
রফিকুল ইসলাম বাবু ।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর পাটওয়ারীর পারিবারিক দ্বন্দ্বে চরম হয়রানিতে পড়েছেন খোদ ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম। অথচ ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও থানা ঘেরাও করেছে কিছু মুক্তিযোদ্ধা। একই সাথে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ওসিকে প্রত্যাহার করা না হলে হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তারা ঘোষণা দেন। অথচ প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টম্বর ফরিদগঞ্জ থানায় ছেলে মমিন হোসেন এর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দেয় মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর পাটওয়ারী। ওই অভিযোগ বলা হয় ছেলে মমিন হোসেন তাকে হত্যার হুমকি দেয়। অভিযোগ পেয়ে গত ৩অক্টোবর মমিন হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। হত্যার হুমকির বিষয়টি প্রমাণিত না হওয়ায় বিকেলে স্ত্রী নাজমা বেগম এর জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। তার পরেই মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর ক্ষেপে যান। বিষয়টি ভিন্ন ভাবে বুঝিয়ে অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের একত্রিত করে বুধবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ থানা ঘেরাও করে। চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এ ওয়াদুদ জানান, থানার ওসি ওই মুক্তিযোদ্ধার সাথে ভালো আচরণ করেনি। মুমিন মাদকাসক্ত অথচ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ ব্যাাপারে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম জানান, মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর পাটওয়ারী দুটি সংসার। এ পরিবারে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করছে। তার জেদে তিনি তার ছেলে মমিন হোসেনে বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয় তার কোনো সত্যতা মিলেনি। তাই পুলিশ মমিনকে তার স্ত্রীর জিম্মায় ছেড়ে দেয়। এ কারণেই ক্ষেপে যান মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর। ফরিদগঞ্জ উপজেলা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (সাবেক) আবুল খায়ের পাটওয়ারী জানান, এটা বাপ বেটার ঝগড়া। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে এমন পদক্ষেপ কাম্য হতে পারে না। চাঁদপুরের সহকারি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক ভাবে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। তাদের দাবি পুলিশ সুপার বরাবরে করার পরামর্শ দিলে তারা তাদের থানা ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।
