ্যে বিরাজমান থাকছে বলে হরিজনরা জানান। এদের কথা কেউ না শুনার কারনে বৈষম্য দূর হচ্ছে না, বরং সমস্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাঁদপুরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির শিশু কিশোররা শিশুকাল থেকে বৈষম্যের শিকার হয়ে সঠিক ভাবে চিকিৎসা না পেয়ে পুষ্টিহীনতার মধ্যে জীবন কাটাতে হচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠির সন্তানরা বৈষম্যগত কারনে লেখা পড়া, স্বাস্থ্য ও মানসিক দিক থেকে এরা ভালো নেই বলে জানা গেছে।
প্রান্তিকরা জানায়, এরা স্বাধীন ভাবে চলাচলে বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে। এ থেকে পরিত্রান পেতে এদের কলোনিতে সুষ্ঠ পরিবেশের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই এরা পরিবেশগত বৈষম্য থেকে রক্ষা পাবে এবং এদের আগামী প্রজন্ম সঠিক ভাবে গড়ে উঠবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠি এদেশে আড়াইশ বছর যাবত বসবাস করলেও তারা জমির মালিক হতে পারছে না। তাদের জীবন ভূমিহীনদের মতো। তারপরও তারা সরকারি আশ্রায়ন প্রকল্পে একটি বাসস্থানও পাচ্ছে না বলে জানান।
প্রান্তিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির নেতারা বলেন, আমরাও বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে চাই। আমরাওতো সবার মতো মানুষ। আমাদেরকেও সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেছেন। শুধু আমাদের ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন। এদেশের নাগরিক হিসেবে বৈষম্য থেকে তারা মুক্তি পেতে চায়। পাঠক এ বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখুন।
চাঁদপুর রেলওয়ে হরিজন কলোনির শ্রী শ্রী মহাবীর রাধা কৃষ্ণ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক বিধান চন্দ্র দাস (জনি) হরিজন জানান, প্রান্তিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠি বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে, বর্তমান বাজার ধর বিবেচনা করতে গেলে দেখাযায় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সাহিত্য সাশিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রাজস্ব ও মাষ্টার রুলের মাধ্যমে বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে সুবিধা পেয়ে থাকে। কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠি চাঁদপুরে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রথম শ্রেণীর পৌর সভায় মাসিক ৯শ’টাকা হারে ঝাড়–দারের চাকুরী করে। ন্যায্য পাওনা থেকে আগেও বঞ্চিত হতো বর্তমানেও বঞ্চিত হচ্ছে। বৈষম্যের ক্ষেত্রে হরিজনদের বাসস্থান অন্যদের তুলনায় সমাজের নির্মম অবস্থায় রয়েছে। চাঁদপুরে প্রান্তিক হরিজন জনগোষ্ঠি সরকারি জায়গায় প্রায় আড়াইশ’ বছর যাবত বসবাস করেও এ জায়গার মালিক হতে পারেনি। তাদের জীবন ভূমিহীনদের মতো। দেশের মৌলিক চাহিদার মধ্যে যে কয়টি চাহিদা রয়েছে, তার মধ্যে একটিও সঠিক ভাবে প্রান্তিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠি পাচ্ছে না। বৈষম্য সম্পর্কে বলতে গেলে আজও হরিজন প্রান্তিক জনগোষ্ঠি সমাজের বৃত্তবান জনগোষ্ঠির কাছে ঘৃণ্যমান অবস্থায় রয়েছে। ঐতিহাসি প্রেক্ষপট বলতে গেলে ইতিহাস স্বাক্ষ্য আছে যে, ৭১ সালে প্রত্যেকটি হরিজন জীবনের ঝুঁকি নিয়েও এ সমাজের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। বহুক্ষেত্রে বহু সরকার ভোটের সময় বিভিন্ন আসার প্রদীপ জ্বালিয়েও এখনও তাদের পাশে এসে সঠিক ভাবে দাড়ায়নি। বৈষম্য নিরশনে স্থানীয় উদ্দ্যোগের ক্ষেত্রে চাঁদপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠি বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে বৈষম্য নিরশনের চেস্টা করে আসছে। কিন্তু আজও সমাধান খুজে পায়নি।
