
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ চাঁদপুর দি-ইউনাইটেড হাসপাতাল এন্ড ডায়াগণস্টিক সেন্টারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় ২জনকে বিবাদী করে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় হাসপাতালের পরিচালক সুলতানা আক্তার সেতু অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭জুন সন্ধ্যায় হাসাপাতালের পরিচালকগণ নিচ তলায় মাসিক সভা চলাবস্থায় ১নং বিবাদী হাসপতালের সাবেক চেয়ারম্যান বাদীর স্বামী এস.এম. শাহ আলম রবিন ও রবিনের বন্ধু ২নং বিবাদী চাঁদপুর মেডিকেল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুন খানের যোগ সাজসে ৩০-৪০ জন সন্ত্রাস প্রকৃতির লোকজন নিয়ে এসে অতর্কিত হামলা চালায় এবং বাদীকে মারধর করে ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে। বিষয়টি চাঁদপুর মডেল থানাকে অবহিত করলে, থানা পুলিশ তাৎক্ষনি ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পরবর্তীতে গত ৮জুন সুলতানা আক্তার সেতু চাঁদপুর সদর মডেল থনায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। হামলাকরীরা হাসপাতালে ঢুকেই অসৎ উদ্দেশ্যে সু-কৌশলে সিসি ক্যামারার মনিটর ও ক্যাসেট সরিয়ে ফেলে। পরিস্থিতি শান্ত হলে ১ ও ২নং বিবাদী পুনরায় আরো ৮/১০ জন লোক নিয়ে ওই দিনই রাত সাড়ে ৮টার দিকে এসে বাদীর উপর ১নং বিবাদী হামলা চালায় এবং ব্যাপক মারধর করে হাসপাতালের ক্যাশ থেকে ১লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা লুট করে এবং ল্যাপটপ ও হাসপাতালের বিভিন্ন কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়। ২নং বিবাদী ফার্মেসীর ক্যাশ থেকে ৫৫ হাজার টাকা জোড় পূর্বক নিয়ে যায়। বাদীর অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় হাসপাতালের স্টাফ মেহেদী হাসান মিদুল সহ স্বজনরা তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করেন।
বাদী আরো অভিযোগে উল্লেখ করেন, ১নং বিবাদী আমার স্বামী রবিন দির্ঘদিন চাঁদপুর দি-ইউনাইটেড হাসপাতাল এন্ড ডায়াগণস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্বে থাকাবস্থায় বিভিন্ন মেশিন পত্র ক্রয় করার নামে অনেক টাকা হাতিয়ে নেয় এবং হাসপাতালে কর্মরত মহিলা ম্যানেজার ও একাধিক নার্স এবং বিভিন্ন রোগীর সুন্দরী মহিলাদের সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। এসব অপকর্মের বিষয়ে হাসপাতালে একাধিকবার বৈঠক হয় এবং তাকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। কিন্তু ১নং বিবাদী তাতেও ক্ষেন্ত হননি। এসব বিষয়ের জের ধরেই পারিবারিক কলহোর সৃষ্টি হয়। তার এ ধরনের কর্মকান্ডের জন্য হাসপাতালের মালিক পক্ষগণ হাসপাতাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। সেই মোতাবেক ৩২,০০,০০০/- (বত্রিশ লক্ষ) টাকা হাসপাতালের মূল্য নির্ধারন করা হয়। ১নং বিবাদী প্রায় ৮,০০,০০০/- (আট লক্ষ) টাকার মতো দেনা হয়। সেই টাকা না দিয়ে উল্টো ১ম ঘটনা গত ১৬ মার্চ আমি ক্যাশে থাকাবস্থায় আমাকে মারধর করে ১,৩০,০০০/- (এক লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা এবং হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা কিরনের কাছ থেকে ভয়ভিতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩,২৫,০০০/- (তিন লক্ষ পঁশিচ হাজার) টাকা নিয়ে যায়। ২নং বিবাদীকেও গত প্রায় ২ বছর আগে চাঁদপুর দি-ইউনাইটেড হাসপাতাল এন্ড ডায়াগণস্টিক সেন্টারের টাকা পয়সা আত্মসাতের দায়ে হাসপাতাল থেকে তার শেয়ার বাতিল করে তাকে বাদ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে এসএম শাহ আলম রবিনের সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইলে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। থানায় অভিযোগ করার পর বিবাদীগণ ও বিভিন্ন লোকজনদেরকে দিয়ে আমাকে প্রাণ নাশের হুমক প্রদান করেন। বর্তমানে বাদীনি নিরাপত্তা হীনতায় ভোগছেন বলে জানান।
