শাখাওয়াত হোসেন শামীম, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা :
নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির ছোবলে কোটি কোটি টাকার লোকসান গুণতে হচ্ছে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে। অথচ প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তা দুর্নীতির মাধ্যমে টাকার পাহাড় গড়েছেন বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
২০০৪ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দেখা যায়, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মাত্র এক বার লাভের মুখ দেখেছে। আর বাকি বছরগুলোতে লোকসান দেখিয়েছে। আট বছরে লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৪৩ কেটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৭শ’ ৪০ টাকা।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এম এস (সেবা) এজিএম একে আজাদ বলেন, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু আমরা রাষ্ট্রীয় নানা কারণে গ্রাহকদেরকে সংযোগ দিতে পারছি না। সরকার যে মূল্যে আমাদেরকে বিদ্যুৎ দেয় আমরা গ্রাহকদের কাছে আরও কম মূল্যে বিক্রি করি এ ছাড়া আছে অবৈধ সংযোগ। তবে সরকার থেকে ক্রয়কৃত মূল্যে বিদ্যুৎ বিক্রি করলে সমিতির কোনো লোকসান হবে না বলে জানান তিনি।
এ কে আজাদ অভিযোগ করে বলেন, রাষ্ট্রীয় কিছু লোক রয়েছে তারা চায় সমিতি লোকসান দিলে এসব প্রতিষ্ঠানকে তারা ব্যক্তি মালিকানায় নিয়ে যাবে। যার কারণে সকল সমিতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে দীর্ঘ বছর ধরে ঘুষ-বাণিজ্য ও দুর্নীতি অনিয়ম চলে আসছে বলে বহু গ্রাহক ও বিভিন্ন সময় সমিতিতে থাকা পরিচালকরা জানান।
তারা বলেন, এ সমিতিতে যত কর্মকর্তা চাকুরি করছেন তাদের মধ্যে ৮০ ভাগ কর্মকর্তা দুর্নীতি ও অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বর্তমানে অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন তারা দুর্নীতি ছাড়া কিছুই বুঝেন না। তারা গ্রাহকদেরকে সংযোগ দেয়া থেকে শুরু করে প্রত্যেক কাজেই দুর্নীতি করে থাকেন। এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ না হলে এ সমিতি কখনো লাভের মুখ দেখবে না বলে মনে করেন তারা।
গ্রাহক ও সমিতির কয়েকজন কর্মকর্তা বর্তমান পরিচালক মাকসুদ হোসেনের ব্যাপারে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেন। তারা জানান, বর্তমানে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। হাজীগঞ্জ পৌর শহরের আলীগঞ্জে তার কয়েকটি বহুতল বাড়ি রয়েছে। কীভাবে তা সম্ভব হয়েছে তা তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে। সমিতির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এছাড়া লাইনম্যান ও বিল রিডিংম্যানদের বিরুদ্ধে অবৈধ সংযোগ দেয়ার অভিযোগও রয়েছে বিস্তর। অবৈধ সংযোগের কারণে অফ পিকেও বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দেয়।
একাধিক গ্রাহক বলেন, আমরা সরাসরি অফিসে গিয়ে সংযোগের জন্য গেলে আমাদেরকে পাত্তাই দেয় না কর্মকর্তারা। কিন্তু দালালদের মাধ্যমে গেলে কয়েক গুণ বেশী টাকার মধ্যেমে আমাদের সংযোগ দ্রুত দেয়া হয়। সমিতিকে দালাল এমনভাবে ঘিরে ফেলছে, মনে হয় দালালরা অফিস পরিচালনা করেন মন্তব্য করেন তারা। বহু দালাল দালালি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও পল্লী বিদ্যুতের ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান, রিসু বাবুসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে টাকা ছাড়া কোনো কাজ না করার অভিযোগ রয়েছে। এ ক’জনের বিরুদ্ধে পল্লী বিদ্যুতে চাকুরি করে কোটি কোটি টাকার মালিক ও ঢাকাতে কয়েকটি বাড়ি থাকার অভিযোগ রয়েছে।
শিরোনাম:
মঙ্গলবার , ২৬ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