তিনি আরো জানান, বর্তমান এ সরকারের কাছে তাদের অনেক চাওয়া পাওয়া আছে এবং এ আমলেই বিভিন্ন বৈষম্য থেকে নিরশন ঘটবে বলে চাঁদপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠি আশাবাদী। আমরা সংখ্যায় কম হওয়ায় আমাদের কথা কেহ শুনেনা বা আমাদেরকে যে ভাবে সঠিক চাহিদা অনুযায়ী অধিকার পাওয়ার কথা তা পাচ্ছি না। রাষ্ট্রীয় যে ৫টি মৌলিক অধিকার আমাদের রয়েছে সঠিক ভাবে তা দিয়ে আমাদের মূল্যায়ন করা হয় না। অন্য সম্প্রদায় যা পাচ্ছে আমরা তা পাচ্ছিনা। এ বৈষম্য থেকে বাঁচার জন্য সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে গিয়েও এর প্রকৃত সমাধান পায়না প্রান্তিক জনগোষ্ঠি। বৈষম্য নিরসনে সরকারি বেসরকারি কোন সংস্থ্যাই উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখি না।
পুরান বাজার হরিজন যুব ক্লাবের সভাপতি শ্যামল দাস হরিজন জানান, আমাদের পুরান বাজারে বৈষম্যগত বিষয়টা অনেক বেশী। এখানকার মানুষেরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে ভিন্ন চোখে দেখে। আগে হোটেল রেস্তোরায় এ সম্প্রদায়কে ডুকতে দিতো না, বর্তমানে পূর্বের চাইতে এর কিছুটা ভিন্নতা এসেছে। তবে বৈষম্য রয়েই গেছে। পরিবেশের দিক থেকে প্রান্তিকরা বৈষম্যে শিকার হচ্ছে, এদের বাসস্থান, পানি, মানসম্মত টয়লেট নেই। নারী পুরুষ একই সাথে লাইন ধরে টয়লেটে যেতে হয়। যে টয়লেট ব্যবহার করা হয় তাও ব্যবহারের অনুপযোগী। এ করুন অবস্থায় দিন কাটতে হয় প্রান্তিকদের। পুরান বাজার হরিজন কলোনিতে বিশুদ্ধ পানি নেই। পানি আনতে হয় অন্যস্থান থেকে। এ পানি আনতে গিয়েও বৈষম্যের শিকার হতে হয়। আগে পুরান বাজারে ছৌঁয়াছুঁয়ির বিষয়টা অনেক বেশি ছিলো। প্রান্তিক জনগোষ্ঠি কাউকে স্পর্শ করতে পারতো না, এখন তা কিছুটা কমেছে। বেশি বৈষম্যে শিকার হচ্ছে পৌর সভার কাছে। এ পৌরসভার কাছে সমস্যার কথা বা পানির কথা বলতে গেলে বিভিন্ন সমস্যায় পরতে হয়। বর্তমান আধুনিকতার যুগেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠি এখনো বৈষম্যে শিকার হয়ে আসছে। তারা বেতন কাঠামো বলতে গেলে বেতন পায় ৯শ’ টাকা। বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় ১ হাজার থেকে ১৪শ’ টাকা। তবে মিটার পৌর সভার মেয়রের নামে। এ বৈষম্য নিরশনে স্থানীয় বা সরকারি ভাবে কোন উদ্যোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর যে পদক্ষেপ রয়েছে তা স্থানীয় বা সরকারি কোন কার্যক্রম নেই। স্থানীয় সরকার ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যে সমস্য রয়েছে প্রান্তিকদের নিয়ে তা নিরসনে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কোন ভূমিকা গ্রহন করতে দেখা যায় না। আমরা আমাদের সমস্যা নিয়েই থাকতে হচ্ছে। এখানকার পরিবেশ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারনে বৈষম্য বিরাজ মান থাকছে। আমাদের কথা কেউ না শুনার কারনে বৈষম্য লাঘবে কেহ এগিয়ে আসছেনা। যার ফলে আমরা বৈষম্যের শিকারের মধ্যে থেকে যাচ্ছি। আমাদের প্রান্তিক সংখ্যালঘু হরিজনদের নিয়ে কেহ কোন দিন সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসছে না। যার ফলে সমস্যা সামধানতো হচ্ছে না বরং তা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে বা লাঘবে সরকারের এগিয়ে আসা প্রায়োজন। আমাদের এখানকার মানুষেরা শিশু কাল থেকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শিশু কিশোররা অপুষ্টিহীনতার কারনে বেড়ে উঠছে না। পরিবেশের কারনে লেখা পড়া স্বাস্থ্য ও মানুষের দিক থেকে এরা ভালো নেই। এ প্রভাবের কারনে হরিজনরা তাদের স্বাধীন ভাবে চলাচলে বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে। এ থেকে পরিত্রান পেতে আমাদের এখানে সুষ্ঠ পরিবেশের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। তাহলে পরিবেশগত বৈষম্য থেকে রক্ষা পাবো এবং আগামী প্রজন্ম ভালো ভাবে গড়ে উঠবে। তখনই বৈষম্য দুরীবুত হবে।
হরিজন সমাজ উন্নয়ন সংস্থ্যার চাঁদপুর জেলার সভাপতি আকাশ দাস হরিজন জানান, চাঁদপুরে অফিস আদালতের কাজে প্রান্তিক জনগোষ্ঠি বৈষম্যে শিকার হচ্ছে। এছাড়া স্কুল কলেজ ও হোটেল রেষ্টেুরেন্টেও বৈষম্যে শিকার হয়ে আসছে। প্রান্তিকরা স্কুল কলেজে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যে শিকার হচ্ছে। তারা ভালো মানের পরীক্ষা দিলেও তাদের ফলাফল ভালো দেওয়া হচ্ছে না। উচ্চ পর্যায়ের চাকুরী পেতে ইন্টারভিউ দিলে তাদেরকে ইন্টাভিউতে টিকানো হচ্ছে না। এখানেও তারা বৈষম্যে শিকার হচ্ছে। তাদেরকে ইন্টাভিউ ভোর্ডে বিভিন্ন বিভ্রান্তি মূলক প্রশ্ন করে বিভ্রান্তিতে ফেলে চাকুরী থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষিত যুবকরা পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে যে যখন আবেদন করে তখন শিক্ষিত লোকদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ দেওয়া হয়। এতেই বৈষম্য ও ভেদাভেদের সৃষ্টি হয় আমাদের মধ্যে। স্কুল কলেজে প্রান্তিক জনগোষ্ঠিদের জন্য কোঠা থাকলেও তাদেরকে ভর্তির আবেদন করলে কোঠা নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। প্রান্তিক হরিজনের সন্তানরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ভালো পরীক্ষা দিলেও বৈষম্যগত কারনে তারা বৃত্তি পায়না। এখানেও উচু নিচু জাত মনে করে এ ধরনে বৈষম্যের সৃষ্টি করা হয়। সরকার যদিও বৈষম্য নিরশনে কাজ করে যাচ্ছে তারপরেও আমাদেরকে নিচু জাত হিসেবে বৈষম্যে শিকার হতে হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিচু জাত হিসেবে অবহেলা করা হয়। দাবী দাওয়া নিয়ে গেলে তারা মূল্যায়ন করে না। শিক্ষার ভেদাভেদ বাদ দিয়ে আমাদেরকে সঠিক স্থানে মূল্যায়িত করলে বৈষম্য নিরশন হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরা মেনে নিতে চাচ্ছে না। তারা মনে করে তাদের আত্মমূল্যায়ন কমে যাবে। এ জন্য প্রান্তিকদের সুযোগ দেওয়া হয় না। আমাদের সমাজের বিভিন্ন সভা সমিতির অনুষ্ঠানে এ সম্প্রদায়কে নিয়ে বৈষম্যের নিরশনের কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে কার্য্যক্ষেত্রে তা করা হয় না। প্রান্তিক সংখ্যালঘু হরিজনদের শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা সঠিক কর্ম না পেয়ে হতাশায় ভোগছে। তাদের জীবনকে হাতাশায় বাঁধা গ্রস্থ করে অন্যদিকে ধাবিত করে ঠেলে দিচ্ছে।
